ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

দিনের যে ৫ সময়ে সন্তানের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় বাবা-মাকে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১৩ এএম
সব সময় নয়, দিনের কিছু বিশেষ মুহূর্তে পাশে থাকলেই বাড়ে সন্তানের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক নিরাপত্তা ।  ছবি: সংগৃহীত

সন্তানের কাছে বাবা-মা শুধু অভিভাবক নন, তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ও। আনন্দ, ভয়, দুঃখ কিংবা নতুন কোনো অভিজ্ঞতা—সবকিছুই সবার আগে বাবা-মার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায় শিশুরা। তবে দিনের কিছু বিশেষ সময়ে তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় বাবা-মায়ের উপস্থিতি ও সঙ্গ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়গুলোতে কয়েক মিনিট সময় দিলেই শিশুর মনে গড়ে ওঠে নিরাপত্তাবোধ, আত্মবিশ্বাস এবং বাবা-মায়ের প্রতি গভীর আস্থা।

১. ঘুম থেকে ওঠার পর

দিনের শুরুতেই শিশুর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় পরিচিত ও আপনজনের সঙ্গ। ঘুম ভাঙার পর বাবা-মাকে পাশে পেলে শিশু স্বস্তি অনুভব করে।

এ সময় তাকে আদর করা, হাসিমুখে শুভ সকাল বলা কিংবা জিজ্ঞেস করা—ঘুম কেমন হয়েছে?—এমন ছোট ছোট আচরণই শিশুর দিনটি ভালোভাবে শুরু করতে সাহায্য করে।

২. স্কুলে যাওয়ার আগে

স্কুল মানে শুধু পড়াশোনা নয়। সেখানে নতুন বন্ধু, শিক্ষক এবং নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়।

তাই স্কুলে বের হওয়ার আগে সন্তানের সঙ্গে কয়েকটি ইতিবাচক কথা বলুন। যেমন—ভালো করে যেও বা কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলবে। এমন উৎসাহ শিশুর মনে সাহস ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

আরও পড়ুন

৩. স্কুল থেকে ফিরে

স্কুল থেকে ফিরেই শুধু পড়াশোনা বা বাড়ির কাজের খোঁজ না নিয়ে আগে জানতে চান, দিনটি কেমন কেটেছে।

আজ কী ভালো লেগেছে, কোনো সমস্যা হয়েছে কি না বা নতুন কিছু শিখেছে কি না—এসব মন দিয়ে শুনুন। এতে সন্তান বুঝতে শেখে, তার কথা শোনার জন্য বাবা-মা সবসময় প্রস্তুত।

৪. মন খারাপ বা রাগের সময়

শিশুর কান্না, রাগ বা জেদকে সব সময় অবাধ্যতা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। অনেক সময় এর পেছনে ভয়, হতাশা, ক্লান্তি বা অন্য কোনো মানসিক চাপ কাজ করতে পারে।

তাই সঙ্গে সঙ্গে বকা না দিয়ে আগে কারণ বোঝার চেষ্টা করুন। শান্তভাবে কথা বলুন এবং তাকে নিজের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দিন। এতে শিশুর মানসিক বিকাশ আরও ভালো হয়।

৫. ঘুমানোর আগে

দিনের শেষে শিশুর সবচেয়ে বড় চাওয়া বাবা-মায়ের একটু সময়।

ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট গল্প বলা, সারাদিনের কথা শোনা, মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া বা শুধু পাশে বসে থাকাও শিশুর মনে গভীর নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে। এই ছোট ছোট অভ্যাস বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।

সব সময় নয়, প্রয়োজন সঠিক সময়ে পাশে থাকা

বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাক্ষণ সন্তানের সঙ্গে থাকা সম্ভবও নয়, প্রয়োজনও নয়। তবে দিনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু মুহূর্তে আন্তরিকভাবে পাশে থাকাই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।

স্কুল থেকে ফিরেই পড়াশোনার চাপ না দিয়ে আগে তার অনুভূতির কথা শুনুন। আবার রাগ বা কান্নার সময় ধৈর্য ধরে কারণ বোঝার চেষ্টা করুন। আর ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট সময় দিলে শিশুর মানসিক নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাস দুটোই বাড়ে।

মনে রাখবেন

শিশুরা দামি উপহার বা বড় আয়োজনের চেয়ে বাবা-মায়ের সময়, মনোযোগ ও ভালোবাসাকেই বেশি মূল্য দেয়। তাই দিনের এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সন্তানের পাশে থাকুন। এই ছোট ছোট অভ্যাসই তার সুন্দর মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে আজীবনের দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জেনে নিন দীর্ঘদিন সুগন্ধি ভালো রাখার সহজ উপায়
প্রিয় পারফিউমটি কিছুদিন ব্যবহারের পর আগের মতো ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে না এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। এর জন্য সবসময় সুগন্ধির মান বা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায় না।
জেনে নিন দীর্ঘদিন সুগন্ধি ভালো রাখার সহজ উপায়
আজ নুডলস দিবস
আজ ৬ অক্টোবর নুডলস দিবস। প্রতি বছর এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে নুডলস দিবস পালন করা হয়।
আজ নুডলস দিবস
খাবারেই কমাতে পারেন কোলেস্টেরল
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে খাবারের ধরন ও অভ্যাসে পরিবর্তন এনে কোলেস্টেরল কমানো সম্ভব।
খাবারেই কমাতে পারেন কোলেস্টেরল
রোজ এক কাপ চায়ে কমতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি, বলছে গবেষণা
প্রতিদিন অন্তত এক কাপ চা পান করেন এমন মানুষের হৃদস্বাস্থ্যে কিছুটা ভালো প্রভাব দেখা যেতে পারে।
রোজ এক কাপ চায়ে কমতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি, বলছে গবেষণা
লবণ কম খাওয়ার ৬ সহজ কৌশল
প্রতিদিন শরীরের জন্য অল্প পরিমাণ লবণ প্রয়োজন। কারণ লবণে থাকা সোডিয়াম শরীরের বিভিন্ন কাজে ভূমিকা রাখে।
লবণ কম খাওয়ার ৬ সহজ কৌশল
আরও পড়ুন
দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের বাবা হলেন সাইফউদ্দিন
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গণধর্ষণের ঘটনায় সন্তানদের যা শেখাচ্ছেন বাবা-মায়েরা
মহাকাশে বাবা, সন্তানের জন্ম হবে পৃথিবীতে 
সন্তান দেখাশোনায় বছরে ৯ হাজার ডলার সহায়তা, কারা পাবেন