ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভকে দ্রুততম সময়ে ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভকে দ্রুততম সময়ে ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল জানান, প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই স্টোরেজ সংকট, স্ক্যানারের স্বল্পতা এবং রেস্টোরেশনসংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।

তিনি জানান, স্ক্যানার ও স্টোরেজের স্বল্পতার কারণে এতদিন ডিজিটালাইজেশনের কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। বর্তমানে এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফিল্ম আর্কাইভের ডিজিটাল ল্যাবে অ্যানালগ ফিল্মকে ডিজিটাল রূপ দিতে এখন একটিমাত্র হাই-রেজ্যুলেশন স্ক্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরোনো দিনের সেলুলয়েড ফিল্মগুলোকে আধুনিক ও উন্নত ফরমেটে রূপান্তরের পুরো কাজই এই স্ক্যানারের মাধ্যমে হচ্ছে।

মহাপরিচালক জানান, আমাদের আর্কাইভে ১৬ মিলিমিটার ও ৩৫ মিলিমিটার ফরম্যাটের বিপুলসংখ্যক ফিল্ম রয়েছে। একটি স্ক্যানার দিয়ে এসব ফিল্ম ডিজিটালাইজেশন করতে অনেক সময় লাগে। তাই কাজ দ্রুত শেষ করতে অতিরিক্ত স্ক্যানার প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে।

তিনি জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। ফিল্ম আর্কাইভের সংগ্রহে থাকা পূর্ণদৈর্ঘ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য, প্রামাণ্যচিত্র ও নিউজরিল ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মূল কাজ হলো ফিল্ম সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শন। পর্যাপ্ত স্ক্যানার, উন্নত স্টোরেজ ও হার্ডডিস্ক থাকলে পুরোনো ও মূল্যবান চলচ্চিত্র দ্রুত ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রাশেদুল আলম গাজী জানান, স্ক্যানিংয়ের সময় ফিল্মে ডাস্ট ও নয়েজ থেকে যায়, যা পুরোনো চলচ্চিত্র বা টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দেখা যায়। রেস্টোরেশন রুমে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে এসব ত্রুটি দূর করা হয়।

তিনি বলেন, ‘ডায়ামেন্ট’ নামে একটি এআইভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডাস্ট, স্ক্র্যাচ, গ্রেইন, স্ট্যাবিলাইজেশন ও শেকিং (কাঁপা) ঠিক করা হয়। এতে ফিল্ম অনেকটাই পরিষ্কার ও স্বচ্ছ হয়ে ওঠে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে পদ্ধতিতে ফিল্ম রাখা হয় একই পদ্ধতিতে আমরাও কাজ করছি। এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে কাজ করা হলেও পুরাতন একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের রেস্টোরেশন করতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কার্যদিবস সময় লাগে। একটি ইউনিট দিয়ে মাসে কেবল একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের রেস্টোরেশন সম্ভব।

তিনি আরও জানান, ডিজিটাল ডাটা সার্ভার ও হার্ডড্রাইভে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ক্লাউডে সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপে ধাপে ডাটা মাইগ্রেশনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আধুনিক প্রযুক্তিতে সংরক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এজন্য বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি যাতে দ্রুততার সঙ্গে ডিজিটালাইজেশন ও রেস্টোরেশন করা যায়। এতে দেশ ও বিদেশের দুষ্প্রাপ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ফিল্মগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ দেশি-বিদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, তথ্যচিত্র, সংবাদচিত্রের প্রিন্ট, পিকচার নেগেটিভ, সাউন্ড নেগেটিভ ও ডিউপ নেগেটিভ (ডুপ্লিকেট নেগেটিভ) সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করছে।

প্রতিষ্ঠানটিতে ১৯৭৮ সাল থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নির্মিত ১ হাজার ১৪টি বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (৩৫ মি.মি ও ১৬ মি.মি), ১০টি ভারতীয় বাংলা, হিন্দি ও উর্দু পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (৩৫ মি.মি ও ১৬ মি.মি), ১০০টি বিদেশি ইংরেজি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (৩৫ মি.মি ও ১৬ মি.মি), ২১৫টি চীনা ভাষার চলচ্চিত্র (৩৫ মি.মি ও ১৬ মি.মি), ১৩৫টি বাংলাদেশি ও বিদেশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (৩৫ মি.মি ও ১৬ মি.মি), ৩ হাজার ৪২১টি দেশি-বিদেশি প্রামাণ্যচিত্র ও তথ্যচিত্র (৩৫ মি.মি ও ১৬ মি.মি) এবং ২ হাজার ১২৬টি বাংলাদেশি সংবাদচিত্র (৩৫ মি.মি ও ১৬ মি.মি) সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এসব ফিল্মের প্রিন্ট, পিকচার, নেগেটিভ, সাউন্ড নেগেটিভ ও ডুপ্লিকেট নেগেটিভ যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে পাওয়া প্রায় ১৬ মি.মি নিউজরিলের যাচাই কাজ এখনো বাকি। এ কাজ শেষ হলে সংরক্ষিত ফিল্মের সংখ্যা আরও বাড়বে।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের ফিল্ম ডিজিটালাইজেশন ল্যাবে নিজস্ব স্ক্যানার দিয়ে ২০১২ সালের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১৮৮টি (১৬ মি. মি ও ৩৫ মি. মি) ফিল্ম ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ১৭৯টি, প্রামাণ্যচিত্র, তথ্যচিত্র ও সংবাদচিত্র ৫৪১টি এবং নিউজরিল (ওওডি) ৪৬৮টি।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ দেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন অনুষ্ঠান, নাটক ও প্রামাণ্যচিত্র সংগ্রহের প্রধান সরকারি প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত (১৯৮৪ সালে বর্তমান নামকরণ) এ প্রতিষ্ঠানটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কাজ দেশি-বিদেশি উৎস থেকে চলচ্চিত্র, স্থিরচিত্র, পোস্টার ও গানের বই সংগ্রহ করে ফিল্ম ভল্টে সংরক্ষণ করা। এছাড়া দুষ্প্রাপ্য ছবি ও নথিপত্র সংরক্ষণ, ডিজিটালাইজেশন, চলচ্চিত্র গবেষণায় সহায়তা এবং নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করে থাকে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষে দেশে ফেরার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন।  প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ফ্লাইটটি ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় দুবাই পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে রাত ২টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেন। এতে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। ২৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক মানবতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সংঘাত নিরসনে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে জনগণের ক্ষমতায়ন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্যে সরকারের ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ বা থ্রি-আর কৌশলের কথাও তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটের একমাত্র সমাধান। স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সহযোগিতা কামনা করেন। সফরকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়ে আলোচনা করেন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ লতিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা জোরদার এবং অংশীদারিত্বের নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিলস-এমের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে দেওয়া স্বাগত প্রাতরাশে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী অংশ নেন। পরে তাঁরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণকারী নেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেন। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে মানবিক চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বিষয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়। এ সময় গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক সুজম্যানের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে জনস্বাস্থ্য, শিশুসেবা, টিকাদান, সাশ্রয়ী মূল্যের টিকা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সম্মিলিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ দ্রুত ও ব্যাপকভাবে কমানো এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় জলবায়ু অর্থায়নের আহ্বান জানান তিনি। ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ দ্রুত ও ব্যাপকভাবে কমানো, পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অভিযোজন অর্থায়ন, জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ-সুইডেন-ইউএনএফপিএ আয়োজিত ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ‘সুস্থ বাংলাদেশ’ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে কেন্দ্রীয় ভিত্তি হিসেবে রাখার কথা জানান তিনি। তিনি জানান, সরকার আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে ৮০ হাজার নারী এবং ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ বা ধাত্রী থাকবেন। পাশাপাশি একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জলবায়ু সহনশীলতা ও বহুপক্ষীয় কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। প্রধানমন্ত্রী থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও বৈঠক করেন। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন তিনি। নিউইয়র্ক সফরের শেষ দিনে আজ প্রধানমন্ত্রী ম্যানহাটনে জেপিমরগানের সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন। পরে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি। পাঁচ দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আরটিভি/এসআর
জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী
দিল্লির ইলিশ উৎসবে বাংলাদেশের ‘জয়গান’
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশকে ঘিরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য ইলিশ উৎসব। এতে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘অ্যা ফিস কলড ইলিশ’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
দিল্লির ইলিশ উৎসবে বাংলাদেশের ‘জয়গান’
অটিজম নি‌য়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত কর‌লেন শামা ওবা‌য়েদ
অটিজম ও প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তিদের শুধু সহায়তার গ্রহীতা হিসেবে নয়, বরং শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সমাজের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
অটিজম নি‌য়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত কর‌লেন শামা ওবা‌য়েদ
গণহত্যাকারীদের বিচারে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
গণহত্যাকারীদের বিচারে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দ্বিপক্ষীয়-বহুপক্ষীয় বৈঠকের সফল ফলাফল দেশের জন্য গর্বের: ওয়াহিদুজ্জামান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকের সফল ফলাফল বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।
দ্বিপক্ষীয়-বহুপক্ষীয় বৈঠকের সফল ফলাফল দেশের জন্য গর্বের: ওয়াহিদুজ্জামান
আরও পড়ুন
চলচ্চিত্র একটি জাতির সংস্কৃতি-ইতিহাস ও সমাজজীবনের প্রতিচ্ছবি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
দেশপ্রেমিক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে রাষ্ট্র মেরামত করা হবে: তথ্যমন্ত্রী