শহরের ব্যস্ত জীবনে ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের অনেকেরই শখ থাকে নিজের একটি ছোট বাগানের। কিন্তু জায়গার অভাব আর সঠিক যত্নের অভাবে অনেক সময় সেই শখ অপূর্ণ থেকে যায়।
বিশেষ করে ছোট্ট বারান্দায় গাছ লাগালেও দেখা যায় কিছুদিন পর সেগুলো শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। তবে সামান্য কিছু কৌশল অবলম্বন করলে আপনার বারান্দাটিও হয়ে উঠতে পারে এক টুকরো সতেজ স্বর্গ।
বারান্দায় বাগান করার ক্ষেত্রে প্রথমেই খেয়াল রাখা প্রয়োজন জায়গার ওপর। বারান্দার আয়তন অনুযায়ী টবের সংখ্যা নির্ধারণ করা জরুরি। অতিরিক্ত টব দিয়ে বারান্দা গাদাগাদি করে ফেললে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং চলাচলের জায়গাও কমে যায়।
তাই পরিমিত গাছ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
গাছ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। বারান্দার সৌন্দর্যে বাহারি ফুলের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে পিটুনিয়া, বোগানভলি কিংবা জবার মতো গাছ বেছে নেওয়া যেতে পারে। ফুলের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বাহারি পাতার গাছ রাখা ভালো।
এ ধরনের ইনডোর বা সেমি-ইনডোর গাছগুলো যেমন দেখতে সুন্দর, তেমনি এগুলো খুব অল্প যত্নেও সতেজ থাকে।
অনেকেই বারান্দায় পানি দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। দেখা যায় টবে পানি দেওয়ার পর মাটি মেশানো পানি পুরো বারান্দা নষ্ট করে ফেলছে। এই সমস্যা এড়াতে প্রতিটি টবের নিচে একটি করে প্লাস্টিকের বাটি রাখা যেতে পারে। এতে বাড়তি পানি বাটিতে জমা হবে এবং পরে তা ফেলে দিলে বারান্দা থাকবে একদম পরিষ্কার।
গাছের সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন। টবে বা গাছের গোঁড়ায় শুকনো পাতা জমতে দেওয়া উচিত নয়। শুকনো পাতাগুলো নিয়মিত সরিয়ে ফেললে গাছ রোগমুক্ত থাকে এবং বারান্দার সৌন্দর্যও বজায় থাকে।
এছাড়া যাদের বারান্দায় মেঝেতে জায়গা কম, তারা ঝুলন্ত টব বা ‘হ্যাংগিং বাস্কেট’ ব্যবহার করতে পারেন। কোন গাছগুলো ঝুলে থাকলে বেশি সুন্দর দেখাবে, তা বুঝে নির্বাচন করলে ছোট বারান্দাতেও পাওয়া যাবে বড় বাগানের আমেজ।
সঠিক পরিকল্পনা আর সামান্য যত্নই পারে আপনার ছোট্ট বারান্দাকে এক মনোরম বাগানে রূপান্তর করতে।
আরটিভি/এএইচ





