বদলি-পদায়নের নামে টাকা আদায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার, অতঃপর...

আরটিভি নিউজ

রোববার, ২১ জুন ২০২৬ , ০২:১২ পিএম


বদলি-পদায়নের নামে টাকা আদায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার, অতঃপর...
ফাইল ছবি

বদলি ও পদায়নের কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নীলুফার সুলতানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ আবদুল্যাহ আল জাবেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। গত ১৮ জুন প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়।  

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নীলুফার সুলতানার বিরুদ্ধে রমনা থানার এক মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক প্রমাণাদি পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ডিএমপি ডিবি থেকে তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে গত ২২ মে মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তারের অনুমতি দেওয়া হয়।

এতে আরও বলা হয়েছে, মামলাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে নীলুফার সুলতানাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয় এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী, নীলুফার সুলতানাকে গ্রেপ্তারের তারিখ অর্থাৎ ২২ মে থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা পাবেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ নীলুফার সুলতানাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেফতার আরেকজন হলেন এম আমিনুর রহমান শান্ত।

গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ডিএমপি কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে একটি চক্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন ও পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক মহলের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ও পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ২১ মে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকা থেকে এম আনিসুর রহমান শান্ত নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা বিশ্লেষণ করে চক্রের আরেক সদস্য নীলুফার সুলতানার তথ্য পাওয়া যায়। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বদলি ও পদায়ন নিয়ে কথোপকথন, বায়োডাটা সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য বদলি আদেশের কপি আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রায় ২০ থেকে ২২ পৃষ্ঠার বিভিন্ন কথপোকথনের তথ্য পেয়েছি। সেখানে দেখা গেছে তারা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং কোথায় পদায়ন করে দিলে কত টাকা দেওয়া যাবে এ ধরনের কথাবার্তাও রয়েছে।

তবে, এখন পর্যন্ত কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। তদন্তে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এসএইচএম

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission