ওজন কমাতে অনেকেই ভাত, মিষ্টি বা তেলযুক্ত খাবার কমিয়ে দেন। কিন্তু শুধু কী খাচ্ছেন, সেটিই নয়—কীভাবে খাচ্ছেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধীরে ধীরে এবং মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার খাওয়ার পর পাকস্থলী থেকে মস্তিষ্কে পেট ভরে যাওয়ার সংকেত পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। তাই খুব দ্রুত খেলে মস্তিষ্ক বুঝে ওঠার আগেই অনেক বেশি খাবার খেয়ে ফেলা হয়। ফলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমে ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত ২০ মিনিট বা তার বেশি সময় নিয়ে খেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয়, দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং অকারণে বারবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত খাওয়ার সময় বেশিরভাগ মানুষ খাবার ভালোভাবে চিবান না। এতে বড় বড় খাবারের অংশ পাকস্থলীতে পৌঁছে হজমে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি বাতাস গিলে ফেলার কারণে গ্যাস, পেট ফাঁপা, অম্লভাব ও বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে অতিরিক্ত শর্করা, পেটের চর্বি এবং অস্বাভাবিক কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব কারণে হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, যারা ধীরে ধীরে খান, তাদের শরীরে এমন হরমোন বেশি নিঃসৃত হয়, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি করে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিটি লোকমা ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া উচিত। প্রতিবার খাবার মুখে নেওয়ার পর চামচ বা হাত কিছুক্ষণ নামিয়ে রাখা, ছোট ছোট লোকমা খাওয়া এবং অন্তত আধা ঘণ্টা সময় নিয়ে খাবার শেষ করার চেষ্টা করলে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে।
এছাড়া খাওয়ার সময় মোবাইল, টেলিভিশন বা অন্যদিকে মনোযোগ না দিয়ে শুধু খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে খাবার উপভোগ করার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমাতে শুধু খাবারের ধরন নয়, ধীরে ও সচেতনভাবে খাওয়ার অভ্যাসও হতে পারে সুস্থ থাকার একটি সহজ এবং কার্যকর উপায়।
আরটিভি/জেএমএ




