ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

৯০ দিনের মধ্যে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
ফাইল ছবি

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নতুন গতি দিতে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে বাণিজ্যিক বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার ‘বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যাদেশটি জারি করেন। শুক্রবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।

বিশেষায়িত আদালত গঠন, মামলা ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার মাধ্যমে অধ্যাদেশটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একইসঙ্গে মামলার চূড়ান্ত শুনানি শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রেখে প্রণীত এই আইনি কাঠামো দেশের ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বা সহজ ব্যবসা সূচকে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যিক বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি

এই অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য হলো-ব্যবসা-বাণিজ্যসংক্রান্ত জটিলতা ও বিরোধসমূহ দ্রুত এবং কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি করা। এর ফলে, পণ্য আমদানি-রপ্তানি, ব্যাংকিং লেনদেন, যৌথ উদ্যোগ চুক্তি, মেধা সম্পদ (ট্রেডমার্ক, পেটেন্ট), খনিজ সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রীতিনীতি সংক্রান্ত বিরোধগুলো সাধারণ আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে বিশেষায়িত আদালতের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হবে।

আদালত গঠন ও বিচারপ্রক্রিয়া

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে সরকার প্রয়োজনীয়সংখ্যক বাণিজ্যিক আদালত গঠন করবে। জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ পর্যায়ের বিচারকগণ এই আদালতের দায়িত্ব পালন করবেন। বাণিজ্যিক আইনের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিচারকগণ নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

এই অধ্যাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘সুইট ম্যানেজমেন্ট’ বা মামলা ব্যবস্থাপনা শুনানি। বিবাদী জবাব দাখিল করার পর প্রথম শুনানির দিনই আদালত বিচার্য বিষয়গুলো নির্ধারণ করবেন এবং কত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ হবে, তার একটি রূপরেখা তৈরি করবেন। চূড়ান্ত শুনানি শুরু হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল ও ভার্চুয়াল বিচার

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০’ অনুসরণ করে ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে সব ধরনের শুনানি সম্পাদন করা যাবে। এছাড়া ই-ফাইলিং এবং ইলেকট্রনিক উপায়ে সমন জারির বিধানও রাখা হয়েছে।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর)

মামলাজট কমাতে অধ্যাদেশে ‘প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা’ (প্রি সুইট মেডিটেশন) পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করার সুযোগ রাখা হয়েছে। জরুরি কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রয়োজন না থাকলে, বাদীকে মামলা দায়েরের আগে মধ্যস্থতার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়া মামলা চলাকালীন উভয় পক্ষ সম্মত হলে আদালতের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতায় আসার বিধান রাখা হয়েছে।

আপিল ও রিভিশন

বাণিজ্যিক আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন। প্রধান বিচারপতি এই উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বিভাগে এক বা একাধিক ‘বাণিজ্যিক আপিল বেঞ্চ’ গঠন করবেন।

এর বাইরে অবকাঠামো প্রকল্প বা বড় বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হবে; অহেতুক সময়ক্ষেপণ করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ওপর আদালত বড় অংকের জরিমানা বা খরচ আরোপ করতে পারবেন।

চুক্তিতে সুদের হার উল্লেখ না থাকলে আদালত প্রচলিত ব্যাংক হারের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি হারে সুদ নির্ধারণ করতে পারবেন; প্রতি মাসে বিচারাধীন ও নিষ্পত্তিকৃত মামলার পরিসংখ্যান সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।

আরটিভি/আরএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর সময় জানালেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
আগামী জানুয়ারি মাস থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হয়ে ৬ জুনের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে এবং তা ৬ জুন পর্যন্ত চলবে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জনগণের সরকার বদ্ধপরিকর এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে আমাদের প্রতি- আগামী যে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আসছে, এই নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করার প্রয়োজন, আমরা করব।  তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে কলঙ্কিত করে বা নির্বাচনের কোনো কলঙ্কিত অধ্যায় নিয়ে বিএনপি সরকার থাকবে না। এটা আপনাদের মাধ্যমে জনগণকে এবং যারা প্রার্থী, তাদের আমরা এই নিশ্চয়তা দিতে চাই। আরটিভি/এসআর
স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর সময় জানালেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতাকে হ্রাস করে: রাষ্ট্রপতি
জনকল্যাণে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যানো ও জৈব প্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ।
এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতাকে হ্রাস করে: রাষ্ট্রপতি
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও এর গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব পাওয়া গেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন বুধবার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ, অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম, বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক এবং নিউইয়র্ক সফরের সার্বিক বিষয় তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন বুধবার
সরকারের মহাপরিকল্পনা, মনোরেল পথে বাংলাদেশ
ঢাকায় মনোরেল ব্যবস্থা চালুর পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মূলত মেট্রোরেলের যাত্রীদের যাতায়াতের শেষ ধাপের সংযোগ উন্নত করতে ফিডার সার্ভিস হিসেবে এটি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশনকে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এই সমীক্ষায় মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ডিটিসিএ ও বুয়েটের মধ্যে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির পর ঢাকা মহানগর অঞ্চলে প্রস্তাবিত পাঁচটি করিডরের পাশাপাশি সম্ভাব্য অন্যান্য রুটও সমীক্ষায় যাচাই করা হবে। এর মধ্যে দুটি করিডরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি) অনুযায়ী, প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি মনোরেল করিডর প্রস্তাব করা হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে উপযুক্ত একটি করিডর বাছাই করার কথা রয়েছে। আর পুরো সমীক্ষা শেষ করতে ছয় মাস সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত করিডরগুলো হলো—পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা (২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার), মধ্য বাড্ডা-ভুলতা (১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার), রামপুরা-ডেমরা (১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার), মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা (১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার) ও উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর-সাভার (১৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার)। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই সমীক্ষায় রুটের বিন্যাস, সম্ভাব্য স্টেশন ও ডিপোর অবস্থান, যাত্রী চাহিদা, কারিগরি ও কাঠামোগত উপযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হবে। বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেল এবং অন্যান্য গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে মনোরেলের সমন্বয়ের বিষয়টিও এতে খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে মেট্রোরেলের যাত্রীদের যাতায়াতের শেষ ধাপের সংযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। মনোরেল সাধারণত উড়ালপথে চলাচল করে। ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ যেসব এলাকায় সড়কের জায়গা সীমিত এবং ভারী অবকাঠামোর কারণে মেট্রোরেল নির্মাণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে মনোরেল গণপরিবহনের সংযোগ হিসেবে কাজ করতে পারবে কি না, তা যাচাই করার পরিকল্পনা করছে ডিটিসিএ। নির্মাণ ব্যয়, যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা, পরিচালন ব্যয় এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্ভাব্যতা নির্ভর করবে সমীক্ষার ফলাফলের ওপর। ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত একটি মনোরেল রুট চালু করা।’ তিনি জানান, প্রাথমিক বিবেচনায় পাঁচটি রুট রাখা হয়েছিল। বুয়েটের পরামর্শে এখন ১৪টি রুট যাচাই করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সুবিধা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতার ভিত্তিতে সেখান থেকে বাস্তবায়নযোগ্য একটি রুট বেছে নেওয়া হবে। ঢাকায় মনোরেল সেবা চালুর নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। আরটিভি/ এসকেডি
সরকারের মহাপরিকল্পনা, মনোরেল পথে বাংলাদেশ
আরও পড়ুন
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পর্যায়ে পে-স্কেল, গেজেট প্রকাশ নিয়ে নতুন জটিলতা
অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন
সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে প্রবেশের নির্দেশ, বিনা অনুমতিতে বাইরে নয়
আমি কিছু করিনি, করেছে আইন মন্ত্রণালয়: আসিফ নজরুল