শতভাগ আবাসিকতার মাস্টার প্ল্যান নিয়ে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। তবে প্রতিষ্ঠার ৪৭ বছর পর সে স্বপ্ন এখনও স্বপ্নই রয়ে গেছে। প্রতি বছর বিভাগ ও আসন সংখ্যা বাড়লেও দৃশ্যমান আবাসন সুবিধা বাড়েনি। বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক হল রয়েছে (৪ টি নির্মাণাধীনসহ) মাত্র ১২ টি। এতে আসন রয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৯৭৩টি।
তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৯৭ জন, যাদের ১২ হাজার ৩১২ ছাত্র ও ৭ হাজার ৫৮৫ জন ছাত্রী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাদ্দাম হোসেন হলে ৪৭৪, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ৪০০, শাহ আজিজুর রহমান হলে ৪১২, লালন শাহ হলে ৪১৪, বেগম খালেদা জিয়া হলে ৬০০, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) হলে ৬০০ এবং জুলাই-৩৬ হলে ৮০৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন সুবিধা রয়েছে। এরমধ্যে ছেলেদের হলে গণরুম না থাকলেও মেয়েদের তিনটি হলে গণরুম রয়েছে। খালেদা জিয়া হলে মোট ৯টি গণরুমে গাদাগাদি করে থাকেন ২৩০ জন ছাত্রী। আয়েশা সিদ্দিকা হলের তিনটি গণরুমে থাকেন ৭০ জন। এছাড়া জুলাই ৩৬ হলের পাঁচটি গণরুমে থাকেন ৭২ জন ছাত্রী। ফলে তারা ঠিকমতো পড়াশোনা এবং ঘুমানোর সুযোগ পান না।
এছাড়া শহীদ আনাস হলের আরেকটি ব্লক নির্মাণাধীন রয়েছে। আবাসন সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মেয়েরা। এর মধ্যে ঊম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের আসন সংখ্যা ৪৪০। অথচ সেখানে থাকছে ৬০০ ছাত্রী। বেগম খালেদা জিয়া হলে ৩৯৮ আসনের বিপরীতে রয়েছে ৬০০ জন ছাত্রী। জুলাই-৩৬ হলে ৬৪৩ আসনের বিপরীতে রয়েছে প্রায় ৮০৯ জন ছাত্রী। এতে বেশির ভাগ সিটেই দুজন করে ছাত্রীকে থাকতে হচ্ছে। তবে ছাত্রদের হলে গণরুম না থাকলেও ছাত্রীদের প্রতিটি হলে রয়েছে একাধিক গণরুম। এসব গণরুমে ১৫/২০ জন শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। ফলে তারা ঠিকমতো পড়াশোনা এবং ঘুমানোর সুযোগ পান না।
ছাত্র হলগুলোতেও আবাসন নিয়ে হাহাকার চলছে। প্রথম বর্ষের কোনো শিক্ষার্থীকে হলে আবাসন সুবিধা দেওয়া হয় না।
বিগত ৪৭ বছরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছে আবাসন সুবিধার বাইরে। ছাত্রদের ৫টি ও ছাত্রীদের ৩টি হলে আসন সংখ্যা ৩ হাজার ৯৭৩ বাদে বাকী প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন মেস, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ শহরে নানামুখী সমস্যার মধ্যে অবস্থান করতে হয়। বর্তমানে দশতলা বিশিষ্ট ছেলেদের ২টি ও ১টি হলের এক্সটেনশন এবং মেয়েদের ২টি হলের কাজ চলমান থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত।
২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ৫৩৭ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্পের আওতায় আবাসিক হল ও অ্যাকাডেমিক ভবনসহ ৯টি ১০ তলা ভবন এবং ১১টি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের পরিকল্পনা রয়েছে।
খালেদা জিয়া হলের গণরুমে অবস্থানরত কয়েকজন ছাত্রী জানান, একটি রুমে ১১০ জনকে থাকতে হয়। ফলে পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে কষ্ট হয়। এছাড়া সবগুলো গণরুম নিচ তলায় হওয়াতে টয়লেটসহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে উপরে যেতে হয়। এত কষ্টের পরেও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই এখানে থাকতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ও খালেদা জিয়া হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন বলেন, আবাসন সংকট দূর করতে বর্তমান প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি তাদের প্রচেষ্টায় কিছুটা হলেও এই সংকটের সমাধান হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে দশতলা বিশিষ্ট ছেলেদের ২টি ও ১টি হলের এক্সটেনশন এবং মেয়েদের ২টি হলের কাজ চলমান রয়েছে। এসব হলে মোট সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা হবে। এগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে আবাসন সংকট অনেকাংশেই মিটে যাবে।
আরটিভি/এমএইচজে




