ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

পাঠ্যবইয়ে জিয়াউর রহমানের নিবন্ধ অন্তর্ভুক্তির পরামর্শ বিশিষ্টজনদের

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুল আলোচিত নিবন্ধ ‘একটি জাতির জন্ম’ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা ও ইতিহাসবিদসহ বিশিষ্টজনরা। তারা বলছেন, এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারবে।

১৯৭২ সালে প্রথম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকায় এই নিবন্ধ প্রথম প্রকাশিত হয়। পরে ১৯৭৪ সালে স্বাধীনতা দিবসে একই পত্রিকার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’য় লেখাটি পুনর্মুদ্রণ করা হয়।

আগামীকাল (৩০ মে) মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হবে। এ উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন-কর্ম, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতিগঠনে তাঁর অসামান্য অবদান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ‘ঐতিহাসিক দলিল’ হিসেবে তাঁর ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধটি পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত করতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশিষ্টজনরা।

বাংলা একাডেমির সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক নিবন্ধটিকে একটি ‘ঐতিহাসিক দলিল’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এটি একটি চমৎকার লেখা এবং ঐতিহাসিক দলিল। এটি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেনও ফজলুল হকের বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে বলেন, অবশ্যই, এটি অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। দিন দিন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য এই নিবন্ধ পাঠ্যপুস্তকের অংশ হওয়া উচিত।

আরও কয়েকজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ বলেছেন, প্রবন্ধটি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয় সম্পর্কে ঐতিহাসিক নানা বিষয় জানতে পারবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমি নিবন্ধটি পড়েছি। এটি অত্যন্ত তথ্যবহুল লেখা। এতে বিভ্রান্তিকর কিছু নেই। এটি বাংলাদেশ স্টাডিজ সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিল বলেন, নিবন্ধটিতে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে নতুন প্রজন্মের এই ইতিহাস সম্পর্কে জানা উচিত।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করার পরপরই তৎকালীন সেনাবাহিনীর মেজর জিয়া বন্দর নগরী চট্টগ্রামে তাঁর অধীনস্থ বাঙালি সেনাদের সংগঠিত করে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। সে সময় তিনি অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ছিলেন।

‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধটি যখন প্রকাশিত হয়, সে সময় জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তখন তাঁর র‌্যাঙ্ক ছিল মেজর জেনারেল। ১৯৭১ সালের একজন জ্যেষ্ঠ অভিজ্ঞ সেনা কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি এ পদে উন্নীত হয়েছিলেন।

২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। জিয়াউর রহমান এই দিনটিকে তাঁর স্মৃতিচারণমূলক নিবন্ধে ‘বাঙালির হৃদয়ে রক্তাক্ষরে লেখা দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

নিবন্ধে জিয়া লিখেছেন, সময় ছিল অতি মূল্যবান। আমি ব্যাটেলিয়নের অফিসার, জেসিও, আর জওয়ানদের ডাকলাম। তাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলাম। তারা সবই জানতো। আমি সংক্ষেপে সব বললাম এবং তাদের নির্দেশ দিলাম সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে। তারা সর্বসম্মতিক্রমে হৃষ্টচিত্তে এ আদেশ মেনে নিলো।

জিয়া উল্লেখ করেন, এরপর তিনি সেনাদের নিয়ে বন্দর নগরীর উপকণ্ঠ কালুরঘাট এলাকায় চলে যান।

ইতোমধ্যে বাঙালি বেতার কর্মীরা সেখানে একটি অস্থায়ী ও গোপন ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ স্থাপন করেছিলেন। সেখান থেকেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

স্মৃতিচারণ নিবন্ধটিতে জিয়া ছাত্রজীবন এবং সৈনিক জীবনের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতার আলোকে পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালিদের সাংস্কৃতিক দমন-পীড়ন এবং রাজনীতিতে কোণঠাসা করে রাখার কথাও তুলে ধরেন।

বিশেষ করে দীর্ঘ সামরিক শাসনের ভয়াবহতার কথা বর্ণনা করেছিলেন।

তিনি লেখেন, পাকিস্তান সৃষ্টির পর জনাব জিন্নাহ (পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা) তার ঐতিহাসিক ঢাকা সফরে ঘোষণা করছিলেন, ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। আমার মতে সেদিন থেকেই বাঙালিদের হৃদয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ বপন হয়।

জিয়া তাঁর লেখায় আরও বলেন, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা নিজেই সেদিন ঢাকায় এই অস্বাভাবিক দেশটির ধ্বংসের বীজ বুনে দিয়েছিলেন।

তাঁর মতে, পাকিস্তানি জান্তার কর্মকাণ্ডই বাঙালির সশস্ত্র প্রতিরোধকে অপরিহার্য ও অনিবার্য করে তুলেছিল।

নিবন্ধে জিয়াউর রহমান তাঁর নিজের মনে গভীর রেখাপাত করা প্রধান রাজনৈতিক ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে বিররণ দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন; ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচন; আইয়ুব খানের সামরিক শাসন; ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ; ষাটের দশকের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন।

পাকিস্তানি শাসকদের ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্ব পাকিস্তানের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা, বাঙালিদের প্রতি অবমাননাকর মনোভাব এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমনের পদক্ষেপ; এসবই বাঙালিদের শেষ পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধের দিকে ধাবিত করেছিল বলেও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন জিয়া।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে দায়ের করা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে আরও সুসংহত করেছিল।

জিয়া লিখেছেন, ওই মামলার পরিণতি (শেখ মুজিবের নিঃশর্ত মুক্তিলাভ) বাঙালি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলে... তারা বাঙালি (বেসামরিক) জনগণের সঙ্গেও সংহতি প্রকাশ করে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় পাকিস্তানি শাসকদের জন্য ছিল বড় এক ধাক্কা।

ক্ষমতা হস্তান্তরে তাদের টালবাহানা ও ষড়যন্ত্র রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে, ফলে ১৯৭১ সালের মার্চে দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।

জিয়া লিখেছেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তখন গোপনে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করতে শুরু করে।

আর সেই প্রেক্ষাপটেই শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।

নিবন্ধে আরও বলা হয়, রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ আমাদের কাছে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ হিসেবে এসেছিল। এরপর আমরা আমাদের পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপ দিলাম...তারপরই নেমে এলো ২৫ ও ২৬ মার্চের কালরাত।

জিয়া উল্লেখ করেন, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালায়। সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তগুলোই বাঙালিদের জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণে পরিণত হয়।

মুক্তিযুদ্ধে জিয়া প্রথমে একটি সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন এবং পরে তাঁর অধীনে থাকা ইউনিটটি ‘জেড ফোর্স’ নামক একটি ব্রিগেড-আকারের বাহিনীতে রূপ নেয়।

নিবন্ধটি বর্তমানে অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে।

১৯৭১ সালের অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সামরিক জেনারেল জিয়াউর রহমান পরবর্তী সময়ে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আনেন এবং ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’- এর প্রবর্তন করেন, যা ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব, ধর্মীয় পরিচয় এবং বহু-সাংস্কৃতিক নাগরিকত্বকে ধারণ করে।

ক্ষমতায় আসার পর তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন, একদলীয় বাকশাল শাসন বাতিল করেন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন, যাতে সব শ্রেণি, পেশা, জাতি ও ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ এগিয়ে যায়।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার বা প্রশাসন বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অবাধ-সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর ভোট করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করতে চায় সরকার। আগামী জুনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান মীর শাহে আলম। প্রসঙ্গত, আগামী বছরে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ইসি। রোজার আগে প্রথম ধাপে ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি এবং রোজার পরে তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে হবে ভোট।  আরটিভি/এসআর
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম
আমরা প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি: নুরুল হক
প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের জন্য বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা ১১টি খাত নির্ধারণ করেছি। আপাতত এসব খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রবাসীদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।  এ লক্ষ্যে আমরা প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন জায়গায় এই কার্ডের কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি সংস্থা রামরুর ত্রিশ বছর উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত সম্মেলনে প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। জোরপূর্বক ও স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি নিয়ে কাজের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’ করেছে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)। অনুষ্ঠানে নুরুল হক বলেন, প্রবাসীরা আমাদের সোনার মানুষ। তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং তাদের মর্যাদা রক্ষায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশেষ করে, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি যখন ২০০৮ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তখন বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি গুগল মিট ও জুমের মাধ্যমে কথা বলেছি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখেছি, প্রবাসীদের প্রধানত তিনটি সাধারণ সমস্যা রয়েছে। প্রবাসীদের সমস্যা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমত, দেশে পাসপোর্ট তৈরি করতেও অনেক সময় দালালের সহায়তা নিতে হয়। পাসপোর্ট সেবায় দালালচক্র ও দুর্নীতি বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। দ্বিতীয়ত, অনেক প্রবাসী বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ পান না। ঋণ করে বিদেশে যাওয়ার পর প্রত্যাশিত কাজ না পেয়ে তাদের অনেক কষ্টে টিকে থাকতে হয়। তৃতীয়ত, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে সেবা পেতে তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এর পাশাপাশি বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনাসহ আরও বিভিন্ন সমস্যার কথাও তারা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের জন্য বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা ১১টি খাত নির্ধারণ করেছি। আপাতত এসব খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রবাসীদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আমরা প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।  ‘জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন জায়গায় এই কার্ডের কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। প্রবাসী কার্ডটি আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে তাদের মৌলিক তথ্য সংরক্ষণ থেকে শুরু করে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস এবং দেশে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা পাওয়ার বিষয়টি সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।’ অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে জমিজমা-সংক্রান্ত সমস্যায় পড়েন। এসব সমস্যার সমাধানে দ্রুত সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, বিশেষ করে সাত দিনের মধ্যে, প্রয়োজনীয় সেবা বা প্রতিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করার জন্য প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে তিন শতাংশ প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে। ইন্টেরিম সরকারের কথা উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, আগের সরকারের আমলে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকটিকে সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসী কার্ডের সঙ্গে এই ব্যাংকের সংযোগ থাকবে বলেও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রবাসীদের তিন লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এই ঋণসুবিধার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রবাসীরা দেশে ফিরে ব্যবসা করতে চাইলে, কোনো উদ্যোগ নিতে চাইলে কিংবা বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ নিতে চাইলে তাদের সহযোগিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঋণপ্রাপ্তি আরও সহজ ও সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই, প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠান। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অবৈধ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সরকার কাজ করছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তরুনদের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদানের কথা বলেছেন। অভিবাসন খাতেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা রয়েছে। আমি আশা করি, গত তিন দশকে এই খাতে তাদের অভিজ্ঞতা ও অর্জন আগামী দিনেও বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরুণেরা যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। উল্লেখ্য, গত তিন দশকে আরএমএমআরইউ ১০০টির বেশি গবেষণা পরিচালনা, ১৩টি জাতীয় নীতি ও কৌশল প্রণয়নে অবদান এবং বাংলাদেশের ২১ জেলায় অভিবাসীদের অধিকারভিত্তিক সেবা প্রদান করেছে। এসব কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা, অভিবাসনসংক্রান্ত নতুন জ্ঞান বিনিময় এবং আগামী দিনের নীতিগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।  সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন অনুষ্ঠান সঞ্চালক রামরুর উপনির্বাহী পরিচালক মোতাসিম বিল্লাহ এবং পরিচালক (প্রোগ্রাম) মারিনা সুলতানা। এরপর রামরুর অভিবাসন শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া এতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম বিষয়ক উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি, গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর
আমরা প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি: নুরুল হক
রূপপুরে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে রোসাটমের ওআইএসএস প্রযুক্তি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
রূপপুরে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে রোসাটমের ওআইএসএস প্রযুক্তি
ইলিশের উৎপাদন বাড়তে সরকারের বড় উদ্যোগ  
জাতীয় মাছ ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ নিয়ে কাজের অংশ হিসেবে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন...
ইলিশের উৎপাদন বাড়তে সরকারের বড় উদ্যোগ  
কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে ‘বড় সরবরাহ’
নবায়নযোগ্য জ্বালানির যে সম্ভাবনা তার অন্যতম উদাহরণ রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে গড়ে ওঠা দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সূর্যের আলো থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে পড়ে থাকা পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে ৭ বছর আগে গড়ে ওঠা এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট সোলার বিদ্যুৎ। যার বাণিজ্যিক বাজার মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।
কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে ‘বড় সরবরাহ’
আরও পড়ুন
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
ইতিহাসে আজকের এই দিনে