রাস্তাঘাট, গণপরিবহন কিংবা জনসমাগমস্থলে যৌন হয়রানি এখনও অনেকের জন্য প্রতিদিনের বাস্তবতা। নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকেই দ্রুত হেঁটে চলে যান, চোখের যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন বা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছু পদক্ষেপ নিলে শুধু নিজেকে নয়, অন্যদেরও নিরাপদ রাখতে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসমক্ষে যৌন হয়রানি দীর্ঘদিন ধরে সমাজে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে সচেতনতা, প্রতিবাদ এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব।
যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে যেসব পদক্ষেপ নিতে পারেন:
প্রয়োজনে প্রতিবাদ করুন
পরিস্থিতি নিরাপদ মনে হলে শান্ত ও দৃঢ়ভাবে হয়রানিকারীকে তার আচরণ বন্ধ করতে বলতে পারেন। অশালীন ভাষা ব্যবহার না করে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন, এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
দর্শক হয়ে থাকবেন না
কাউকে হয়রানির শিকার হতে দেখলে নিরাপদ উপায়ে পাশে দাঁড়ান। সরাসরি বাধা দিতে না পারলে অন্যভাবে পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করুন বা ভুক্তভোগীকে সহায়তা করুন।
নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন
বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি, পরিবার বা পরিচিতদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিন। এতে মানসিক চাপ কমার পাশাপাশি অন্যরাও সচেতন হতে পারেন।
অভিযোগ করুন
যদি ঘটনাটি আইনগত অপরাধের মধ্যে পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানান। এতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা হতে পারে।
সচেতনতা তৈরি করুন
নিজের এলাকায় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানিবিরোধী সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আসে।
নিরাপদ পরিবেশের দাবি তুলুন
যেসব স্থানে নিয়মিত হয়রানির ঘটনা ঘটে, সেখানে পর্যাপ্ত আলো, নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানানো যেতে পারে।
সহায়তার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন
স্থানীয় সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী দল বা কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিরাপদ জনপরিসর গড়ে তুলতে কাজ করা যেতে পারে। সম্মিলিত উদ্যোগ হয়রানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌন হয়রানির শিকার হলে নীরব থাকা বাধ্যতামূলক নয়, আবার প্রতিবাদ করাও সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া। মনে রাখতে হবে, যৌন হয়রানির দায় কখনোই ভুক্তভোগীর নয়; দায় সম্পূর্ণভাবে হয়রানিকারীর।
সূত্র: এভরি ডে ফেমিনিজম
আরটিভি/জেএমএ



