ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শহুরে জীবনে বারান্দায় এক টুকরো সবুজ বাগান

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি

শহরের ব্যস্ত জীবনে ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের অনেকেরই শখ থাকে নিজের একটি ছোট বাগানের। কিন্তু জায়গার অভাব আর সঠিক যত্নের অভাবে অনেক সময় সেই শখ অপূর্ণ থেকে যায়।

বিশেষ করে ছোট্ট বারান্দায় গাছ লাগালেও দেখা যায় কিছুদিন পর সেগুলো শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। তবে সামান্য কিছু কৌশল অবলম্বন করলে আপনার বারান্দাটিও হয়ে উঠতে পারে এক টুকরো সতেজ স্বর্গ।

বারান্দায় বাগান করার ক্ষেত্রে প্রথমেই খেয়াল রাখা প্রয়োজন জায়গার ওপর। বারান্দার আয়তন অনুযায়ী টবের সংখ্যা নির্ধারণ করা জরুরি। অতিরিক্ত টব দিয়ে বারান্দা গাদাগাদি করে ফেললে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং চলাচলের জায়গাও কমে যায়।

তাই পরিমিত গাছ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

গাছ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। বারান্দার সৌন্দর্যে বাহারি ফুলের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে পিটুনিয়া, বোগানভলি কিংবা জবার মতো গাছ বেছে নেওয়া যেতে পারে। ফুলের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বাহারি পাতার গাছ রাখা ভালো।

এ ধরনের ইনডোর বা সেমি-ইনডোর গাছগুলো যেমন দেখতে সুন্দর, তেমনি এগুলো খুব অল্প যত্নেও সতেজ থাকে।

অনেকেই বারান্দায় পানি দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। দেখা যায় টবে পানি দেওয়ার পর মাটি মেশানো পানি পুরো বারান্দা নষ্ট করে ফেলছে। এই সমস্যা এড়াতে প্রতিটি টবের নিচে একটি করে প্লাস্টিকের বাটি রাখা যেতে পারে। এতে বাড়তি পানি বাটিতে জমা হবে এবং পরে তা ফেলে দিলে বারান্দা থাকবে একদম পরিষ্কার।

আরও পড়ুন

গাছের সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন। টবে বা গাছের গোঁড়ায় শুকনো পাতা জমতে দেওয়া উচিত নয়। শুকনো পাতাগুলো নিয়মিত সরিয়ে ফেললে গাছ রোগমুক্ত থাকে এবং বারান্দার সৌন্দর্যও বজায় থাকে।

এছাড়া যাদের বারান্দায় মেঝেতে জায়গা কম, তারা ঝুলন্ত টব বা ‘হ্যাংগিং বাস্কেট’ ব্যবহার করতে পারেন। কোন গাছগুলো ঝুলে থাকলে বেশি সুন্দর দেখাবে, তা বুঝে নির্বাচন করলে ছোট বারান্দাতেও পাওয়া যাবে বড় বাগানের আমেজ।

সঠিক পরিকল্পনা আর সামান্য যত্নই পারে আপনার ছোট্ট বারান্দাকে এক মনোরম বাগানে রূপান্তর করতে।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভাঙাভাঙি ছাড়াই পুরোনো বাড়ি হবে আধুনিক, জানুন সহজ কৌশল
পুরোনো বাড়িকে আধুনিক করে তুলতে দেওয়াল ভাঙা বা পুরো বাড়ি সংস্কারের প্রয়োজন নেই। নতুন কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করেই পুরোনো বাড়িতে যোগ করা যেতে পারে আধুনিক সুবিধা। পুরোনো বাড়ি কিনে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করছেন? কিংবা বহুদিনের পুরোনো বাড়িটিকেই আধুনিক করে তুলতে চান? এ জন্য সব সময় বড় ধরনের সংস্কার বা ভাঙাভাঙির প্রয়োজন হয় না। দেওয়াল না ভেঙেও এবং পুরোনো বিদ্যুতের তার বা সুইচের ব্যবস্থা পুরোপুরি পরিবর্তন না করেও বাড়িতে যুক্ত করা সম্ভব নতুন প্রযুক্তি। পুরোনো বাড়িগুলো সাধারণত সেই সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছিল। মোটা দেওয়াল, পুরোনো ধরনের বিদ্যুৎ সংযোগ ও সুইচের ব্যবহার ছিল এসব বাড়িতে। তবে বাড়ির মূল কাঠামো ঠিক রেখেই এখন বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা সম্ভব। সুইচ হবে আধুনিক ঘরের পুরোনো সুইচের পেছনে ছোট একটি ডিজিটাল যন্ত্র বসিয়ে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আধুনিক করা যায়। এতে পুরো সুইচ বা ঘরের ভেতরের তার পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। এরপর মুঠোফোন, কণ্ঠের নির্দেশ কিংবা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে আলো, পাখাসহ বিভিন্ন যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বাড়ির নিরাপত্তায় নতুন ব্যবস্থা পুরোনো বাড়িতেও আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা যায়। বাড়িতে না থাকলেও কে এসেছেন, তা মুঠোফোনে দেখা সম্ভব। দরজায় আধুনিক তালা বসালে চাবির বদলে গোপন সংকেত বা হাতের ছাপ ব্যবহার করে দরজা খোলা যাবে। ফলে আলাদা করে চাবি বহনের ঝামেলাও কমবে। আরও পড়ুন ঘণ্টার পর ঘণ্টা টেলিভিশন দেখেন? ডেকে আনছেন ভয়ংকর বিপদ এক যন্ত্রেই নিয়ন্ত্রণে নানা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম অবলোহিত সংকেত পাঠানোর বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে টেলিভিশন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, সংযোগ বাক্স ও সংগীতের যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সাধারণ দূরনিয়ন্ত্রকের মতো কাজ করা এই ব্যবস্থায় মুঠোফোনের মাধ্যমে একসঙ্গে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মোটা দেওয়ালেও মিলবে ভালো ইন্টারনেট সংযোগ পুরোনো বাড়ির মোটা দেওয়ালের কারণে একটি মাত্র যন্ত্র থেকে অনেক সময় বাড়ির সব জায়গায় ইন্টারনেটের সংকেত পৌঁছায় না। এ ক্ষেত্রে একটির বদলে বাড়ির বিভিন্ন স্থানে দুই বা তিনটি ছোট সংযোগযন্ত্র বসানো যায়। এতে পুরো বাড়িতে ইন্টারনেটের সংকেত পৌঁছানো সহজ হয়। পুরোনো বাড়ি আধুনিক করতে সব সময় বড় ধরনের ভাঙাভাঙির প্রয়োজন নেই। বাড়ির পুরোনো কাঠামো ঠিক রেখেই ধাপে ধাপে নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করে বাড়িকে আরও সুবিধাজনক ও আধুনিক করে তোলা সম্ভব।   আরটিভি/জেএমএ 
ভাঙাভাঙি ছাড়াই পুরোনো বাড়ি হবে আধুনিক, জানুন সহজ কৌশল
রোদ নেই, তবু বর্ষায় ম্যাট্রেস শুকনো রাখবেন যেভাবে
বর্ষাকালে জামাকাপড় শুকানো যেমন কঠিন, তেমনি বিছানার তোষক বা ম্যাট্রেসের স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করাও বেশ ঝামেলার। সরাসরি বৃষ্টির পানি না লাগলেও বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও শরীরের ঘামের কারণে ম্যাট্রেসের ভেতরে ধীরে ধীরে জলীয় বাষ্প জমতে পারে। উপর থেকে হাত দিয়ে ম্যাট্রেস শুকনো মনে হলেও ভেতরে জমে থাকা আর্দ্রতা থেকেই স্যাঁতসেঁতে গন্ধ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন অবস্থায় থাকলে ছত্রাকও জন্মাতে পারে। তাই বর্ষায় ম্যাট্রেস শুকনো ও পরিষ্কার রাখতে কিছু সহজ উপায় মেনে চলা জরুরি। ঘরের আর্দ্রতা কমান ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে আর্দ্রতা শোষণকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। দরজা-জানালা বন্ধ করে এটি চালু রাখলে ঘরের অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প শুষে নিতে সাহায্য করবে। এতে ম্যাট্রেসের ভেতরে জমে থাকা আর্দ্রতাও ধীরে ধীরে কমবে। ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিন ম্যাট্রেস হালকা স্যাঁতসেঁতে মনে হলে প্রথমেই চাদর ও বিছানার অন্যান্য কাপড় সরিয়ে ফেলুন। এরপর দ্রুতগতির ফ্যান এমনভাবে রাখুন, যাতে বাতাস পুরো ম্যাট্রেসের ওপর দিয়ে যায়। ম্যাট্রেস পুরোপুরি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত নতুন চাদর না পাতাই ভালো। আরও পড়ুন ছেলেদের ব্রণ কমাতে মেনে চলুন ৫ সহজ নিয়ম পানি পড়লে দ্রুত শুষে নিন ম্যাট্রেসের ওপর পানি বা অন্য কোনো তরল পড়ে গেলে যত দ্রুত সম্ভব তা শুষে নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে তরল শোষণ করতে পারে এমন ভ্যাকুয়াম যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। এরপর ফ্যানের বাতাসে বা আর্দ্রতা শোষণকারী যন্ত্রের সাহায্যে ম্যাট্রেসের অবশিষ্ট আর্দ্রতা শুকিয়ে নিতে হবে। আর্দ্রতা শোষণকারী উপকরণ রাখুন বদ্ধ বা কম বাতাস চলাচল করে এমন ঘরে আর্দ্রতা শোষণকারী উপকরণ রাখা যেতে পারে। ক্যালসিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত আর্দ্রতা শোষণকারী পাত্র খাটের কাছাকাছি বা পাশে রাখা যায়। তবে শিশু ও পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখতে হবে। রোদ উঠলে কাজে লাগান বর্ষার মধ্যে আকাশ পরিষ্কার হয়ে কড়া রোদ উঠলে ম্যাট্রেস এক থেকে দুই ঘণ্টা রোদে দেওয়া যেতে পারে। এতে জমে থাকা আর্দ্রতা কমার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ও ছত্রাকের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করতে পারে। দুর্গন্ধ হলে বেকিং সোডা ম্যাট্রেসে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ তৈরি হলে তার ওপর বেকিং সোডা ছড়িয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে দেওয়া যায়। এরপর ভ্যাকুয়াম যন্ত্র দিয়ে বেকিং সোডা তুলে ফেলে ফ্যানের বাতাসে ম্যাট্রেস শুকিয়ে নিতে হবে। বর্ষায় ব্যবহার করতে পারেন জলরোধী আবরণ বর্ষাকালে ম্যাট্রেসকে ঘাম ও আর্দ্রতা থেকে কিছুটা সুরক্ষিত রাখতে জলরোধী ম্যাট্রেস আবরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি আর্দ্রতা ম্যাট্রেসের ভেতরে ঢুকে পড়া ঠেকাতে সাহায্য করে। বর্ষায় ম্যাট্রেসের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় সেটিকে দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করা। নিয়মিত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং সুযোগ পেলেই রোদে দেওয়া হলে ম্যাট্রেস অনেকটাই শুকনো ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখা সম্ভব। আরটিভি/জেএমএ 
রোদ নেই, তবু বর্ষায় ম্যাট্রেস শুকনো রাখবেন যেভাবে
ডাইনিং টেবিলে দাগ? কাঠের আসবাব পরিষ্কারের সহজ ঘরোয়া কৌশল জানুন
খাওয়ার পর ডাইনিং টেবিলে খাবারের দাগ লেগে থাকা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। অনেক সময় ভিজে কাপড় দিয়ে মুছে নিলেই মনে হয় টেবিল পরিষ্কার হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে এসব দাগ ও জীবাণু পুরোপুরি দূর হয় না। যা ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কাঠের ডাইনিং টেবিলে ভুলভাবে পানি ব্যবহার করলে কাঠের চমক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই সঠিক নিয়মে পরিষ্কার করাই সবচেয়ে জরুরি।  কাচের ডাইনিং টেবিল পরিষ্কার করার উপায় ১. এক কাপ গরম পানিতে সামান্য তরল সাবান ও ভিনেগার মিশিয়ে নিন২. চাইলে অল্প লেবুর রস যোগ করলে দুর্গন্ধ দূর হয়৩. এই মিশ্রণ স্প্রে করে ভিজে কাপড় বা টিস্যু দিয়ে মুছে নিন৪. জেদি দাগ হলে সামান্য বেকিং সোডার পেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে কাঠের ডাইনিং টেবিল পরিষ্কার করার উপায় ১. কাঠের টেবিলে সরাসরি পানি ব্যবহার না করাই ভালো২. সমপরিমাণ সাদা ভিনেগার ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন আরও পড়ুন যত্নের অভাবে মরে যাচ্ছে ইনডোর প্ল্যান্ট? ৩. এই মিশ্রণ হালকা করে টেবিলে লাগিয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন৪. এতে দাগ পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি কাঠের চমকও বজায় থাকে৫. পুরনো বা রং উঠে যাওয়া কাঠের টেবিলে হালকা চায়ের লিকারও ব্যবহার করা যেতে পারে  মার্বেল টেবিল পরিষ্কারের নিয়ম ভিনেগার বা লেবুর মতো অ্যাসিডিক উপাদান ব্যবহার করা যাবে না গরম পানিতে সামান্য তরল সাবান মিশিয়ে টেবিল মুছে নিতে হবে এতে দাগ পরিষ্কার হয় এবং মার্বেলের ক্ষতি হয় না তাই ডাইনিং টেবিল শুধু ভিজে কাপড়ে মুছে ফেললেই যথেষ্ট নয়। উপাদান অনুযায়ী সঠিক পরিষ্কারের নিয়ম মেনে চললে টেবিল থাকে পরিষ্কার, ঝকঝকে এবং জীবাণুমুক্ত। আরটিভি/জেএমএ
ডাইনিং টেবিলে দাগ? কাঠের আসবাব পরিষ্কারের সহজ ঘরোয়া কৌশল জানুন
যত্নের অভাবে মরে যাচ্ছে ইনডোর প্ল্যান্ট?
ফ্ল্যাটবাড়িতে একটু প্রকৃতির ছোঁয়া আনতে অনেকেই ঘরে গাছ রাখেন। যা বেশ জনপ্রিয় ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে। ছোট টবে সাজানো এই গাছ ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়, মনও ভালো রাখে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে, পাতা ঝরে যায় বা হঠাৎ করেই মরে যায়। মূলত সঠিক যত্নের অভাবেই এমনটা ঘটে। গাছের যত্ন মানেই শুধু পানি দেওয়া নয়। নিয়ম মেনে যত্ন নিলে ইনডোর প্ল্যান্ট বা ঘরের গাছও অনেক দিন সবুজ ও সতেজ থাকে।  নিয়মিত পানি দিতে হবে গাছের মাটি একেবারে শুকিয়ে গেলে গাছ দুর্বল হয়ে যায়। আবার অতিরিক্ত পানি দিলেও ক্ষতি হয়। তাই মাটিকে হালকা স্যাঁতসেঁতে রাখতে হবে। মাটির উপরিভাগে যদি পানি জমে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে বেশি পানি দেওয়া হয়েছে। তখন বাড়তি পানি ফেলে দিতে হবে। মাটির অবস্থা বুঝে পানি গাছে পানি দেওয়ার আগে মাটির ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে দেখুন। যদি মাটি স্যাঁতসেঁতে লাগে, তাহলে পানি দেওয়ার দরকার নেই। আর যদি শুকনো মনে হয়, তখনই পানি দিন। খুব ঠান্ডা বা গরম পানি নয় গাছে কখনো খুব ঠান্ডা বা গরম পানি দেওয়া ঠিক নয়। এতে গাছের ক্ষতি হতে পারে। সব সময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করাই ভালো। আরও পড়ুন ঘর সাজাতে সোফা বেছে নিন বুঝে শুনে পর্যাপ্ত আলো প্রয়োজন গাছ এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত আলো আসে। কারণ আলো ছাড়া গাছ খাবার তৈরি করতে পারে না। তবে সরাসরি তীব্র রোদে গাছ রাখা ঠিক নয়। ঘরের এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে নরম আলো পৌঁছায়। বারবার জায়গা বদল নয় অনেকে গাছ বারবার এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরিয়ে নেন। এতে গাছ নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সময় নেয় এবং বৃদ্ধি কমে যায়। তাই খুব প্রয়োজন না হলে গাছের জায়গা পরিবর্তন না করাই ভালো। আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি গাছ ভালো রাখতে ঘরের বাতাসে কিছুটা আর্দ্রতা থাকা দরকার। গাছে মাঝে মাঝে পানি ছিটিয়ে দিতে পারেন। কয়েকটি গাছ একসঙ্গে রাখলেও আর্দ্রতা বজায় থাকে। মাটিতে সঠিক সার ব্যবহার গাছের সুস্থ বৃদ্ধির জন্য মাটিতে প্রয়োজন মতো সার দিতে হবে। তবে টবে যেন পানি বের হওয়ার পথ থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। পাতা পরিষ্কার রাখা গাছের পাতায় ধুলো জমলে গাছ মলিন দেখায় এবং বৃদ্ধি কমে যায়। তাই নরম কাপড় বা ব্রাশ দিয়ে পাতার ধুলো পরিষ্কার করতে হবে। পোকামাকড় দূর করা ঘরের গাছে অনেক সময় ছোট ছোট পোকা আক্রমণ করে। এমন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা কাপড়ে অল্প অ্যালকোহল লাগিয়ে আক্রান্ত পাতায় মুছে দিলেও পোকা কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য যত্ন আর নিয়ম মেনে পরিচর্যা করলে ঘরের গাছ দীর্ঘদিন সবুজ ও সতেজ থাকে। আরটিভি/জেএমএ
যত্নের অভাবে মরে যাচ্ছে ইনডোর প্ল্যান্ট?
ঘর সাজাতে সোফা বেছে নিন বুঝে শুনে
এক সময় সোফা মানেই ছিল শুধু বসার ঘরের আসবাব। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই ধারণা। এখন সোফা শুধু ড্রয়িংরুমেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং শোবার ঘর, বারান্দা এমনকি অফিসের ওয়েটিং রুমেও এর ব্যবহার বেড়েছে। আধুনিক ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে সোফা এখন আর শুধু বসার জায়গা নয়, এটি রুচি ও ব্যক্তিত্বেরও প্রকাশ। দিন শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে একটু আরাম করে বসা, হাতে এক কাপ চা নিয়ে গল্প করা কিংবা প্রিয় অনুষ্ঠান দেখা। এসব মুহূর্তে সোফা যেন হয়ে ওঠে সবচেয়ে আরামদায়ক সঙ্গী। তাই বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় কেমন সোফা ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে কিছু বিষয় জানা থাকলে ঘর সাজানো আরও সহজ হয়ে যায়। সোফার ইতিহাস আজ থেকে প্রায় তিনশ বছর আগে আধুনিক সোফার ব্যবহার শুরু হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর আগে মানুষ সাধারণত বেঞ্চ, কাঠের গুঁড়ি বা বিছানায় বসেই সময় কাটাত। পরে কারিগররা নতুন ধরনের আরামদায়ক বসার আসবাব তৈরি করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেখান থেকেই সোফার প্রচলন বাড়তে থাকে।  সোফা শব্দটির উৎপত্তি আরবি ভাষার একটি শব্দ থেকে, যার অর্থ কুশন বিছানো বসার জায়গা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আসবাবের নকশা, উপকরণ ও ব্যবহারেও এসেছে বড় পরিবর্তন। বসার ঘরের সোফা বাড়ির বসার ঘরেই সাধারণত সোফার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও ঘরের আয়তন অনুযায়ী সোফা নির্বাচন করা উচিত। অনেকেই দুটি দুই আসনের সোফা ও একটি এক আসনের সোফার সমন্বয়ে বসার ঘর সাজান। এতে অতিথি এলে সহজেই সবাই বসার জায়গা পান। ছোট ঘরের জন্য খুব বড় বা ভারী সোফা না নিয়ে তুলনামূলক ছোট ও সরল নকশার সোফা বেছে নেওয়া ভালো। এতে ঘরটি খোলামেলা দেখায়। শোবার ঘরের সোফা এখন অনেকেই শোবার ঘরেও সোফা রাখছেন। সেখানে সাধারণত একটি এক আসনের আরামদায়ক সোফা রাখা হয়। কেউ কেউ আবার খাটের পায়ের দিকে লম্বা বেঞ্চের মতো সোফাও ব্যবহার করেন। এতে ঘরটি আরও পরিপাটি ও সাজানো দেখায়। বারান্দা বা ছাদের সোফা বাড়িতে যদি বারান্দা বা ছাদ থাকে, সেখানে ছোট একটি বসার জায়গা তৈরি করা যেতে পারে। চা বা কফি খাওয়ার সময়টুকু উপভোগ করতে এমন জায়গা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে খোলা জায়গার জন্য কাঠের সোফার বদলে প্লাস্টিক, বেত বা লোহার কাঠামোর সোফা ব্যবহার করাই ভালো। এগুলো সহজে নষ্ট হয় না এবং পরিষ্কার রাখাও সহজ। অফিস ও অপেক্ষাকক্ষের সোফা অফিস বা প্রতিষ্ঠানের ওয়েটিং রুমে সাধারণত একরঙা ও সরল নকশার সোফা ব্যবহার করা হয়। ছাই, কালো, মেরুন বা হালকা বাদামি রঙের সোফা এসব জায়গায় বেশি মানানসই। এতে পরিবেশটি পরিপাটি ও গম্ভীর দেখায়। জায়গার আকার অনুযায়ী একটি বা একাধিক সোফা রাখা যায়। যাতে অতিথি বা আগতরা স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারেন। সোফার রং ও নকশা সোফার রং ও নকশা অনেকটাই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। কেউ একরঙা সরল সোফা পছন্দ করেন, আবার কেউ নকশাদার কভার ব্যবহার করতে ভালোবাসেন। একরঙা সোফার ওপর উজ্জ্বল রঙের কুশন ব্যবহার করলে ঘরে সহজেই নতুনত্ব আনা যায়। বাড়িতে ছোট শিশু থাকলে গাঢ় রঙের সোফা বেছে নেওয়াই ভালো। এতে দাগ বা ময়লা তুলনামূলক কম চোখে পড়ে। বদলে যাওয়া সোফার ধরন আগে দেশে কাঠ বা বেতের তৈরি সোফাই বেশি জনপ্রিয় ছিল। এসব সোফায় খোদাই করা নকশা, ফুলেল কভার কিংবা এমব্রয়ডারি দেখা যেত। এখন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে। আজকাল চামড়া বা কৃত্রিম চামড়ায় মোড়ানো সোফা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া একক আসনের সোফার পাশাপাশি এখন এল আকৃতির বড় সোফাও অনেকের পছন্দ। এতে একসঙ্গে কয়েকজন আরামে বসতে পারেন। ছোট বাসার জন্য ভাঁজ করে বিছানায় রূপান্তর করা যায়, এমন সোফাও এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সোফার নকশা ও ধরনে নানা পরিবর্তন এলেও আরামদায়ক এই আসবাবের গুরুত্ব একটুও কমেনি। বরং ঘরের সৌন্দর্য ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে সোফা এখন হয়ে উঠেছে আধুনিক বাসার অন্যতম প্রধান অংশ। তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস    আরটিভি/জেএমএ
ঘর সাজাতে সোফা বেছে নিন বুঝে শুনে