ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

তিমিরও আছে আঞ্চলিক ভাষা, বলছে নতুন গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:১০ পিএম
তিমিরও আছে আঞ্চলিক ভাষা, বলছে নতুন গবেষণা । ছবি: সংগৃহীত

মানুষের মতো তিমিরও কি আলাদা আলাদা আঞ্চলিক ভাষা থাকতে পারে? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে ঠিক এমনই বিস্ময়কর তথ্য। এমনটাই জানা যায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদলু এজেন্সির এক প্রতিবেদন থেকে।

গবেষকদের দাবি, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে বসবাসকারী স্পার্ম তিমি একে ওপরের সঙ্গে ভিন্ন ধরনের শব্দের ছন্দে যোগাযোগ করে। অর্থাৎ, তাদেরও রয়েছে আলাদা ‘আঞ্চলিক ভাষা’।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি-তে। এতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে আলাদা এলাকায় বসবাস করার কারণে স্পার্ম তিমিদের যোগাযোগের ধরন ধীরে ধীরে বদলে গেছে। ঠিক যেমন মানুষের বিভিন্ন অঞ্চলে ভাষার উচ্চারণে পার্থক্য দেখা যায়।

কীভাবে কথা বলে স্পার্ম তিমি?

স্পার্ম তিমি শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করে না। তারা এক ধরনের ছন্দময় ‘ক্লিক’ শব্দের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই নির্দিষ্ট ছন্দের শব্দমালাকেই গবেষকেরা ‘কোডা’ নামে উল্লেখ করেছেন।

একই ধরনের শব্দের ছন্দ ব্যবহার করা তিমিরা সাধারণত একই সামাজিক দলে থাকে এবং একে ওপরকে সহযোগিতা করে।

আরও পড়ুন

গবেষণার সহলেখক ও সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লুক রেনডেল বলেন, এই শব্দের ধরনই তিমিদের সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কীভাবে করা হয়েছে গবেষণা?

গবেষণার জন্য ২০০৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে মোট ১১২ দিন সমুদ্রের নিচে শব্দ রেকর্ড করা হয়। গ্রিসের হেলেনিক ট্রেঞ্চ এবং স্পেনের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে থাকা স্পার্ম তিমিদের শব্দ বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই অঞ্চলের তিমিই চারটি ক্লিকের ধারাবাহিক শব্দ বেশি ব্যবহার করে। তবে শব্দের গতি ও ছন্দে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চলের তিমিরা প্রথম তিনটি ক্লিক প্রায় সমান বিরতিতে দিয়ে শেষে কিছুটা বিরতি নিয়ে চতুর্থ ক্লিক করে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের তিমিরা একই ধরনের শব্দ তুললেও সেটি অনেক দ্রুত গতিতে উচ্চারণ করে।

তবে গবেষকেরা আরও দেখেছেন, পূর্বাঞ্চলের কিছু তিমি মাঝেমধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের শব্দের ছন্দও ব্যবহার করে।

কেন বদলে গেল শব্দের ধরন?

গবেষকদের ধারণা, স্পার্ম তিমিরা প্রথমে ভূমধ্যসাগরের পশ্চিম অংশে বসতি গড়ে তোলে। পরে ধীরে ধীরে পূর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ভৌগোলিকভাবে আলাদা থাকার কারণে তাদের যোগাযোগের ধরনও বদলে যায় এবং তৈরি হয় নতুন আঞ্চলিক ভাষা।

গবেষণায় বলা হয়েছে, নতুন ভাষার ধরন তৈরি হতে হলে জনগোষ্ঠীর মধ্যে কিছুটা বিচ্ছিন্নতা থাকা প্রয়োজন। মানুষের ভাষা ও পাখির গানেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।

বিলুপ্তির ঝুঁকিতে স্পার্ম তিমি

বর্তমানে ভূমধ্যসাগরের স্পার্ম তিমিকে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গবেষকদের মতে, এই অঞ্চলে এখন মাত্র কয়েক হাজার স্পার্ম তিমি রয়েছে।

ধারণা করা হয়, প্রায় ২০ হাজার বছর আগে তারা ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছিল। এরপর থেকে বিশ্বের অন্যান্য স্পার্ম তিমির তুলনায় তারা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বসবাস করছে।

নতুন কী জানাল এই গবেষণা?

গবেষকদের মতে, এই গবেষণা আরও একবার প্রমাণ করল, স্পার্ম তিমির যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে মানুষের ভাষার অনেক মিল রয়েছে। শুধু জন্মগত বৈশিষ্ট্য নয়, শেখা আচরণ ও সামাজিক সংস্কৃতিও তাদের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিমিদের সমাজে কীভাবে নতুন আঞ্চলিক ভাষা তৈরি হয়, তার অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবেই দেখছেন বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাকে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ নীল আকাশের জন্য পরিচ্ছন্ন বায়ুর আন্তর্জাতিক দিবস 
বায়ুদূষণ রোধ এবং নির্মল বাতাসের গুরুত্ব সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বাড়াতে আজ ৭ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নীল আকাশ দিবস।
আজ নীল আকাশের জন্য পরিচ্ছন্ন বায়ুর আন্তর্জাতিক দিবস 
তিন মাস পর আজ খুলছে সুন্দরবন
তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ (১ সেপ্টেম্বর) থেকে আবারও উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবন। ফলে আজ থেকেই জেলে ও পর্যটকরা সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন। একই সঙ্গে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে বন বিভাগ। মাছ ও বন্যপ্রাণীর বংশবৃদ্ধি, বিচরণ ও প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে প্রতিবছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশ, মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ ও পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। এ সময় মানুষের আনাগোনা কম থাকায় বনজসম্পদের ওপর চাপও কমে আসে। পাশাপাশি সুন্দরবনকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধও কমে। টানা তিন মাস পর্যটক, জেলে ও বাওয়ালিদের আনাগোনা ছিল না সুন্দরবনে। নৌযানের বাড়তি শব্দও ছিল না। ফলে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ এই বন নিজের স্বাভাবিক ছন্দে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। এ সময়ে বনের চরে নির্ভয়ে ঘাস খেয়েছে হরিণের পাল, খালপাড়ে রোদ পোহাতে দেখা গেছে কুমিরকে। গাছের ডালে ডালে পাখির কলকাকলি এবং বনের গহিনে বাঘের বিচরণে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সুন্দরবন। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে সুন্দরবনে ৬৩টি অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে বন অপরাধের ঘটনায় ৩৯টি মামলা হয়েছে এবং ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। আরও পড়ুন বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত ৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, হালনাগাদ হচ্ছে রেড লিস্ট অভিযানে ১২টি ট্রলার, ৫০টি নৌকা, ৫৫টি মাছ ধরার জাল, ২৮ বোতল ও দুই লিটার তরল বিষ এবং হরিণ শিকারের ৬ হাজার ২৯০টি ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮৬ কেজি বিষযুক্ত মাছ, ৭৩৬ কেজি কাঁকড়া, ১ হাজার ৫৬২টি চারু, ২ হাজার বড়শি, ১৭০ কেজি মধু এবং দুই বস্তায় থাকা পাঁচ কেজি শুঁটকি মাছ উদ্ধার করা হয়। বন বিভাগ জানিয়েছে, গত বছরের নিষেধাজ্ঞার সময়ের তুলনায় চলতি বছর একই সময়ে বন অপরাধের পরিমাণ কমেছে। বাগেরহাট সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সুন্দরবনের নদী-খালে মাছের পরিমাণ বেড়েছে। বাঘ, হরিণসহ বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ও প্রজননের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম শব্দদূষণ, অতিরিক্ত পর্যটন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ কমে যাওয়ায় বনের গহিন এলাকায় উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক পরিবেশও ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ আগের চেয়ে আরও বেশি সক্রিয় ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়েছে। দুর্গম বনাঞ্চলে নিয়মিত বিশেষ অভিযান ও স্মার্ট টহল জোরদারের পাশাপাশি আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি করা হচ্ছে। এতে হরিণ শিকারি ও বিষ প্রয়োগকারী অসাধু চক্রের তৎপরতা অনেকটাই কমেছে। উল্লেখ্য, সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার সুপারিশ অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ রাখা হতো। পরে ২০২২ সালে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়িয়ে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট করা হয়। এ সময়ে কর্মহীন জেলেদের মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হয়। আজ (১ সেপ্টেম্বর) থেকে সুন্দরবন উন্মুক্ত হলেও বন ও বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দর্শনার্থী, জেলে ও বনজসম্পদ আহরণকারীদের সতর্কতা ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আরটিভি/জেএমএ 
তিন মাস পর আজ খুলছে সুন্দরবন
বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত ৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, হালনাগাদ হচ্ছে রেড লিস্ট
বিগত কয়েক শ বছরে বাংলাদেশ থেকে অন্তত ৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অবৈধ শিকার, বন উজাড়, দ্রুত নগরায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবই এই বিলুপ্তির প্রধান কারণ।  রোববার (৩০ আগস্ট) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে  এ তথ্য জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ৩১টি প্রজাতির মধ্যে রয়েছে ১১টি স্তন্যপায়ী প্রাণী, ১৯টি পাখি এবং ১টি সরীসৃপ। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) ২০১৫ সালের সমীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বিগত কয়েক শতকে এসব বন্যপ্রাণী দেশের পরিবেশ ও প্রকৃতি থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে। আইইউসিএন ২০১৫ সালের ওই রেড লিস্টে দেশে মোট ১ হাজার ৬১৯টি বন্যপ্রাণী প্রজাতি চিহ্নিত করেছিল। যার মধ্যে রয়েছে ৪৯টি উভচর, ১৬৭টি সরীসৃপ, ৫৬৬টি পাখি, ১৩৮টি স্তন্যপায়ী, ২৫৩টি স্বাদু পানির মাছ, ১৪১টি ক্রাস্টেশিয়ান (কাঁকড়া-চিংড়ি জাতীয়) এবং ৩০৫টি প্রজাপতির প্রজাতি। দীর্ঘ এক দশক পর ২০২৬ সালে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বন্যপ্রাণীদের রেড লিস্ট হালনাগাদ করার কাজ শুরু করেছে, যা বিপন্ন প্রজাতির বর্তমান চিত্র স্পষ্ট করবে।  আরও পড়ুন দেশের পর্যটন খাত ঘিরে সরকারের মহাপরিকল্পনা, আসছে নতুন নীতিমালা বন ও পরিবেশ মন্ত্রী জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিচালনায় গতি আনতে এ বছর একটি পৃথক ‘ওয়াইল্ডলাইফ কমিশন’ গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যপ্রাণী সম্পর্কিত অপরাধ দমন, অবৈধ পাচার রোধ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন অধিদপ্তরের অধীনে ‘ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট’ কাজ করে যাচ্ছে। প্রকৃতি রক্ষায় চলমান সরকারি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বাঘ, এশীয় হাতি ও গাঙ্গেয় ডলফিনসহ বিপন্ন প্রজাতির সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ২০১৫ সালের ১০৬টি থেকে বেড়ে ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালে ১২৫টিতে উন্নীত হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন মেয়াদে একটি বিশেষ হাতি সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। অতিবিপন্ন শকুন রক্ষায় সুন্দরবন ও সিলেট অঞ্চলে ৪৭ হাজার ৩৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে নিরাপদ অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে শেরপুর, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও রাজশাহীতে চারটি নতুন বিভাগীয় কার্যালয় অনুমোদনের কথাও জানান পরিবেশ মন্ত্রী। আরটিভি/এআর   
বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত ৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, হালনাগাদ হচ্ছে রেড লিস্ট
বনে ছাড়ার পর ৯ লজ্জাবতী বানরের ৭টিই মারা গেল, কারণ কী
উদ্ধার করা বন্য প্রাণী সংরক্ষিত বনে ছেড়ে দেওয়া হলে সাধারণত স্বস্তি ফেরে। কিন্তু উপযুক্ত আবাস, খাবার ও একই প্রজাতির প্রাণীর উপস্থিতি বিবেচনা না করে প্রাণী অবমুক্ত করা হলে সেই বনই হয়ে উঠতে পারে মৃত্যুফাঁদ। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা বেঙ্গল লজ্জাবতী বানর নিয়ে করা নতুন এক গবেষণায় এমনই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী গবেষণায় দেখা গেছে, বনে ছেড়ে দেওয়া নয়টি লজ্জাবতী বানরের মধ্যে ছয় মাসের বেশি বেঁচে ছিল মাত্র দুটি। মারা যাওয়া সাতটি বানরের মধ্যে চারটির দেহে একই প্রজাতির অন্য বানরের আক্রমণের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চলতি বছর আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘গ্লোবাল ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশন’-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের গবেষক হাসান আল-রাজির নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি আরও ১০ গবেষক এতে অংশ নেন। গবেষণায় বন বিভাগসহ বাংলাদেশ, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল। যেভাবে করা হয় গবেষণা বন বিভাগ বিভিন্ন সময় শিকারি, ব্যবসায়ী, পোষা প্রাণীর মালিক ও মানুষের বসতবাড়ির বাগান থেকে লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করে। এসব প্রাণীকে বনে ছাড়ার আগে তাদের ওজন, আঘাত ও অসুস্থতার লক্ষণ পরীক্ষা করা হয়। কম ওজনের বানরগুলোকে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত জানকিছড়া বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে রাখা হয়। পরে ক্যামেরার মাধ্যমে তাদের রাতের চলাফেরা, খাবার গ্রহণ ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়। ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নয়টি বানরকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচটিকে জানকিছড়া এলাকার কাছে এবং চারটিকে অন্য এলাকায় অবমুক্ত করা হয়। প্রতিটি বানরের গলায় বেতার সংকেত শনাক্তকারী কলার পরিয়ে আট মাসে মোট ১৩৮ রাত তাদের অবস্থান ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকেরা। ১০ দিনের মধ্যেই মারা যায় তিনটি গবেষণায় দেখা যায়, নয়টি বানরের তিনটি বনে ছাড়ার ১০ দিনের মধ্যেই মারা যায়। আরও চারটি এক মাসের বেশি বেঁচে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মারা যায়। ‘অনু’ নামের একটি পুরুষ বানর ১৭৯ দিন পর সংঘর্ষে মারা যায়। অন্যদিকে ডারউইন ও নিশাত নামের দুটি বানর ছয় মাসের বেশি সময় বেঁচে ছিল। মারা যাওয়া সাতটি বানরের মধ্যে চারটির দেহ পরীক্ষার উপযোগী অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের মাথা, মুখ অথবা আঙুলে অন্য লজ্জাবতী বানরের আক্রমণের চিহ্ন ছিল। বাকি তিনটির দেহ পচে যাওয়ায় মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাই সাতটি বানরই অন্য লজ্জাবতী বানরের আক্রমণে মারা গেছে—এমন দাবি করেননি গবেষকেরা। গবেষণায় আরও দেখা যায়, জানকিছড়া কেন্দ্রের কাছে ছাড়া পাঁচটি বানরের একটিও বেঁচে থাকেনি। বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত ওই এলাকায় মোট ১৯টি লজ্জাবতী বানর ছাড়া হয়েছিল। গবেষকদের ধারণা, একই এলাকায় বারবার বানর ছেড়ে দেওয়ার কারণে সেখানে প্রাণীর ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে খাবার ও বসবাসের এলাকা নিয়ে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। লজ্জাবতী বানরও এলাকা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামান গণমাধ্যমকে বলেন, লজ্জাবতী বানর দেখতে শান্ত হলেও তারা নিজেদের এলাকা নিয়ে অত্যন্ত সচেতন। আগে থেকেই কোনো এলাকা দখল করে থাকা প্রাণীর মুখোমুখি হলে নতুন বানর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মারা যাওয়া কয়েকটি প্রাণী তুলনামূলকভাবে বেশি সতর্ক ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেছিল। গবেষকদের মতে, এ ধরনের আচরণ দীর্ঘস্থায়ী চাপ ও নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার ইঙ্গিত হতে পারে। গবেষক হাসান আল-রাজি গণমাধ্যমকে বলেন, বন্য প্রাণী উদ্ধার অনেক ক্ষেত্রে শুধু লোকদেখানো কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। যে যার মতো প্রাণী অবমুক্ত করেন। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করাই তাঁদের গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য। বন হলেই উপযুক্ত আবাস নয় গবেষকেরা বলছেন, কোনো প্রাণীকে বনে ছেড়ে দেওয়ার জন্য শুধু বনটি ঘন বা সবুজ হলেই হবে না। সেখানে একই প্রজাতির কতগুলো প্রাণী রয়েছে, খালি এলাকা আছে কি না, পর্যাপ্ত খাবার ও নিরাপদ চলাচলের সুযোগ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও আগে জানতে হবে। গবেষকেরা প্রাণী অবমুক্তির আগে সম্ভাব্য এলাকায় প্রাণীর সংখ্যা ও চলাচল জরিপ, পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাণীটির উৎস শনাক্তকরণ, প্রজাতিভিত্তিক পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক হাবিবুন নাহার গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাণীকে বনে ছাড়ার আগে আধা প্রাকৃতিক বেষ্টনীতে রেখে তার আচরণ পর্যবেক্ষণ করা দরকার। এতে সময় ও অর্থ লাগলেও দেশে এ ধরনের চর্চা প্রায় নেই। বন বিভাগের বন সংরক্ষক (বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল) মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থায় ঘাটতির কথা গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জনবল ও সম্পদের ঘাটতি রয়েছে। বন্য প্রাণী গবেষকদের মতে, কোনো প্রাণীকে বনে ছেড়ে দেওয়ার ছবি দিয়ে সংরক্ষণ কার্যক্রম শেষ হয় না। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে প্রাণীটি নতুন পরিবেশে বেঁচে থাকতে ও মানিয়ে নিতে পারছে কি না, তার ওপর। আরটিভি/জেএমএ
বনে ছাড়ার পর ৯ লজ্জাবতী বানরের ৭টিই মারা গেল, কারণ কী
বিশ্বমঞ্চে চমক দেখাচ্ছে গাজীপুরের পোশাক খাত
বাংলাদেশের উজ্জল সম্ভাবনাময় পোশাক কারখানাসমূহের অন্যতম স্থান হলো গাজীপুর। দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পে এক নীরব অথচ সুদূরপ্রসারী পরিবেশবান্ধব ‘সবুজ বিপ্লব’ ঘটে গেছে গাজীপুরে।  বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় টেকসই উৎপাদনের ওপর যখন সর্বাধিক জোর দেওয়া হচ্ছে, তখন গাজীপুরের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিংয়ে এনে দিয়েছে অভূতপূর্ব সফলতা।  মার্কিন গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল স্বীকৃত শতভাগ পরিবেশবান্ধব কারখানা বা ‘লিড’ সার্টিফাইড কারখানার এক বিশাল অংশ এখন এ জেলাতেই অবস্থিত, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও নির্ভরযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সরেজমিনে গাজীপুরের শ্রীপুর, কোনাবাড়ী ও টঙ্গী শিল্পাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, অন্ধকারাচ্ছন্ন, অপরিসর ও উত্তপ্ত গতানুগতিক পরিবেশ পেছনে ফেলে আধুনিক এসব গ্রিন ফ্যাক্টরি আলো-বাতাসে পরিপূর্ণ। কারখানার উন্মুক্ত এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে সবুজ বাগান। কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, পানির অপচয় রোধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় কর্মপরিবেশ। টেকসই প্রযুক্তি: শক্তি ও পানির সাশ্রয় গাজীপুরের পরিবেশবান্ধব কারখানাগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সম্পদ ও শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার। কারখানাগুলোর ছাদে বসানো বিশাল আকৃতির সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল দিনের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মেটায়। এরফলে প্রথাগত জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমেছে এবং কার্বন নির্গমন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। পোশাক শিল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার রোধে এসব কারখানায় চালু করা হয়েছে ‘রেইনওয়াটার হারভেস্টিং’ বা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ পদ্ধতি। বিশাল ছাদ থেকে সংগৃহীত বৃষ্টির পানি পরিশোধনের মাধ্যমে ওয়াশিং ও ডাইংয়ের মতো কাজে পুনঃব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আধুনিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং ইটিপি এর মাধ্যমে বর্জ্য পানি শোধন ও রিসাইক্লিং নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় গাজীপুরের প্রাধান্য পরিবেশবান্ধব স্থাপনার বৈশ্বিক মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশে বর্তমানে লিড সনদপ্রাপ্ত পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা ২৯১টি, যার মধ্যে ১১১টি সর্বোচ্চ মানের ‘প্লাটিনাম’ এবং ১৩৩টি ‘ গোল্ড’ সনদপ্রাপ্ত। সর্বশেষ মানদণ্ড অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসজিবিসি প্রদত্ত পয়েন্ট তালিকায় বিশ্বসেরা ১০টি গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে বাংলাদেশেরই প্রাধান্য। ১১০ পয়েন্টের মধ্যে ১০৮ পয়েন্ট পেয়ে বিশ্বের এক নম্বর বা শীর্ষ পরিবেশবান্ধব কারখানার স্বীকৃতি অর্জন করেছে গাজীপুরের হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড। ১০৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত মাসকো গ্রুপের ‘তাসনিয়া ফেব্রিক্স লিমিটেড’। এছাড়া দেশের সেরা শীর্ষ পরিবেশবান্ধব কারখানার তালিকায় রয়েছে গাজীপুরের এসএম সোর্সিং, তানিশা ফেব্রিকস, ইস্প্রিট অ্যাপারেলস, নিট এশিয়া, ইন্ট্রিগ্রা ড্রেসেস, লিডা টেক্সটাইল অ্যান্ড ডাইং এবং লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজ। উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনের সুফল সম্পর্কে মাসকো গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (রক্ষণাবেক্ষণ) প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন খান বাসস’কে জানান, ‘নির্মল বাতাস, শক্তি সাশ্রয়ী লাইটিং, পানির অপচয় রোধ ও ৩০% সবুজ এলাকা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা কাজের চমৎকার পরিবেশ তৈরি করেছি। বায়াররা এখনো সরাসরি কোনো বাড়তি ‘প্রাইস বেনিফিট’ না দিলেও অভ্যন্তরীণ পরিচালনা খরচ নিয়ন্ত্রণ, লস শনাক্তকরণ এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি অত্যন্ত কার্যকর। এ সুফলের কারণে আমাদের গ্রুপের ১৪টি কারখানাকেই পর্যায়ক্রমে এই মানদণ্ডে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’ বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ বাসস’কে বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক লিড সনদপ্রাপ্ত সবুজ পোশাক কারখানার দেশ। তবে কেবল ভবনের সনদই যথেষ্ট নয়; প্রকৃত অর্থে একটি গ্রিন কারখানাকে জ্বালানি দক্ষতা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, পানি সাশ্রয় ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিক দক্ষতা দেখাতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক প্রধান বাজারগুলোতে পরিবেশ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্রেতাদের চাপ বাড়ছে। আগামী দিনে টেকসই উৎপাদন কেবল কমপ্লায়েন্স নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকার প্রধান শর্ত হয়ে উঠবে। গাজীপুরকে একটি মডেল ‘গ্রিন গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার, বিজিএমইএ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোকে যৌথভাবে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’ প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও বৈশ্বিক ক্রেতাদের সাড়া হ্যামস গার্মেন্টসসহ শীর্ষ স্থানীয় গ্রিন প্রজেক্টগুলোর কারিগরি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘৩৬০ ডিগ্রি টোটাল সলিউশন’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনন্ত আহমেদ বাসস’কে বলেন, গাজীপুরে বিপুলসংখ্যক গ্রিন বিল্ডিং গড়ে ওঠার মূল কারণ তৈরি পোশাক খাতের সাস্টেইনেবিলিটি চর্চা এবং বায়ারদের চাহিদা। গ্রিন বিল্ডিং তৈরি করলে এনার্জি ও ওয়াটার এফিসিয়েন্সি বাড়ে, যা সরাসরি কারখানার পরিচালনা খরচ কমিয়ে দেয় এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে।’ আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের ইতিবাচক মনোভাব তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, ‘গ্রিন সার্টিফিকেশনের কারণে ক্রেতারা সরাসরি বাড়তি অর্থ না দিলেও অর্ডারের ক্ষেত্রে শতভাগ অগ্রাধিকার দেন। অতীতে রানা প্লাজা বা তাজরীন ফ্যাশনের যে নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ববাজারে তৈরি হয়েছিল, আজ বিশ্বসেরা ১০টি গ্রিন প্রজেক্টের অধিকাংশ বাংলাদেশে থাকায় সেই কালিমা দূর হয়ে দেশের সুদৃঢ় ব্র্যান্ডিং তৈরি হয়েছে। লিড সার্টিফাইড কারখানাগুলো বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও প্রায় শতভাগ সক্ষমতায় উৎপাদনে থাকছে। অনেক আন্তর্জাতিক বায়ার গ্রিন সনদপ্রাপ্ত কারখানার শতভাগ উৎপাদন সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে বুকিং করে নিচ্ছে, যা উদ্যোক্তাদের দরকষাকষির অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।’ ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও নীতি সহায়তার দাবি পরিবেশ প্রকৌশলী ও খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রিন প্রযুক্তিতে রূপান্তরের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ। এই সবুজ শিল্পায়নের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন ফাইন্যান্সিং, স্বল্প সুদে ঋণ, বিশেষ ট্যাক্স রেয়াত এবং নীতিগত প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি  কারখানাগুলোকে এই ধারায় যুক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণে অনুদানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে গড়ে ওঠা এই পরিবেশবান্ধব মডেলটি কেবল একটি অঞ্চলের সাফল্য নয়; এটি গোটা দেশের অর্থনীতিকে একটি টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোর পথপ্রদর্শক। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তৈরি পোশাক বাজারে বাংলাদেশ তার শীর্ষ অবস্থান নিশ্চিতভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হবে। আরটিভি/এসএস
বিশ্বমঞ্চে চমক দেখাচ্ছে গাজীপুরের পোশাক খাত
আরও পড়ুন
পাঁচ বছর ধরে গোয়ালঘরেই চলছে ১৭০ শিক্ষার্থীর খাওয়া-দাওয়া ও পড়ালেখা
কপ-১৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে পরিবেশমন্ত্রীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
৩টি প্লাস্টিক বোতলে মিলছে গাছের চারা, নড়াইলে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
২০২৮ সালের জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন আয়োজনের কথা ভাবছে চীন