ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

জিয়া স্মৃতি জাদুঘর: মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের ধারক-বাহক

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
জিয়া স্মৃতি জাদুঘর। ছবি : বাসস

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ধারণ করে থাকা ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ আজও এক সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও আদর্শিক উত্তরাধিকারের ধারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

দেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী জিয়াউর রহমানের রক্তমাখা স্মারক, ব্যবহৃত সামগ্রী ও বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় ধুলোয় আচ্ছন্ন হয়ে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

তবে এই জাদুঘরটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার অনুসারী, ভক্ত ও রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য আদর্শচর্চা এবং তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে। এখানে সংরক্ষিত রয়েছে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত নোট, ১৯ দফা কর্মসূচি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মূলনীতি সম্পর্কিত নানা দলিল, যা নতুন প্রজন্মকে তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।

দর্শনার্থীরা এখানে এসে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির অত্যন্ত সাধারণ খাদ্যতালিকা, নিজ হাতে লেখা রাজনৈতিক নোট, বিভিন্ন বিষয়ে ব্যক্ত করা মতামত এবং তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি দেখে বিস্মিত হন। এসব থেকে নতুন প্রজন্ম ও রাজনৈতিক কর্মীরা তাঁর জীবনদর্শন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা লাভ করতে পারেন।

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পরও অন্যতম জনপ্রিয় এই রাষ্ট্রনায়কের নামে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরটি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র স্টেডিয়াম-কাজীর দেউড়ি এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ৩ দশমিক ১৭ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ১৯১৩ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্যাগোডা ধাঁচের স্থাপত্যশৈলীর প্রতীক হিসেবে নির্মিত ভবনটিতে একই সঙ্গে স্থানীয় বহুস্তরবিশিষ্ট টিনশেড ঘরবাড়ির নকশারও সাদৃশ্য রয়েছে। চারপাশের সবুজে ঘেরা এই স্থানটি নগরবাসীর কাছেও বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এই ভবনটিতে ক্যাম্প স্থাপন করে এটিকে নির্যাতনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল। সেখানে পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য নিরীহ বাঙালি ও মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ভবনটি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক নীরব সাক্ষী।

স্বাধীনতার পর থেকে এটি সার্কিট হাউস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাতে এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কিছু উচ্ছৃঙ্খল সেনা সদস্যদের হাতে এখানেই নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ৩ জুন অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই পুরনো সার্কিট হাউসটিকেই জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিজস্ব স্থাপত্য ও নির্মাণশৈলীর কারণেও এটি একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা।

দীর্ঘ সাড়ে আট বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে প্রধানমন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন

জাদুঘরে সংরক্ষিত জিয়ার হাতে লেখা নোটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো; ‘শুধু রাজনৈতিক দর্শনই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে অবশ্যই একটি আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি থাকতে হবে’; ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে হতে হবে বহির্বিশ্বমুখী’; ‘আমি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের জন্য যুদ্ধ করেছি’; ‘দল হবে জনগণভিত্তিক’ এবং ‘দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণকে আর বিভ্রান্ত করা উচিত নয়’। রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের উদ্দেশে দেওয়া এসব বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি এবং কৃষি বিপ্লবের মূল রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরেছিলেন।

যে দেশে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা ব্যক্তি বা ভিআইপিদের ভোগবিলাস ও অর্থ অপচয়ের নেতিবাচক ধারণা প্রচলিত, সেখানে একজন রাষ্ট্রপতির অত্যন্ত সাদামাটা খাদ্যতালিকা যে কাউকেই বিস্মিত করে। ১৯৮১ সালের ২৯ মে থেকে ৩০ মে সকাল পর্যন্ত এই সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্য নির্ধারিত চূড়ান্ত খাদ্যতালিকাটি তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিখিতভাবে পাঠিয়েছিলেন।

তালিকা অনুযায়ী দুপুরের খাবারে ছিল দুধ-চিনিসহ চা, পাউরুটি, মাখন, ভাজা মাছ ও চিপস, রোস্ট চিকেন, সবজি, ফ্রুট ককটেল এবং লেবু। রাতের খাবারে ছিল সাদা ভাত, চিকেন স্যুপ, পুডিং, মুরগির মাংস, মাটন দোপেঁয়াজা, ডাল ও সালাদ। এছাড়া বিকেলের নাশতায় ছিল দুধ-চিনিসহ ইস্পাহানী চা, হক ব্র্যান্ডের লবণযুক্ত বিস্কুট এবং লেবু।

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে শুধু শহীদ রাষ্ট্রপতির স্মৃতিচিহ্নই নয়, বরং মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বমোট ৮৭৬টি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের মাইক্রোফোন ও টেবিলের প্রতিরূপ (যেখান থেকে তৎকালীন মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দেন), সাত বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর কমান্ডারদের ছবি, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত পুরোনো মডেলের রাইফেল, ১৯৭১ সালে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল স্মরণে মেজর জিয়ার ডাকঘর উদ্বোধনের প্রতিরূপ, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্য, জেড ফোর্সের লেটারপ্যাড ও খাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মনোগ্রাম এবং মেজর জিয়ার সামরিক পোশাক।

জাদুঘরের এক কর্মকর্তা জানান, ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলের সবচেয়ে বড় জাদুঘরই নয়, এটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গবেষণারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

সম্প্রতি জাদুঘরটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, এর মূল ভবনটি বর্তমানে চরম অবহেলায় জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার দেয়াল এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কাঠের সিঁড়ি ও জানালাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্বর্ণ ও ধাতব পদক, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের ভারী যন্ত্রপাতি, যেখান থেকে ১৯৭১ সালের মার্চের উত্তাল ও অনিশ্চিত সময়ে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান দু’দফা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সেই কালো রাতে ব্যবহৃত ভিআইপি কক্ষের আসবাবপত্র, রক্তমাখা ম্যাট, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাহাড়ি ঢালে তাঁর প্রথম কবরস্থান থেকে মরদেহ ঢাকায় নেওয়ার স্ট্রেচার, খাল খনন কর্মসূচিতে তাঁর বিখ্যাত বসার ভঙ্গির প্রতিরূপসহ অনেক নিদর্শনে মরিচা ধরেছে বা বিবর্ণ হয়ে গেছে। ভবনের দেয়ালেও ফাটল দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সংরক্ষণে যথাযথ উদ্যোগের অভাবেই স্থাপনাটি ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাদুঘরের এক কর্মী বাসস’কে বলেন, ‘সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ বিগত সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কাজ ছিল না। এ কারণেই বর্তমানে জাদুঘরটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের একটি প্রভাবশালী মহল শহীদ রাষ্ট্রপতির স্মৃতি মুছে ফেলতে জাদুঘরটি বিলীন করার চেষ্টাও চালিয়েছিল।’

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ২০ মার্চ জাদুঘরটি পরিদর্শনকালে জানান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই স্মৃতি সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় এটিকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা (হেরিটেজ সাইট) হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে শতবর্ষী এই ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটি শুধু একটি ভবন নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও জনগণের আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য।’

এর আগে গত ২৪ মার্চ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীও জাদুঘরটি পরিদর্শন করেন এবং এর বর্তমান অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ২ ডিসেম্বর ভূমিকম্পের প্রভাবে দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি সংলগ্ন দেয়ালের একটি অংশ ধসে পড়লে নিরাপত্তাজনিত কারণে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়।

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের প্রশাসক অর্পিতা দাস গুপ্ত জানান, বিশেষ বরাদ্দের আওতায় ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে, যা আগামী জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ভবনের দেয়াল স্ক্র্যাপিং, রঙ করা, সীমানা প্রাচীর ও মূল কাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ, বাগানের আলোকসজ্জা এবং বিশ্রামাগার সংস্কারের কাজ চলছে।

শতবর্ষী এই স্থাপনাকে ‘ইতিহাসের স্মারক প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব বাসস’কে জানান, জাদুঘরটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এর মূল কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে তিন ধাপের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে এটিকে হেরিটেজ সাইট ঘোষণা, দ্বিতীয় ধাপে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার এবং তৃতীয় ধাপে আংশিকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম এবং জনগণের আবেগের সঙ্গেও এটি গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

তাই একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে পেশাগত দৃষ্টিকোণ থেকে যথাযথ সংরক্ষণের স্বার্থে উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের আরও বেশি মনোযোগ প্রয়োজন, যাতে শতবর্ষী এই স্থাপনা এবং এর ভেতরে সংরক্ষিত অমূল্য নিদর্শনসমূহ যথাযথভাবে আগের অবস্থায় সংরক্ষিত রাখা যায়। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কোনো নিদর্শন মুছে ফেলা বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও জানান, চলমান সংস্কার ও মেরামত কাজ শেষ হওয়ার পর দর্শনার্থীদের আগ্রহ ও কৌতূহল বিবেচনায় বর্তমানে বন্ধ থাকা জাদুঘরের একটি অংশ আবারও খুলে দেওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আমরা প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি: নুরুল হক
প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের জন্য বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা ১১টি খাত নির্ধারণ করেছি। আপাতত এসব খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রবাসীদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।  এ লক্ষ্যে আমরা প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন জায়গায় এই কার্ডের কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি সংস্থা রামরুর ত্রিশ বছর উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত সম্মেলনে প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। জোরপূর্বক ও স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি নিয়ে কাজের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’ করেছে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)। অনুষ্ঠানে নুরুল হক বলেন, প্রবাসীরা আমাদের সোনার মানুষ। তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং তাদের মর্যাদা রক্ষায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশেষ করে, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি যখন ২০০৮ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তখন বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি গুগল মিট ও জুমের মাধ্যমে কথা বলেছি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখেছি, প্রবাসীদের প্রধানত তিনটি সাধারণ সমস্যা রয়েছে। প্রবাসীদের সমস্যা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমত, দেশে পাসপোর্ট তৈরি করতেও অনেক সময় দালালের সহায়তা নিতে হয়। পাসপোর্ট সেবায় দালালচক্র ও দুর্নীতি বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। দ্বিতীয়ত, অনেক প্রবাসী বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ পান না। ঋণ করে বিদেশে যাওয়ার পর প্রত্যাশিত কাজ না পেয়ে তাদের অনেক কষ্টে টিকে থাকতে হয়। তৃতীয়ত, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে সেবা পেতে তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এর পাশাপাশি বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনাসহ আরও বিভিন্ন সমস্যার কথাও তারা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের জন্য বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা ১১টি খাত নির্ধারণ করেছি। আপাতত এসব খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রবাসীদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আমরা প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।  ‘জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন জায়গায় এই কার্ডের কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। প্রবাসী কার্ডটি আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে তাদের মৌলিক তথ্য সংরক্ষণ থেকে শুরু করে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস এবং দেশে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা পাওয়ার বিষয়টি সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।’ অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে জমিজমা-সংক্রান্ত সমস্যায় পড়েন। এসব সমস্যার সমাধানে দ্রুত সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, বিশেষ করে সাত দিনের মধ্যে, প্রয়োজনীয় সেবা বা প্রতিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করার জন্য প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে তিন শতাংশ প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে। ইন্টেরিম সরকারের কথা উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, আগের সরকারের আমলে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকটিকে সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসী কার্ডের সঙ্গে এই ব্যাংকের সংযোগ থাকবে বলেও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রবাসীদের তিন লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এই ঋণসুবিধার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রবাসীরা দেশে ফিরে ব্যবসা করতে চাইলে, কোনো উদ্যোগ নিতে চাইলে কিংবা বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ নিতে চাইলে তাদের সহযোগিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঋণপ্রাপ্তি আরও সহজ ও সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই, প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠান। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অবৈধ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সরকার কাজ করছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তরুনদের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদানের কথা বলেছেন। অভিবাসন খাতেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা রয়েছে। আমি আশা করি, গত তিন দশকে এই খাতে তাদের অভিজ্ঞতা ও অর্জন আগামী দিনেও বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরুণেরা যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। উল্লেখ্য, গত তিন দশকে আরএমএমআরইউ ১০০টির বেশি গবেষণা পরিচালনা, ১৩টি জাতীয় নীতি ও কৌশল প্রণয়নে অবদান এবং বাংলাদেশের ২১ জেলায় অভিবাসীদের অধিকারভিত্তিক সেবা প্রদান করেছে। এসব কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা, অভিবাসনসংক্রান্ত নতুন জ্ঞান বিনিময় এবং আগামী দিনের নীতিগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।  সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন অনুষ্ঠান সঞ্চালক রামরুর উপনির্বাহী পরিচালক মোতাসিম বিল্লাহ এবং পরিচালক (প্রোগ্রাম) মারিনা সুলতানা। এরপর রামরুর অভিবাসন শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া এতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম বিষয়ক উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি, গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর
আমরা প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি: নুরুল হক
রূপপুরে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে রোসাটমের ওআইএসএস প্রযুক্তি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
রূপপুরে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে রোসাটমের ওআইএসএস প্রযুক্তি
ইলিশের উৎপাদন বাড়তে সরকারের বড় উদ্যোগ  
জাতীয় মাছ ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ নিয়ে কাজের অংশ হিসেবে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন...
ইলিশের উৎপাদন বাড়তে সরকারের বড় উদ্যোগ  
কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে ‘বড় সরবরাহ’
নবায়নযোগ্য জ্বালানির যে সম্ভাবনা তার অন্যতম উদাহরণ রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে গড়ে ওঠা দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সূর্যের আলো থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে পড়ে থাকা পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে ৭ বছর আগে গড়ে ওঠা এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট সোলার বিদ্যুৎ। যার বাণিজ্যিক বাজার মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।
কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে ‘বড় সরবরাহ’
নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: ডা. জাহেদ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। ডা. জাহেদ জানান, ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আওয়ামী সন্ত্রাস। এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার। প্রতিশোধ নয়, ন্যায় বিচার নিশ্চিতে হাসিনাকে ফেরত চায় ঢাকা। তিনি বলেন, রিকনসিলিয়েশনের জন্য যারা মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ করেছে তাদের বিচার হতে হবে। যে দল মানবতাবিরোধী অপরাধ করে চলে গেছে, তার জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত অনুতাপের কোনও লক্ষণ নেই, উপরন্তু তারা নানা রকম সংকট করার চেষ্টা করছে। ড. ইউনূসকে হেনস্তা করার চেষ্টা হয়েছে। তার অপরাধ হচ্ছে তিনি শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেন নিয়েছেন। শুধু এটি নয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একই ধরনের আচরণের চেষ্টা হয়েছে।  তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যে দল প্রকাশ্যে দেশের ভেতরে নানারকম সহিংসতা ও সন্ত্রাস উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করে তাদের দলের প্রধান করে; সেখানে সরকারের দিক থেকে রিকনসিলিয়েশনের ইনিশিয়েটিভ নেয়ার প্রশ্নই আসে না। রিকনসিলিয়েশনের নূন্যতম কোনো সম্ভাবনা যদি থেকে থাকে, তাহলে সেটি আওয়ামী লীগকে তার জায়গা থেকে বলার কথা ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, দুই বছর পরে এবং তাদের আচরণ দেখে রিকনসিলিয়েশনের আদৌ কোনও সম্ভাবনা আমি দেখি না। ক্ষমা চাওয়া, অনুতাপ দূরে থাকুক; তারা হুমকি দিচ্ছে এবং নানা রকম সহিংসতা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার চেষ্টা প্রেশার গ্রুপ ট্রুপ কিছু না, এগুলো আওয়ামী সন্ত্রাস। সেটা নিয়ে লিগ্যাল প্রসেস শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এ ধরনের পদক্ষেপ আনচ্যালেঞ্জড যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আরটিভি/ এমএ
নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: ডা. জাহেদ
আরও পড়ুন
জুলাই জাদুঘরের নথি হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ: নেদারল্যান্ডসের উপমন্ত্রী
চবিতে সময় যেখানে থেমে আছে ইতিহাসের মাঝে
ফের জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের নতুন মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ