ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
প্রতীকী ছবি (এআই)

দেশে দ্রুত বাড়ছে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা। সহজলভ্য ও কম খরচের এই বাহন একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে তা এখন জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে এবং বাড়াচ্ছে বিদ্যুৎ চুরির ঝুঁকি।

গভীর রাতে ব্যাটারিচালিত রিকশায় চার্জ দেওয়া হয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। আর এর ফলে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উধাও হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতে সাধারণত চার থেকে পাঁচটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি প্রয়োজন হয়। প্রতিবার পূর্ণ চার্জ দিতে গড়ে ৯০০ থেকে ১১০০ ওয়াট বিদ্যুৎ লাগে, যা প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ইউনিট বিদ্যুৎ খরচের সমান। এতে একটি রিকশা টানা পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা চলতে পারে।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে বলে ধারণা করা হয়। সে হিসেবে প্রতিদিন এসব যান চার্জ দিতে জাতীয় গ্রিড থেকে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হওয়ার কথা। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, এর বড় একটি অংশই বৈধভাবে হিসাবভুক্ত হচ্ছে না। প্রায় ৮০ শতাংশ গ্যারেজে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে এসব রিকশা চার্জ দেওয়া হয়, ফলে সরকার প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের রাজস্ব হারাচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে দেখা যায়, অধিকাংশ চালক গ্যারেজে রাতভর রিকশা রেখে চার্জ করান। এ জন্য গ্যারেজ মালিককে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দিতে হয়। এসব চার্জিং পয়েন্টের বেশিরভাগই অনুমোদনহীন এবং অনিয়ন্ত্রিত, যেখানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিদ্যুৎ আসে অবৈধ লাইনের মাধ্যমে। এতে বিপণন সংস্থাগুলো বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চালালেও গ্যারেজ মালিকদের নানা কৌশলে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে কিছু এলাকায় আলাদা ট্যারিফ চালু করা হয়েছে, যার আওতায় সীমিতসংখ্যক রিকশা বৈধভাবে বিদ্যুৎ নিচ্ছে।

বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিড এমনিতেই চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশার অতিরিক্ত চার্জিং চাহিদা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর যখন বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ে, তখন এসব রিকশা চার্জিং লোডশেডিংয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ২০ ধরনের যানবাহনের নিবন্ধন দিলেও ব্যাটারিচালিত রিকশার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৬২ লাখ, যার মধ্যে বাস-মিনিবাস মাত্র ৮৪ হাজার। তিন চাকার যানবাহনের মধ্যে শুধু অটোরিকশা ও অটোটেম্পোর নিবন্ধন দেওয়া হয়, যার বৈধ সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৪২ হাজার।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে নিবন্ধনের বাইরে ৬০ থেকে ৭০ লাখ ছোট তিন চাকার যান চলাচল করছে, যেগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা একটি পরিবারের জীবিকার উৎস। একজন চালকের পরিবারের গড় সদস্য সংখ্যা পাঁচজন ধরলে প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনযাপন এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া রিকশা মেরামত, ব্যাটারি শিল্প ও সংশ্লিষ্ট কারখানায়ও বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

গ্রামীণ এলাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে এই বাহন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদীউজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, শুরুতেই এসব তিন চাকার যান নিয়ন্ত্রণ করা গেলে পরিস্থিতি ভালো থাকত। এখন বিপুলসংখ্যক ত্রুটিপূর্ণ ও অনিয়ন্ত্রিত যান সড়কে চলাচল করছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ না করে সঠিক নীতিমালা, নিবন্ধন ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রিত চার্জিং স্টেশন চালু করা জরুরি। তা না হলে বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি— দুটোই ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যে ১২ দেশে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কর্মী পাঠানো যাবে না
বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা, মানবপাচার ও শোষণ ঠেকাতে ১২টি দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার।
যে ১২ দেশে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কর্মী পাঠানো যাবে না
ইকবাল সোবহানকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত‍্যা মামলায় 
বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
ইকবাল সোবহানকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত‍্যা মামলায় 
আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে প্রথমে হেলিকপ্টারে মোংলা যাবেন প্রধানমন্ত্রী, এরপর সেখান থেকে সড়ক পথে খুলনা যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। 
আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে আগের মতো এখন আর ভোগান্তি নেই: বিমানমন্ত্রী 
বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহ ও ব্যাগ নিয়ে যাত্রীদের আগের মতো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার মান নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে সম্প্রতি দেখা দেওয়া যান্ত্রিক ত্রুটি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, ঢাকা থেকে উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় যাত্রা শুরু করেছিল। তবে জাপান থেকে ফেরার পথে উড়োজাহাজের ডানার পেছনের অংশে থাকা ফ্ল্যাপে কিছুটা যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। এ ধরনের ছোটখাটো ত্রুটি উড়োজাহাজ চলাচলে অস্বাভাবিক নয়। তবে এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পূর্ণাঙ্গভাবে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্যে জাপানের দেওয়া বিভিন্ন শর্ত মেনে নেওয়া হয়েছে। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে বর্তমান টার্মিনাল ১ ও ২ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করা হবে। তবে টার্মিনাল দুটি পরিত্যক্ত রাখা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নতুন টার্মিনালে স্থানান্তরের পর পুরোনো দুটি টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি কার্গো, চার্টার্ড ও ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনার কাজেও এগুলো ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া সরকার নতুন একটি বাজেট এয়ারলাইন্স চালুর পরিকল্পনা করছে। এর কার্যক্রমও টার্মিনাল ১ ও ২-কে কেন্দ্র করে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই বলেও জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করতে অন্তত ১০ থেকে ১২ বছর সময় প্রয়োজন। আর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ বছর লেগে যায়। তাই আপাতত বিদ্যমান বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার উন্নতির এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী। আরটিভি/এসকে
বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে আগের মতো এখন আর ভোগান্তি নেই: বিমানমন্ত্রী 
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক: শ্রমমন্ত্রী
শ্রমমন্ত্রী বলেছেন, যেসব মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তারা যেন সেগুলো খুলে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। শ্রমিক নেতাদেরও নিজ নিজ কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক: শ্রমমন্ত্রী
আরও পড়ুন
৬২ হাজার টন কয়লা নিয়ে পায়রা বন্দরে সিঙ্গাপুরের জাহাজ
আজ দেশের যেসব এলাকায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
ঢাকার যেসব এলাকায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বৃহস্পতিবার
আগামী বছর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী