বেঙ্গালুরুতে তরুণীকে পৈশাচিক নির্যাতন

টিকটক হৃদয় বাবুর গুরু রাফির যতো অপকর্ম

কাজী ফয়সাল

সোমবার, ৩১ মে ২০২১ , ০৩:০০ পিএম


Tiktak Hriday Babu's Guru Rafi's misdeeds
ফাইল ছবি

সম্প্রতি ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি এক তরুণীকে বিবস্ত্র করে পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপরই উভয় দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নিন্দার ঝড় ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত এবং বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা বাহিনীগুলো কঠোর হয়। এরই মধ্যে ওই ভিডিওতে দেখা যাওয়া ভুক্তভোগী তরুণী ও নির্যাতনকারী অন্যতম হোতা টিকটক হৃদয় বাবুসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করে বেঙ্গালুরুর পুলিশ। তাদেরকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতে গ্রেপ্তার টিকটক হৃদয় বাবুর গুরু, এই চক্রের মূল হোতা রাফিকে বাংলাদেশে একটি বাহিনীর ইন্টেলিজেন্স উইং খুব কাছ থেকে নজরদারিতে রেখেছে। তার সঙ্গে সহযোগী আরও কয়েকজন একইভাবে নজরদারিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। খুবই শিগগিরই তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো সম্ভব হবে বলে আরটিভি নিউজকে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাটির বিশ্বস্ত সূত্র।

বিজ্ঞাপন

টিকটক হৃদয় বাবুর গুরু রাফির পরিচয়

এলিট ফোর্স র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া টিকটক হৃদয় ও তার সহযোগীরা জিজ্ঞাসাবাদে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। সেই তথ্য যাচাই-বাছাই করে নারী পাচারকারী চক্রের অন্যতম মূলহোতা আশরাফুল মণ্ডল ওরফে রাফিকে শনাক্ত করা হয়েছে। ভারতে রাফি নামে পরিচিত এই তরুণ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা ঝিনাইদহের শৈলকূপা থানাধীন নাথপাড়া এলাকার পশ্চিমপাড়ার আইন উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে। টিকটক হৃদয় সিন্ডিকেটের দলনেতা হলো এই রাফি।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ভারতে নারী পাচারকারী চক্রের মূলহোতা রাফিকে আমরা শনাক্ত করেছি। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যহত রয়েছে।’

গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, এই রাফিসহ তার আরও কয়েকজন সহযোগীকে খুব শিগগিরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

টিকটক হৃদয় গ্রেপ্তার শুনে গা-ঢাকা দেয় রাফি

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের আগে রাফি ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে দেশে আসে। এরপর গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে সরকারি নির্দেশনা মোতোবেক কোয়ারেন্টিনে অবস্থান করছিল। টিকটক হৃদয়ের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সে গা-ঢাকা দেয়। বেঙ্গালুরের যে বাসা থেকে টিকটক হৃদয়সহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, রাফি সেই বাসাতেই থাকতো। এই সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ভারতে পাচার করা নারীদের জোর করে কোকেনসহ অন্যান্য মাদক খাওয়ানোর একাধিক ভিডিও উদ্ধার করেছে ওই দেশের পুলিশ।

রাফি গোয়েন্দা নজরদারিতে

ভারতে নারী পাচারকারী চক্রের মূল হোতাকে শনাক্ত করেছে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)। আশরাফুল মণ্ডল ওরফে রাফি নামে এই তরুণের মাধ্যমেই চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক নারীকে ভারতে পাচার করেছিল ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় বাবু। সম্প্রতি এক তরুণীকে যৌন নির্যাতনের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তারা প্রথমে মগবাজারের বাসিন্দা হিসেবে টিকটক হৃদয়কে শনাক্ত করে। পরে ঢাকার পুলিশ কর্মকর্তারা বেঙ্গালুরের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে টিকটক হৃদয়সহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। এ ঘটনায় যৌন নির্যাতনের শিকার তরুণীর বাবা বাদী হয়ে ঢাকার হাতিরঝিল থানায় একটি মামলাও দায়ের করেন।

যৌথ তদন্তে ভারত ও বাংলদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ওই যৌন নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নারী পাচারের বিষয়টি সামনে আসে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট নারী পাচারকারীদের শনাক্তে মাঠে নামে। বাংলাদেশ ও ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা যৌথভাবে নারী পাচারকারীদের শনাক্তে কাজ করছে। মামলা দায়ের হয়েছে উভয় দেশেই। এরই ধারাবাহিকতায় এই চক্রের মূলহোতা রাফিকে শনাক্ত করা হয়। রাফিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে মডেল হিসেবে সক্রিয় বলে জানা গেছে।

কেএফ/পি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission