প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাবি শিক্ষার্থীকে পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি 

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ , ১১:১৫ এএম


প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাবি শিক্ষার্থীকে পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। পুরনো ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ছুরি ও অস্ত্রের ভয় দেখানো এবং পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে।

রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য তুলে ধরেন ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত মহসিন আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মী। ভুক্তভোগীও একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ জুলাই থেকে অভিযুক্ত মহসিন আলম বিভিন্নভাবে তাকে উত্ত্যক্ত, হয়রানি এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ভুক্তভোগীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও তিনি বিরত না থেকে পুনরায় চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্ত মহসিন জোরপূর্বক ভুক্তভোগীকে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে যান এবং আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগী পুনরায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত একটি ছুরি বের করে ভয়ভীতি দেখান এবং তার কাছে পিস্তল রয়েছে বলেও হুমকি দেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত তাকে মেসের দিকে নিয়ে যেতে সম্মত হন। তবে পথিমধ্যে রুয়েট এলাকা থেকে আবারও পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। দীর্ঘ সময় কান্নাকাটির পর তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্ত ফোন করে আত্মহত্যার কথা বলেন। পাশাপাশি অভিযুক্তের এক সহযোগী তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিন আলমের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

আরও পড়ুন

রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এ ছাড়া আমাদের জানামতে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী বা নিয়মিত কর্মসূচি পালন করেন এমন নন। আর অভিযোগের বিষয়টি নিয়েও প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, সংস্কৃত বিভাগের একজন নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছি। সোমবার দুপুর ১২টায় অভিযুক্তকে ডাকা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission