ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এবং আন্তজেলা বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকার বাসের ভাড়া সমন্বয় করল।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহণ মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা থেকে দেশের দক্ষিণের শেষ প্রান্ত টেকনাফ পর্যন্ত নন-এসি বাসের ভাড়া বেড়েছে ৬৫ টাকা এবং উত্তর প্রান্ত পঞ্চগড়ের ভাড়া বেড়েছে ৬০ টাকা।
বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে ৪০ সিটের বাসের ভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি হচ্ছে—(প্রতি কিলোমিটার ভাড়া × দূরত্ব × ৫১ সিটের বাস) ৪০ = টাকা। রুটভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) দেওয়া দূরত্ব, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও সওজের আওতাধীন ব্রিজ, টোল ও ফেরির ভাড়ার তালিকা অনুসরণ করে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।
ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে টেকনাফ (রুট-৫০) ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ১ হাজার ২৭০ টাকা। ৬৫ টাকা বেড়ে নতুন ভাড়া হয়েছে ১ হাজার ৩৩৫ টাকা। এর আগে ঢাকা (গাবতলী) থেকে পঞ্চগড় (রুট-৯৩) ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ১ হাজার ১৮০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৬০ টাকা বেড়ে নতুন ভাড়া হয়েছে ১ হাজার ২৪০ টাকা।
ঢাকা থেকে ৭ বিভাগীয় শহরের ভাড়া যত হলো
ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে চট্টগ্রামের (রুট-৪৮) দূরত্ব ২৪২ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৬৭০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৩৪ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭০৪ টাকা।
ঢাকা (গাবতলী) থেকে রাজশাহীর (রুট-৮২) দূরত্ব ২৪৭ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৭০০ টাকা। ৩৮ টাকা বেড়ে নতুন ভাড়া হয়েছে ৭৩৮ টাকা।
ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে খুলনার (রুট-৯৬) দূরত্ব ২০৫ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৬৫০ টাকা। ৩০ টাকা বেড়ে নতুন ভাড়া হয়েছে ৬৮০ টাকা।
ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে বরিশালের (রুট-৩৫) দূরত্ব ১৭১ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৫৬৫ টাকা। ২৬ টাকা বেড়ে নতুন ভাড়া হয়েছে ৫৯১ টাকা।
ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে সিলেটের (রুট-৫৭) দূরত্ব ২৫৭ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৭০০ টাকা। ৪০ টাকা বেড়ে নতুন ভাড়া হয়েছে ৭৪০ টাকা।
ঢাকা (গাবতলী) থেকে রংপুরের (রুট-৮৮) দূরত্ব ৩০৮ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৮৭০ টাকা। ৪১ টাকা বেড়ে নতুন ভাড়া হয়েছে ৯১১ টাকা।
ঢাকা (মহাখালী) থেকে ময়মনসিংহের (রুট-১৫) দূরত্ব ১১৬ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৩১৫ টাকা। ১৫ টাকা বেড়ে নতুন ভাড়া হয়েছে ৩৩০ টাকা।
এ ছাড়া বেশি যাত্রী চলাচলকারী ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে কক্সবাজারের (রুট-৪৯) দূরত্ব ৩৯৬ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ১ হাজার ৯০ টাকা। ৫৭ টাকা বেড়ে নতুন ভাড়া হয়েছে ১ হাজার ১৪৭ টাকা।
ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে কুমিল্লার (রুট-১৮) দূরত্ব ১০২ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ২৯০ টাকা। ১৬ টাকা বেড়ে নতুন ভাড়া হয়েছে ৩০৬ টাকা।
ঢাকা (গাবতলী) থেকে বগুড়ার (রুট-৮৪) দূরত্ব ১৯১ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৫৫০ টাকা। ২৮ টাকা বেড়ে নতুন ভাড়া হয়েছে ৫৭৮ টাকা।
এ ছাড়া দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রুট দিনাজপুর থেকে টেকনাফের (অন্যান্য রুট-১৬৮) দূরত্ব ৮৪৪ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ২ হাজার ৩৪০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ১১৭ টাকা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৪৫৭ টাকা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নেতৃত্বাধীন বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটি বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২২ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করে। সেটি ১১ পয়সা বাড়ানো হলো।
বাসভাড়া বাড়ানোর কারণ হিসেবে ডিজেলের দাম বাড়ার কথা বলেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরকার দীর্ঘসময় জ্বালানির দাম না বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডিজেলে প্রতি লিটারে প্রায় ১৫ টাকা বাড়াতে হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। ফলে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেলভাড়া ও লঞ্চভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় নেই বলে জানান মন্ত্রী।
আরটিভি/এমএ



