ফ্যাসিবাদ বিরোধী অপশক্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে। জুলাই অভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্রকামী সকল রাজনৈতিক দলসহ ছাত্র জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। এখানে কারো একক কৃতিত্ব ছিল না বলেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি আয়োজিত ‘আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের ক্রেডিট নেয়ার প্রতিযোগিতা এই অভ্যুত্থানের মূল স্পীডকে ব্যহত করছে। ফ্যাসিবাদকে বিদায় করা গেলেও এর মূল উপরে ফেলা যায়নি। এই সরকার জনগনের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাদের প্রতি রেসপেক্ট থাকতে হবে।
তরুণরাই পারবে মেরুদন্ড সোজা করে দেশের পরিবর্তন আনতে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণসহ সকল শ্রেণীপেশার মানুষের মাধ্যমেই সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফ, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য হচ্ছে অন্যের মতকে গ্রহণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। বিগত শাসনামলে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে খাদের কিনারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। জাতীয় সংসদকে অকার্যকর সংসদে পরিণত করা হয়েছিল। দেশের অর্থনীতিসহ সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ ভিন্ন মতামতকে অগ্রাহ্য করে একব্যক্তির শাসনে পরিণত করা হয়েছিল দেশকে। ফলে দীর্ঘদিনের শোষণ, নির্যাতন, লাঞ্চনা, বঞ্চনা, গুম—খুন—হত্যাসহ বহু পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ছিল জুলাই অভ্যুত্থান।
মুক্তিযুদ্ধের পর জুলাই আমাদের ইতিহাসের এক যুগান্তকারী দলিল, জুলাই আমাদের ঐক্যের প্রতীক। জুলাই ঐক্যে ফাটল ধরানো যাবে না। জুলাই ঐক্যে ভাঙন সৃষ্টি হলে দেশে অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তাই বর্তমন গণতান্ত্রিক সকল রাজনৈতিক দলসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে যুক্ত সকল পক্ষকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই ইতিহাসের মহানায়ক হিসেবে দেশের মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছে জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধারা। জুলাই শহীদরা মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের মতো জাতীয় বীর হিসেবে আখ্যায়িত হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে জুলাই শহীদদের রক্তের দাগ কখনও মুছে যাবে না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর প্রফেসর ড. মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন উপ—উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল বাশার ও কৃষি তথ্য সার্ভিস এর পরিচালক মো. মসীহুর রহমান প্রমূখ।
প্রধান অতিথি ব্যারিষ্টার ফারজানা শারমীন পুতুল, এমপি তার বক্তব্য শেষে ৭ দিনব্যাপি আয়োজিত আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬—এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
আরটিভি/এমএম


