আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে পুশ ইন করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৩৪ পিএম


আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে পুশ ইন করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

ভারত বা অন্য দেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কোনো অনুপ্রবেশ বা পুশ ইন করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে দেশের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

সোমবার (২০ জুলাই) পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা অবৈধভাবে একজনকেও দেশে পুশ ইন হতে দিইনি। আমাদের বর্ডার গার্ড ও জনগণের সহায়তায় আমরা এখনো পর্যন্ত সফলভাবে তা ঠেকাতে সক্ষম হয়েছি।’

আরও পড়ুন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কিছু কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছিল। তবে তার সংখ্যা খুব বেশি নয় এবং সেসব অনুপ্রবেশকারীর বিষয়ে সরকার আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে পুশ ইন করতে দিইনি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে যাইনি। তবে মিয়ানমার সীমান্তে আমরা কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করার একটি প্রস্তাব রয়েছে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের তুলনায় মিয়ানমার সীমান্তের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। মিয়ানমার সরকার বা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির যুদ্ধাবস্থা এবং অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতায় বাংলাদেশ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে। এসব সংঘাতের আঁচ বাংলাদেশেও এসে পড়ছে।

তিনি বলেন, ‘এই অস্থিতিশীলতার কারণে মাদক চোরাচালান বাড়ছে এবং অনেক সময় ওপার থেকে আসা গোলাগুলির কারণে আমাদের নাগরিকেরা মারা যাচ্ছেন।’

সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাইন দুর্ঘটনা রোধে সরকার বিজিবিকে ইতিমধ্যে মাইন শনাক্তকরণের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে। বিজিবির সদস্যরা এসব যন্ত্র ব্যবহার করে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিবির লোকবল বৃদ্ধি এবং যানবাহন, সরঞ্জাম ও অস্ত্র সংগ্রহের মাধ্যমে বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো—সীমান্তে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্যের ভিত্তিতে বাহিনীর অভিযান চালানোর সক্ষমতা বাড়ানো।

মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির বড় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) প্রাথমিকভাবে বিজিবির ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেবে। আইনে ডিএনসির নিজস্ব ডগ স্কোয়াড তৈরির সুযোগ থাকলেও, সেটি প্রস্তুত করতে সময় লাগবে বলে আপাতত বিজিবির সহায়তা নেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক বন্যায় বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিজিবির সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন এবং ড্রোন ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন। সীমান্ত পাহারার মূল দায়িত্বের পাশাপাশি বিজিবির এ ধরনের জনসম্পৃক্ত ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission