ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
প্রতীকী ছবি (এআই)

দেশে দ্রুত বাড়ছে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা। সহজলভ্য ও কম খরচের এই বাহন একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে তা এখন জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে এবং বাড়াচ্ছে বিদ্যুৎ চুরির ঝুঁকি।

গভীর রাতে ব্যাটারিচালিত রিকশায় চার্জ দেওয়া হয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। আর এর ফলে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উধাও হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতে সাধারণত চার থেকে পাঁচটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি প্রয়োজন হয়। প্রতিবার পূর্ণ চার্জ দিতে গড়ে ৯০০ থেকে ১১০০ ওয়াট বিদ্যুৎ লাগে, যা প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ইউনিট বিদ্যুৎ খরচের সমান। এতে একটি রিকশা টানা পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা চলতে পারে।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে বলে ধারণা করা হয়। সে হিসেবে প্রতিদিন এসব যান চার্জ দিতে জাতীয় গ্রিড থেকে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হওয়ার কথা। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, এর বড় একটি অংশই বৈধভাবে হিসাবভুক্ত হচ্ছে না। প্রায় ৮০ শতাংশ গ্যারেজে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে এসব রিকশা চার্জ দেওয়া হয়, ফলে সরকার প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের রাজস্ব হারাচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে দেখা যায়, অধিকাংশ চালক গ্যারেজে রাতভর রিকশা রেখে চার্জ করান। এ জন্য গ্যারেজ মালিককে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দিতে হয়। এসব চার্জিং পয়েন্টের বেশিরভাগই অনুমোদনহীন এবং অনিয়ন্ত্রিত, যেখানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিদ্যুৎ আসে অবৈধ লাইনের মাধ্যমে। এতে বিপণন সংস্থাগুলো বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চালালেও গ্যারেজ মালিকদের নানা কৌশলে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে কিছু এলাকায় আলাদা ট্যারিফ চালু করা হয়েছে, যার আওতায় সীমিতসংখ্যক রিকশা বৈধভাবে বিদ্যুৎ নিচ্ছে।

বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিড এমনিতেই চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশার অতিরিক্ত চার্জিং চাহিদা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর যখন বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ে, তখন এসব রিকশা চার্জিং লোডশেডিংয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ২০ ধরনের যানবাহনের নিবন্ধন দিলেও ব্যাটারিচালিত রিকশার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৬২ লাখ, যার মধ্যে বাস-মিনিবাস মাত্র ৮৪ হাজার। তিন চাকার যানবাহনের মধ্যে শুধু অটোরিকশা ও অটোটেম্পোর নিবন্ধন দেওয়া হয়, যার বৈধ সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৪২ হাজার।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে নিবন্ধনের বাইরে ৬০ থেকে ৭০ লাখ ছোট তিন চাকার যান চলাচল করছে, যেগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা একটি পরিবারের জীবিকার উৎস। একজন চালকের পরিবারের গড় সদস্য সংখ্যা পাঁচজন ধরলে প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনযাপন এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া রিকশা মেরামত, ব্যাটারি শিল্প ও সংশ্লিষ্ট কারখানায়ও বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

গ্রামীণ এলাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে এই বাহন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদীউজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, শুরুতেই এসব তিন চাকার যান নিয়ন্ত্রণ করা গেলে পরিস্থিতি ভালো থাকত। এখন বিপুলসংখ্যক ত্রুটিপূর্ণ ও অনিয়ন্ত্রিত যান সড়কে চলাচল করছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ না করে সঠিক নীতিমালা, নিবন্ধন ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রিত চার্জিং স্টেশন চালু করা জরুরি। তা না হলে বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি— দুটোই ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের বৈঠক
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে দুই নেতার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর প্রথম দিনেই তিনি কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। বৈঠকে দুই নেতা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। আরটিভি/টিআর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের বৈঠক
আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশ আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাগত জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। একইসঙ্গে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ বিমান ও মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাওয়ায় তিনি উভয় পক্ষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্বের সেরা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের আরও ১১টি কেনার চুক্তির জন্য বোয়িং ও বিমানকে অভিনন্দন। কর্মকর্তারা জানান, নিউইয়র্কে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে, যা বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১৫ মিনিট। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য আরেকটি উভয়পক্ষের জয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সঙ্গে একই সময়ে অনুষ্ঠেয় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য তিনি অপেক্ষায় রয়েছেন। বিমান কর্মকর্তারা জানান, গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তির আওতায় ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার অতিরিক্ত হিসেবে নতুন ১১টি উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর ফলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৫টিতে। তবে অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজের মডেল, মূল্য, অর্থায়নের শর্ত এবং সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, বিমান আরও ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার পৃথক একটি প্রস্তাবও বিবেচনা করছে। আরটিভি/টিআর
আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশে মেটার কার্যালয় খোলার আমন্ত্রণ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
বাংলাদেশে মেটার কার্যালয় খোলার আমন্ত্রণ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় দুপুরে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন  প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
আরও পড়ুন
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশকে ২৪৬০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবি
বৃহস্পতিবার টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
৬ হাজার ৫৪৪ প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশাল বরাদ্দ
অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে প্রাণ গেল চালকের