ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

১৬ মাসে দেশে ঢুকেছে দেড় লাখ রোহিঙ্গা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০৩:১৬ এএম
লাগাতার অনুপ্রবেশে ধ্বংস হচ্ছে বনভূমি ধেয়ে আসছে বড় মানবিক বিপর্যয়। ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজারে নতুন অনুপ্রবেশ ও ক্যাম্পে উচ্চ জন্মহারের কারণে রোহিঙ্গাসংকট দিনদিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। শুধু ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনেই নতুন করে দেড় লাখ অনুপ্রবেশের কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন গড়ে জন্ম নিচ্ছে শতাধিক শিশু।

১৩ মে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত ও সহিংসতার কারণে ১৬ মাসে নতুন করে দেড় লাখের মতো রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। মাসিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬৯ জন রোহিঙ্গা নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে গত মাসে ২ হাজার ৭৮০ জন নতুন আগত হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছেন, প্রায় ২৮ লাখ জনসংখ্যার এ জেলায় এখন অতিরিক্ত প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গার চাপ সামলাতে হচ্ছে। মাত্র ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের ফলে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী এলাকাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। উখিয়া ও টেকনাফে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ হলেও সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সংখ্যা তার প্রায় দ্বিগুণ। অতিরিক্ত এ জনসংখ্যার চাপ স্থানীয় অর্থনীতি, সামাজিক ভারসাম্য, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নতুন করে আগতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু হওয়ায় মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতার মাত্রাও বাড়ছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিবন্ধিত শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬৪-তে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার বেশি। তথ্যানুযায়ী, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯৯০ সাল থেকে বাস্তুচ্যুত মোট ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৪ রোহিঙ্গাকে নিবন্ধন করেছে ইউএনএইচসিআর। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছেন, ক্যাম্পের ভিতরে ও বাইরে মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ এবং মোট পরিবারসংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজার ২৭৪টি।

জনসংখ্যাগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রোহিঙ্গার মধ্যে ৫২ শতাংশ শিশু, ৪৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৪ শতাংশ প্রবীণ। লিঙ্গভিত্তিক হিসাবে ৪৯ শতাংশ পুরুষ ও ৫১ শতাংশ নারী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ শিশু জন্ম নিচ্ছে। বছরে প্রায় ৩০ হাজার শিশুর জন্ম হওয়ায় সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে শিক্ষাসংকট, পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, রক্ষণশীল সামাজিক কাঠামো, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণে অনীহা এসব কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্মহার অস্বাভাবিক বেশি। ফলে সরকারের ‘দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো হয়’ নীতির কার্যকর প্রয়োগ সেখানে সম্ভব হচ্ছে না। ক্রমবর্ধমান এ জনসংখ্যার ভরণপোষণ, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে চরম চাপে পড়েছে সরকার ও মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো যৌথভাবে ২০২৫-২৬ সালের জেআরপি (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান) বাস্তবায়নে ৯৩ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা চেয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও ২০২৫ সালের মাঝামাঝি মাত্র ২১ দশমিক ৭ শতাংশ অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন না পেলে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার শিশুর শিক্ষাকার্যক্রম ঝুঁকিতে পড়বে। এর মধ্যে ৬৩ হাজার নতুন আগমনকারী শিশুও রয়েছে। ১১ মে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এনজিও প্রতিনিধিদের মোর্চার (সিসিএনএফ) কো-চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাসংকট মোকাবিলা ও প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে দ্রুত একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন গঠন জরুরি।’ তিনি আরও বলেন, ‘উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল থাকায় প্রতিনিয়ত নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘ক্যাম্পে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এবং এটি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত করবে।’

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে ইতোমধ্যে কক্সবাজারের প্রায় ৮ হাজার একর বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক নিচে নেমে যাচ্ছে। বন ও পাহাড় উজাড়ের কারণে বন্যহাতিসহ বিভিন্ন প্রাণীর বিচরণও সীমিত হয়ে পড়েছে।


আরটিভি/কেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
একনেকে অনুমোদন পেল নতুন ১১ প্রকল্প
নতুন ১১ প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। 
একনেকে অনুমোদন পেল নতুন ১১ প্রকল্প
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। তিনি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং চীন-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানান। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষযটি উল্লেখ করে বলেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। কুনমিং ও চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করার প্রস্তাবিত করিডোর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরসহ বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান তিনি। এ সময় রাষ্ট্রপতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং’কে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ করে প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহায়ক খাতগুলোতে বিনিয়োগের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। চীনের মন্ত্রী এ সময় সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ইত্যাদি বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালের অর্থায়ন ও নির্মাণে সহযোগিতা করায় চীনকে ধন্যবাদ জানান এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে চীনের অব্যাহত সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন। চীনের মন্ত্রী এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন। পাশাপাশি চলমান জ্বালানি সংকটে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। রাষ্ট্রপতি ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে বলেন, ঐতিহাসিক সফরগুলো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। লিউ লিউ হাইশিং বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় চীনের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় এই সম্পর্ক আরো জোরদার হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় এবং বিস্তৃত হবে বলে চীনা মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি চীনে তার সর্বশেষ সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সফররত মন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠকগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারে সহায়ক ভুমিকা রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত জুনে চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সফরটি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় এবং সফরকালে সমঝোতা স্মারকসহ বিভিন্ন সহযোগিতা-সংক্রান্ত দলিল স্বাক্ষরকে রাষ্ট্রপতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি লিউ হাইশিংয়ের অব্যাহত সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। এর আগে মন্ত্রী লিউ হাইশিং বঙ্গভবনে এসে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি তাকে অভ্যর্থনা জানান এবং ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি তার সচিবদেরকে চীনের আন্তর্জাতিক মন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লিউ ইউইন, সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব (সমন্বয়) সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতি চীনের আন্তর্জাতিক মন্ত্রীসহ প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যকে বঙ্গভবন পরিদর্শন করান। এ সময় চীনা মন্ত্রীর পিতা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত লিউ শুকিং ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে পরিচয়পত্র পেশের ভিডিওচিত্র এবং এল জি আর ডি মন্ত্রী থাকাকালে রাষ্ট্রপতির চীন সফরের আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, জন বিভাগের সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান
বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে অভিন্ন স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন রয়েছে: স্পিকার
বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে অভিন্ন স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা। এ সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে অভিন্ন স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন রয়েছে। কসোভোর জনগণ দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সংস্কৃতির নিবিড় সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরে নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে এদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে বিগত সরকারের নৃশংস এবং বর্বরোচিত শাসনামলের চিত্র ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, ২৪-এর জুলাই গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারের অবসান হয় এবং বাংলাদেশের পুনরায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সূচিত হয়। স্পিকার আরো বলেন, এদেশের জনগণ গণতন্ত্র প্রিয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এদেশের ইতিহাসে অন্যতম অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের আকাঙ্খা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা বলেন, বাংলাদেশে নতুন এক গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বর্তমান সংসদের সংসদ-সদস্যদের সংসদীয় বিতর্কে সক্রিয় অংশগ্রহণ খুবই প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। তারা মানসম্মত শিক্ষা ও তথ্য-প্রযুক্তির জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। রাষ্ট্রদূত এসময় কসোভোকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দানের জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং স্পিকারকে কসোভো সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। সাক্ষাতকালে তারা উভয়েই দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় ককাস গ্রুপ গঠন, ব্যবসা ও বিনিয়োগের প্রসার, যৌথ একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিনিময়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে কসোভোর দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে অভিন্ন স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন রয়েছে: স্পিকার
বিএনপি সরকারের আমলেই শরীয়তপুর হয়ে কুয়াকাটা যাবে রেললাইন: হুইপ অপু
বিএনপি সরকারের আমলেই ঢাকা থেকে শরীয়তপুর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।
বিএনপি সরকারের আমলেই শরীয়তপুর হয়ে কুয়াকাটা যাবে রেললাইন: হুইপ অপু
২০২৭ সাল ঘিরে বড় সুখবর, দুই ঈদে থাকছে লম্বা ছুটি
গত ২ নভেম্বর মন্ত্রিসভা বৈঠকে ২০২৬ সালের ছুটির তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। আগামী বছর সাধারণ ছুটি ১৫ দিন ও নির্বাহী আদেশে ছুটি ১৪ দিন।
২০২৭ সাল ঘিরে বড় সুখবর, দুই ঈদে থাকছে লম্বা ছুটি
আরও পড়ুন
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সমর্থন চাইল বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত: প্রধানমন্ত্রী
আলীকদমে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ