গবিতে আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

গবি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ , ১১:৪২ পিএম


গবিতে আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ
গণ বিশ্ববদ্যালয়ের (গবি) : ছবি আরটিভি

র‍্যাগিংয়ের দায়ে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত সাভারের গণ বিশ্ববদ্যালয়ের (গবি) আইন বিভাগের ২৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. তরিকুল ইসলামের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের রায়ে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি পেয়েছেন বলে জানা গেছে। 

চলতি মাসের ৩ তারিখ থেকে শুরু হওয়া লিখিত পরীক্ষা বৃহস্পতিবার (২১ মে) শেষ হয়েছে। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর তরিকুল একই বিভাগের ৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শের আলীকে র‍্যাগিং এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে বহিস্কার হন।

পরবর্তীতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। ৪ এপ্রিল আদালত তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়। 

আরও পড়ুন

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ক্লাসে ৫৫% এর কম উপস্থিতি থাকলে কোনো শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নাই। তাই অনেকের প্রশ্ন, কোন নিয়মের ভিত্তিতে তাকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হলো? 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থায়ী বহিস্কার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শুরু থেকে ক্লাস করতে পারেননি তরিকুল। সুতরাং তার উপস্থিতির বিষয়টা এখানে গৌণ হয়ে দাড়িয়েছে। আদালতের অনুমতির কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় তার পরীক্ষা গ্রহণ করে। 

‎বহিস্কৃত শিক্ষার্থী তরিকুল জানান, আদালতের আদেশের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা দিচ্ছি। 

‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সামিউল হাসান শোভন বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি। প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র সংসদের সম্মতিতে তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেখানে কীভাবে সে পরীক্ষা দিতে পারে? পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতাই তার নাই। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত গর্ভধারিণী বোনদের ক্লাসে উপস্থিতি কম থাকায় পরীক্ষা দিতে দেয়নি প্রশাসন। কর্তৃপক্ষ কীভাবে এতো বৈষম্য করছে, প্রশ্ন থেকেই যায়।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি কর্মকর্তা ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, কোনো শিক্ষার্থী শৃঙ্খলাবিরোধী, চরমপন্থী ও নীতি বহির্ভূত কাজ করলে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী আজীবন বহিষ্কার করতে পারবে। বহিষ্কারের পর শিক্ষাজীবনে প্রভাব না ফেলতে আদালত চূড়ান্ত রায়ের পূর্বে শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিয়ে থাকে।‎

‎ইউজিসির উপ-পরিচালক নাসিমা আক্তার খাতুন বলেন, আদালতের আদেশ মেনে নিতে হবে। পরীক্ষায় বসায় উপস্থিতির বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী বিবেচিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, আদালতের আদেশের মাধ্যমেই পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সে শুধু পরীক্ষাই দিতে পারবে। আদালতের রায়ে জয়ী হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ফল স্থগিত থাকবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission