সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন কাঁধে তীব্র ব্যথা। হাত তুলতে কষ্ট হচ্ছে, জামা পরা, চুল আঁচড়ানো কিংবা উপরের তাক থেকে কিছু নামানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রথমে অনেকেই ভাবেন, হয়তো ভুলভাবে ঘুমানো বা দীর্ঘ সময় একভাবে বসে কাজ করার কারণেই এমন হচ্ছে। কিন্তু ব্যথা যদি দিন দিন বাড়তে থাকে এবং কাঁধের নড়াচড়া কমে যায়, তাহলে এটি সাধারণ ব্যথা নাও হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এটি হতে পারে ফ্রোজেন শোল্ডার বা কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়ার রোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি, বিশেষ করে ঋতুবন্ধের সময় বা তার পরে।
কী এই ফ্রোজেন শোল্ডার?
আমাদের কাঁধের সন্ধির চারপাশে একটি নরম আবরণ থাকে। কোনো কারণে সেখানে প্রদাহ হলে এই আবরণ শক্ত ও মোটা হয়ে যায়। এর ফলে কাঁধের স্বাভাবিক নড়াচড়া ধীরে ধীরে কমে যায়। একসময় হাত তোলা বা ঘোরানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
কীভাবে বাড়ে এই রোগ?
চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ সাধারণত তিনটি ধাপে এগোয়।
প্রথম ধাপ: কাঁধে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। ধীরে ধীরে হাত নাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয় ধাপ: ব্যথা কিছুটা কমলেও কাঁধের শক্তভাব অনেক বেড়ে যায়। হাত প্রায় নাড়ানোই যায় না।
তৃতীয় ধাপ: ধীরে ধীরে কাঁধের জড়তা কমতে শুরু করে। হাতের নড়াচড়া স্বাভাবিক হতে থাকে। পুরোপুরি সুস্থ হতে ১৮ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
নারীদের ঝুঁকি বেশি কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের শরীরে ঋতুবন্ধের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের মাত্রা কমে যায়। এই পরিবর্তনের কারণে কাঁধের সন্ধিতে প্রদাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ৪০ বছরের পর নারীদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়।
কীভাবে কমবে এই সমস্যা?
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক চিকিৎসাই এই রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
কাঁধ সচল রাখতে হালকা ব্যায়াম, হাত ধীরে ধীরে ওপরে তোলা, দেয়ালে হাত চালানো এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী শারীরিক চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
তবে ব্যথা সহ্য করে অতিরিক্ত জোরে ব্যায়াম বা ভারী ওজন তোলা ঠিক নয়। এতে প্রদাহ আরও বেড়ে যেতে পারে এবং সমস্যা জটিল হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ৪০ বছরের পর কাঁধে দীর্ঘদিন ব্যথা, শক্তভাব বা হাত নাড়াতে অসুবিধা হলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আরটিভি/জেএমএ



