সারা দেশে শীত চরমে। দিনে যেমনই হউক ভোর আর সন্ধ্যায় বেশ কনকনে অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কনকনে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে এবং দৈনন্দিন কাজে স্বস্তি পেতে অনেকেই এখন ঝুঁকছেন পানি গরম করার গিজার ও রুম হিটারের দিকে।
বাজারে এখন দেশি-বিদেশি নানা ব্র্যান্ডের গিজার ও হিটারের ছড়াছড়ি। তবে কেনার আগে পরিবারের সদস্য সংখ্যা এবং আপনার প্রয়োজনীয়তা বুঝে সঠিক পণ্যটি বেছে নেওয়া জরুরি।
বাজারে সাধারণত তিন ধরনের গিজার পাওয়া যায়—বিদেশি ব্র্যান্ডের আমদানিকৃত গিজার, দেশি নামী ব্র্যান্ড এবং স্থানীয় নন-ব্র্যান্ডের পণ্য। বর্তমানে ডিজিটাল ও অ্যানালগ দুই ধরনের গিজারই বেশ জনপ্রিয়। ডিজিটাল গিজারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এতে পানির তাপমাত্রা নিজের পছন্দমতো নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে দেশীয় অ্যানালগ গিজারগুলোও পিছিয়ে নেই; এগুলোতে পানি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গরম হলে সিগন্যাল লাইট জ্বলে ওঠে, যা ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে দেয়।
নিউমার্কেটের মতো বড় বাজারগুলোতে ৩০ লিটার থেকে শুরু করে ৬০ লিটার ধারণক্ষমতার গিজার পাওয়া যাচ্ছে। ৩০ লিটারের ছোট গিজারগুলো সাশ্রয়ী হলেও বড় পরিবারের জন্য ৬০ লিটারের গিজার কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ, যার দাম সাধারণত ১৭ হাজার টাকার আশেপাশে হতে পারে।
অনলাইনেও বিভিন্ন ব্র্যান্ডে সাশ্রয়ী মূল্যে গিজার পাওয়া যায়। তবে অনলাইন থেকে কেনার ক্ষেত্রে আগের ক্রেতাদের রিভিউ দেখে নেওয়া এবং ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টির বিষয়টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
শীতের রাতে ঘরকে উষ্ণ রাখতে রুম হিটারের চাহিদাও এখন তুঙ্গে। বায়তুল মোকাররম বা স্টেডিয়াম মার্কেটের মতো জায়গাগুলোতে সব ধরনের বাজেটের রুম হিটার পাওয়া যায়। এক রুমের জন্য সাধারণ মানের হিটার ১ হাজার টাকা থেকে শুরু হলেও একটু ভালো মানের প্রিমিয়াম মডেলগুলো ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
হিটারের কার্যক্ষমতা মূলত নির্ভর করে এর ওয়াটের ওপর। বাজারে সাধারণত দুই হাজার ওয়াট পর্যন্ত সক্ষমতার হিটার দেখা যায়। থার্মোস্ট্যাট প্রযুক্তি সম্পন্ন একটি সাধারণ হিটার ৪৪০ বর্গফুট পর্যন্ত জায়গা উষ্ণ রাখতে সক্ষম। তাই যদি আপনার ফ্ল্যাট বড় হয় বা একাধিক রুম উষ্ণ রাখতে চান, তবে সে অনুযায়ী হিটার সংখ্যা বাড়াতে হবে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে অনেক বিকল্প থাকলেও সরাসরি মার্কেট থেকে কিনলে দামাদামি করে সাশ্রয়ে কেনার সুযোগ থাকে।
সব মিলিয়ে গুণমান যাচাই করে কিনলে এবারের শীত কাটবে নিরাপদ ও আরামদায়ক উষ্ণতায়।
আরটিভি/এএইচ





