গারো পাহাড়ে ভয়াবহ আগুন, ধ্বংসের মুখে জীববৈচিত্র্য

আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:৪৮ পিএম


গারো পাহাড়ে ভয়াবহ আগুন, ধ্বংসের মুখে জীববৈচিত্র্য
ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রচণ্ড খরতাপের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই আগুনে ছাই হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। ফলে শাল-গজারি বাগানের নবজাত চারাগাছসহ নানা প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরে গজনী ফরেস্ট বিটের হালচাটি, গান্ধীগাঁও ও রাবার বাগানসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুনের লেলিহান শিখা দেখা গেছে। পাহাড়ের ঢালে জমে থাকা শুকনো পাতা থেকে এই আগুন দ্রুত এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে সদ্য গজিয়ে ওঠা হাজার হাজার বনজ বৃক্ষ ও ওষুধি গাছ পুড়ে কয়লায় পরিণত হয়েছে। পাহাড়ের মাটির নিচে থাকা কেঁচো, ব্যাঙ, সাপসহ নানা উপকারী প্রাণী ও কীটপতঙ্গ আগুনে পুড়ে গেছে। এতে পাহাড়ের সামগ্রিক বাস্তুসংস্থান ভেঙে পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

আরও পড়ুন

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কাঠচোর সিন্ডিকেটের যোগসাজশে প্রতিবছর পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়। তারা বলছেন, বনাঞ্চলের গাছ দ্রুত নিলামে তোলা কিংবা গাছ চুরির অশুভ তথ্য গোপন করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে।

তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন বিভাগের দায়িত্বরতরা। ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানিয়েছেন, শুকনো মৌসুমে ঝরে পড়া পাতা থেকে অসাবধানতাবশত আগুন লাগার ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি দাবি করেছেন, পর্যাপ্ত লোকবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে তারা সীমিত সক্ষমতা নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

এদিকে এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন স্থানীয় একঝাঁক তরুণ।  ‘হাতির খবর ও সচেতনতা গ্রুপ’-এর উদ্যোগে বন সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যানার টাঙানো হয়েছে। এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে বিউটি অব ঝিনাইগাতী, প্রশাখা, আপন শিক্ষা পরিবার, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম ও গ্রিন ইনিশিয়েটিভ সিংগাবরুনার মতো একাধিক পরিবেশবাদী সংগঠন। 

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুষ্ক মৌসুমে গারো পাহাড়ের বনভূমি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। ঝরে পড়া শুকনো পাতা ও মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় বন অত্যন্ত দাহ্য হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় অসাবধানতা বা দুষ্কৃতকারীদের কারণে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি করে। এতে জীববৈচিত্র্য, মাটির উর্বরতা, জলচক্র ও জলবায়ুর ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission