ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিজ কার্যালয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। কার্যালয় প্রাঙ্গণে পা রাখার পর গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে।

স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) সকাল সোয়া ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবন প্রাঙ্গণে এমন অভ্যর্থনা পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।

এই উষ্ণ অভ্যর্থনার পর কার্যালয় ভবনের পঞ্চম তলায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত এক বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

malaysia

একান্ত এই বৈঠকের পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম এতে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম প্রমুখ।

বৈঠকে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

আরও পড়ুন

এই বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন দুই সরকারপ্রধান। সেখানে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদেরকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোই আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছি। আমি বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের শক্তিশালী সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি এবং সেই সুযোগগুলো অন্বেষণের জন্য মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

tarq334

সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরের সময় আমার মনে আছে, আমার বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। তার সেই সফর রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছিল এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে শ্রমিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। আমার মনে আছে, আমার মা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। তার সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত করেছে। উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য আমি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও জনগণকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান তার বক্তব্যে আরও বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং মানুষে-মানুষে নিবিড় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছি। আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক জোরদারে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।

tareq444

এরপর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, যৌথ কমিশনের বৈঠক এবং আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাসহ বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়াতে আমরা সম্মত হয়েছি। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানাই এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় এগিয়ে যেতে সম্মত হয়েছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনে জনগণের অপ্রতিরোধ্য সমর্থনে শক্তিশালী ম্যান্ডেট পেয়েছিল। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের খাত নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা আমাদের দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের অর্থনীতি ও সমাজ—উভয়েরই উপকারে আসে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশি চক্ষু রোগীদের জন্য চীনে ‘বিশেষ চিকিৎসাসেবা’
এ ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশি রোগীরা চীন সফরের আগেই চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ ও নথি পর্যালোচনার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি হাসপাতালে অগ্রাধিকার ভিত্তিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট, পৃথক আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দোভাষী সহায়তা এবং দেশে ফেরার পরও ফলো-আপ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
বাংলাদেশি চক্ষু রোগীদের জন্য চীনে ‘বিশেষ চিকিৎসাসেবা’
ঢাকা-কক্সবাজার রোডে নতুন ট্রেন, জেনে নিন সময়সূচি
ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করতে যাচ্ছে আন্তঃনগর ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেস। সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে নতুন রুটে চলাচল করবে ট্রেনটি। একই সঙ্গে কার্যকর হবে এর নতুন সময়সূচি। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আবু বকর সিদ্দিক। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে মহানগর এক্সপ্রেসের প্রথম যাত্রার উদ্বোধন করবেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটি রাত ৩টায় চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। এরপর রাত ৩টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। মহানগর এক্সপ্রেসের নতুন সময়সূচি নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। ফিরতি পথে ট্রেনটি কক্সবাজার থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। এরপর ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। যেসব স্টেশনের যাত্রীরা পাবেন সুবিধা মহানগর এক্সপ্রেসের রুট কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের ফলে ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। এতদিন ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস বিরতিহীন হওয়ায় এসব স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুবিধা পেতেন না। মহানগর এক্সপ্রেসের নতুন রুট চালু হলে মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোর যাত্রীদের ভ্রমণ আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে কক্সবাজারগামী পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি রেলওয়ের আয়ও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কোচ ও আসনসংখ্যা ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেসে থাকবে ১৬টি কোচ। ট্রেনটিতে আসনসংখ্যা হবে ৭০৬ থেকে ৭৩৬টি। প্রতি সপ্তাহের রোববার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে। নতুন রুটে ট্রেন চলাচল শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে সূত্র। গত ১৬ অক্টোবর থেকে এই রুটের টিকিট বিক্রিও শুরু হয়েছে। নতুন এই পরিষেবা চালু হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের জন্য কক্সবাজার যাতায়াত আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আরটিভি/এসকে
ঢাকা-কক্সবাজার রোডে নতুন ট্রেন, জেনে নিন সময়সূচি
মাদরাসায় বলাৎকার, কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার
মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে, ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
মাদরাসায় বলাৎকার, কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বার্তা 
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ বার্তা দেয় ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বার্তা 
এনআইডি সংশোধনে ‘বড় অগ্রগতি’
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন পর্যন্ত জমা পড়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি সংশোধন আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি। 
এনআইডি সংশোধনে ‘বড় অগ্রগতি’
আরও পড়ুন
কৃষকের ছেলের চোখের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দেশের ৫০০ মেরিন ক্যাডেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই অসহায় পরিবারের পাশে রাসিক প্রশাসক
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর