সন্তানের কাছে বাবা-মা শুধু অভিভাবক নন, তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ও। আনন্দ, ভয়, দুঃখ কিংবা নতুন কোনো অভিজ্ঞতা—সবকিছুই সবার আগে বাবা-মার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায় শিশুরা। তবে দিনের কিছু বিশেষ সময়ে তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় বাবা-মায়ের উপস্থিতি ও সঙ্গ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়গুলোতে কয়েক মিনিট সময় দিলেই শিশুর মনে গড়ে ওঠে নিরাপত্তাবোধ, আত্মবিশ্বাস এবং বাবা-মায়ের প্রতি গভীর আস্থা।
১. ঘুম থেকে ওঠার পর
দিনের শুরুতেই শিশুর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় পরিচিত ও আপনজনের সঙ্গ। ঘুম ভাঙার পর বাবা-মাকে পাশে পেলে শিশু স্বস্তি অনুভব করে।
এ সময় তাকে আদর করা, হাসিমুখে শুভ সকাল বলা কিংবা জিজ্ঞেস করা—ঘুম কেমন হয়েছে?—এমন ছোট ছোট আচরণই শিশুর দিনটি ভালোভাবে শুরু করতে সাহায্য করে।
২. স্কুলে যাওয়ার আগে
স্কুল মানে শুধু পড়াশোনা নয়। সেখানে নতুন বন্ধু, শিক্ষক এবং নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়।
তাই স্কুলে বের হওয়ার আগে সন্তানের সঙ্গে কয়েকটি ইতিবাচক কথা বলুন। যেমন—ভালো করে যেও বা কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলবে। এমন উৎসাহ শিশুর মনে সাহস ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
৩. স্কুল থেকে ফিরে
স্কুল থেকে ফিরেই শুধু পড়াশোনা বা বাড়ির কাজের খোঁজ না নিয়ে আগে জানতে চান, দিনটি কেমন কেটেছে।
আজ কী ভালো লেগেছে, কোনো সমস্যা হয়েছে কি না বা নতুন কিছু শিখেছে কি না—এসব মন দিয়ে শুনুন। এতে সন্তান বুঝতে শেখে, তার কথা শোনার জন্য বাবা-মা সবসময় প্রস্তুত।
৪. মন খারাপ বা রাগের সময়
শিশুর কান্না, রাগ বা জেদকে সব সময় অবাধ্যতা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। অনেক সময় এর পেছনে ভয়, হতাশা, ক্লান্তি বা অন্য কোনো মানসিক চাপ কাজ করতে পারে।
তাই সঙ্গে সঙ্গে বকা না দিয়ে আগে কারণ বোঝার চেষ্টা করুন। শান্তভাবে কথা বলুন এবং তাকে নিজের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দিন। এতে শিশুর মানসিক বিকাশ আরও ভালো হয়।
৫. ঘুমানোর আগে
দিনের শেষে শিশুর সবচেয়ে বড় চাওয়া বাবা-মায়ের একটু সময়।
ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট গল্প বলা, সারাদিনের কথা শোনা, মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া বা শুধু পাশে বসে থাকাও শিশুর মনে গভীর নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে। এই ছোট ছোট অভ্যাস বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
সব সময় নয়, প্রয়োজন সঠিক সময়ে পাশে থাকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাক্ষণ সন্তানের সঙ্গে থাকা সম্ভবও নয়, প্রয়োজনও নয়। তবে দিনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু মুহূর্তে আন্তরিকভাবে পাশে থাকাই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।
স্কুল থেকে ফিরেই পড়াশোনার চাপ না দিয়ে আগে তার অনুভূতির কথা শুনুন। আবার রাগ বা কান্নার সময় ধৈর্য ধরে কারণ বোঝার চেষ্টা করুন। আর ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট সময় দিলে শিশুর মানসিক নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাস দুটোই বাড়ে।
মনে রাখবেন
শিশুরা দামি উপহার বা বড় আয়োজনের চেয়ে বাবা-মায়ের সময়, মনোযোগ ও ভালোবাসাকেই বেশি মূল্য দেয়। তাই দিনের এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সন্তানের পাশে থাকুন। এই ছোট ছোট অভ্যাসই তার সুন্দর মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে আজীবনের দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরটিভি/জেএমএ



