ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

বাবার স্মৃতিবিজড়িত সেই খাল পুনঃখননে যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় পাঁচ দশক আগে যশোরের শার্শার উলাসী এলাকায় কৃষকদের দুঃখ ছিল জলাবদ্ধতা। বিস্তীর্ণ জমি বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে থাকত। সেই কষ্ট দূর করতে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর নিজে কোদাল হাতে খাল খননের সূচনা করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দীর্ঘ সময় পর সেই মৃতপ্রায় খালটি পুনরায় সচল করতে আগামী ২৭ এপ্রিল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঐতিহাসিক সেই উলাসী খাল

যশোরের শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগ উলাসী-যদুনাথপুরে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল। ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেন। শ্রমিকদের কোনো পারিশ্রমিক ছিল না। কেবল দুপুরে গুড়-রুটি খেয়ে তারা কাজ চালিয়েছেন। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া এই খালটি অঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছিল।

স্মৃতিতে অম্লান জিয়াউর রহমান

উলাসী গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল বারিক মণ্ডল স্মৃতিচারণ করে বলেন, খাল খনন কর্মসূচির সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে করে এসে স্কুল মাঠে অবতরণ করেন। এরপর তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে ভরেন। সেই ঝুড়িটি তিনি তার ভাই করিম বকস মণ্ডল মেম্বারের মাথায় তুলে দেন। এমনকি তার ভাইয়ের মাথার টোকাও (মাথাল) রাষ্ট্রপতি নিজেই পরে নেন। খাল খননের উদ্বোধনী দিনে সেখানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল। পরে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা এ কাজে অংশ নেন।

তিনি আরও জানান, হাজার হাজার মানুষ কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই খাল কাটার কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। কাজের বিনিময়ে তাদের শুধু দুপুরে রুটি ও গুড় দেওয়া হতো। খালের পাড়ে একতালা ওই ভবনে রুটি তৈরি করা হতো, আর সেটাই খেয়ে সবাই কাজ চালিয়ে যেতেন। রাষ্ট্রপতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কাজে অংশ নিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন খালটি সংস্কার না করায় অনেক অংশ ভরাট হয়ে গেছে। শুনছি জিয়াউর রহমান সাহেবের ছেলে আমাদের তারেক রহমান আবার এ খাল খনন করবে। এতে এলাকার মানুষের আবারও উপকার হবে।

জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি বাবার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তখনকার ১৪ বছর বয়সি আবু বক্কর সিদ্দিকী। বর্তমানে ৬৫ বছর বয়সি আবু বক্কর স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার বাবা করিম বকস মণ্ডল ছিলেন একজন ইউপি সদস্য। উদ্বোধনের সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে একটি ঝুড়িতে ভরে তার বাবার মাথায় তুলে দেন। তার বাবাই প্রথম সেই ঝুড়ি মাথায় করে মাটি সরান। রাষ্ট্রপতি নিজে মাটি কেটে খাল খননের সূচনা করেছেন, এই খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। তিনি উল্লেখ করেন, এ অঞ্চলের মানুষের জন্য খাল খনন ছিল অত্যন্ত জরুরি একটি উদ্যোগ।

স্থানীয়রা জানান, শার্শার উত্তর এলাকার পাঁচটি বড় বিলের পানি নিষ্কাশনের পথ ছিল না। প্রায় ২২ হাজার একর জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। জিয়াউর রহমানের এই উদ্যোগে পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হয়। খালের দুই পাশে ২০টি পাম্প বসিয়ে শুরু হয় ইরি-বোরো চাষ। দারিদ্র্যপীড়িত এলাকাটি দ্রুত খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে।

বর্তমান চিত্র ও নতুন উদ্যোগ

বর্তমানে গৌরবময় সেই স্মৃতি অনেকটা ম্লান। খালের ধারের স্মৃতিস্তম্ভটি অবহেলিত। পাশের পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত ও ঝোপঝাড়ে ঘেরা। সংস্কারের অভাবে চার কিলোমিটারের খালটি এখন ভরাট হয়ে মৃতপ্রায়।

এখন সেই প্রাণহীন খালে জোয়ার ফেরাতে যাচ্ছেন জিয়াউর রহমানের পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমন উপলক্ষে শার্শাবাসীর মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আহমদ আলী বলেন, বাবার খনন করা খালটি ছেলে আবার সচল করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন

প্রশাসনের প্রস্তুতি

পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি আশা প্রকাশ করেন, পুনঃখনন শেষে উলাসী খালটি আবার তার পুরনো যৌবন ফিরে পাবে।

যশোর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর সংস্কার না হওয়ায় খালটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সরকার এটি পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর উদ্বোধন করবেন। এ লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গণমাধ্যমেও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
দেশের তৈরি পোশাক খাতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবার গণমাধ্যমেও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে বার্তা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। 
গণমাধ্যমেও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
২০২৭ সালে ঈদ ও পূজায় ছুটি থাকবে কতদিন
২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। তালিকা অনুযায়ী, আগামী বছর পবিত্র ঈদুল ফিতরে পাঁচ দিন, পবিত্র ঈদুল আজহায় ছয় দিন এবং শারদীয় দুর্গাপূজায় দুই দিন ছুটি থাকবে।
২০২৭ সালে ঈদ ও পূজায় ছুটি থাকবে কতদিন
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের প্রভাব খাটিয়ে মানহীন কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার (৪ নভেম্বর) বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিইনি। এতে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে চাপ আসছে। কিন্তু মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ করতে দেওয়া হবে না। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ হবে আর রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হয়ে যাবে, এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। দেশে চিকিৎসা শিক্ষার বৈষম্য ও ভৌগোলিক অসম বণ্টন তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজই ঢাকা বিভাগে পুঞ্জীভূত। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। সংসদ বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় যখন-তখন নিজ জেলা বা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ চাওয়ার মতো জনপ্রিয় হওয়ার প্রবণতা পরিহার করে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের নিয়ম মেনে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন না করলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও আস্থা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক। বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সম্প্রতি বিদেশ থেকে পাস করে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন। সন্তানদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান যাচাই করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত রুনা খানের সাক্ষাৎ
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার-২০২৬ প্রাপ্ত বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান। বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পিকার রুনা খানকে তার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের এ ধরনের অর্জন সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। মানবকল্যাণ, সমাজের উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে নিবেদিত ব্যক্তিদের কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের অন্যদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করবে। এ সময় তারা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম, মানবিক উদ্যোগ এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন।  ডেপুটি স্পিকার রুনা খানকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের ভবিষ্যৎ। মতবিনিময়কালে ডেপুটি স্পিকার তার নিজ জেলা নেত্রকোণার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও জীবন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের মানুষ এখনো শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি স্যাটেলাইট হাসপাতাল স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জরুরি রোগী পরিবহন, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স বা ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, জীবিকার তাগিদে হাওরাঞ্চলের অনেক মানুষ নিজ এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে রিকশা চালানোসহ নানা পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ একসময় এ হাওরাঞ্চল খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে বর্তমানে এ অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। হাওরের জলমহাল ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সমাজের বিত্তশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জলমহাল ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছেন। অথচ প্রকৃত জেলেদের জীবিকা ও অধিকার সুরক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। জলমহাল ব্যবস্থাপনায় সাধারণ জেলে ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের জীবিকার সুযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। হাওরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন দুই থেকে তিন মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক শিশু মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, যাতায়াত ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ডেপুটি স্পিকার, হাওরাঞ্চলের রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। মৎস্যসম্পদ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা গেলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সম্ভব। এ জন্য হাওরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তার মতে, হাওরকে শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা না করে জাতীয় অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার হিসেবে দেখতে হবে। ডেপুটি স্পিকার নেত্রকোণার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে রুনা খান হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ডেপুটি স্পিকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও ভাবনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। রুনা খান নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে তার প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়ে ডেপুটি স্পিকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। সাক্ষাৎটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ফ্রেন্ডশিপ-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত রুনা খানের সাক্ষাৎ
একনেকে অনুমোদন পেল নতুন ১১ প্রকল্প
নতুন ১১ প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। 
একনেকে অনুমোদন পেল নতুন ১১ প্রকল্প
আরও পড়ুন
যবিপ্রবিতে তারিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
কিউএস এশিয়া র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬৪৪তম যবিপ্রবি
যবিপ্রবিতে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত
প্রতিবেশীকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে সড়কে প্রাণ গেল আপনের