ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বৃক্ষনিধন’ পরিকল্পনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ পিএম
‘বৃক্ষনিধন’ পরিকল্পনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: আরটিভি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাস্তা ও ফুটপাত উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গেট থেকে ‘চির উন্নত মম শির’ স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত রাস্তার পশ্চিম পাশের গাছগুলো সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের সামনে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, কয়েক দিন আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কদমতলা থেকে দ্বিতীয় গেট পর্যন্ত রাস্তার নির্মাণাধীন ফুটপাতে থাকা গাছগুলো অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। সেগুলোর অনেকগুলোই ইতোমধ্যে মারা যাচ্ছে। ক্যাম্পাসে গাছের সংখ্যা কম। এ ছাড়া বড় গাছ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে মারা যাওয়ার ঝুঁকিও বেশি। তাই নতুন করে আর কোনো গাছ যেন স্থানান্তর না করা হয়। গাছগুলো না সরিয়েও নকশা পরিবর্তন করে অন্য পাশ দিয়ে নির্মাণকাজ করা সম্ভব।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান লেলিন বলেন, আমরা টেকসই উন্নয়ন চাই। তবে সেটা অবশ্যই প্রাণ-প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে। বৃক্ষনিধন করে কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আমরা চাই না। আমরা মানববন্ধন করেছি, সেটাও বৃক্ষের ছায়াতলে। তাই প্রকৃতিকে নষ্ট করে কোনো কিছুই নয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন এবং তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে প্রকৃতি বাঁচিয়ে উন্নয়ন করা যায়।

আরও পড়ুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ঐশ্বর্য হৃদয় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে উন্নয়নের নামে পরিবেশের কোনো ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন যদি সত্যিই গাছগুলো যথাযথভাবে স্থানান্তর করে থাকে এবং সেগুলোর বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে, তাহলে তা ইতিবাচক। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু বৃক্ষনিধন করে আমাদের ক্যাম্পাসে কোনো উন্নয়ন আমরা চাই না।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব মামুন সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে সব সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আছে। তবে গাছ কাটা হচ্ছে না, গাছ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কাটা এক জিনিস, আর সরিয়ে নেওয়া আরেক জিনিস। তবে যদি অন্য কোনো উপায় থাকে, যাতে গাছগুলো রেখেই রাস্তা করা যায়, তাহলে সেই উপায় বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা উপাচার্যের দপ্তরে গিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সুন্দর ও পরিকল্পিতভাবে, অর্থাৎ মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বাস্তবায়নের কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে বিক্ষিপ্তভাবে থাকা কিছু গাছ সরিয়ে অন্যত্র লাগানো হয়েছে। গাছগুলোকে কোনোভাবেই নিধন করা হয়নি। বরং গাছগুলো সরিয়ে লাগানোর পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে আরও নতুন ও বড় গাছের চারা রোপণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্মাণকাজের দোহাই দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুদ্বীপে ৫০টির বেশি গাছ কেটেছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পরীক্ষার মধ্যেও দফায় দফায় লোডশেডিং, দুর্ভোগে চবি শিক্ষার্থীরা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিভিন্ন বিভাগে বর্ষসমাপনী পরীক্ষা চলার মধ্যেই দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন আবাসিক হল ও আশপাশের কটেজে বসবাসকারী শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত হচ্ছে তাদের পড়াশোনা, পরীক্ষার প্রস্তুতি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও আশপাশের কটেজগুলোতে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বসবাস করেন। তাদের অধিকাংশই দিনের বেলায় ক্লাস ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যায় পড়াশোনা করেন। কিন্তু সম্প্রতি এই সময়েই ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে লোডশেডিং হলেও আবাসিক হলগুলোতে তেমন সমস্যা হতো না। তবে সম্প্রতি হলগুলোতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ছয়বার বিদ্যুৎ চলে যায়। কখনো আধা ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টা, আবার কখনো দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে না পেরে আলাওল হলের বারান্দায় বসে ছিলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন মারুফ। তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে এসেও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মতো মৌলিক প্রয়োজনের সংকটে পড়াটা আমাদের জন্য বড় লজ্জার। এখন পড়াশোনার জন্য ইন্টারনেট ও পিডিএফের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে হলের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা যায় না। আবার রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও সমস্যা হচ্ছে। সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মারুফ বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর দেশে যখন প্রায় প্রতিদিন আন্দোলন ও অস্থিরতা ছিল, তখনো মৌলিক প্রয়োজন নিয়ে এত সমস্যায় পড়তে হয়নি। নির্বাচনের আগে বলা হয়েছিল, নির্বাচিত সরকার এলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু নির্বাচিত সরকার আসার পরও যদি বিদ্যুতের মতো মৌলিক সেবা নিয়ে ভোগান্তিতে থাকতে হয়, তাহলে প্রশ্ন জাগে—পরিস্থিতির উন্নতি কোথায়? একই ধরনের অভিযোগ করেছেন রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান সুমন। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ক্যাম্পাসে আসার পর থেকে তিনটি সরকারের আমল দেখেছি। আগের দুই সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ নিয়ে তেমন সমস্যা না হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি ভোগান্তির পর্যায়ে পৌঁছেছে। সন্ধ্যায় পড়তে বসার সময়ই বিদ্যুৎ চলে যায়। কখনো দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও ১০ মিনিটের মধ্যে আবার চলে যায়। হলের তুলনায় কটেজে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেশি উল্লেখ করে সুমন বলেন, হলে কিছুটা বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া গেলেও কটেজে পরিস্থিতি আরও খারাপ। অন্তত সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এদিকে লোডশেডিংয়ের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান আরটিভি নিউজকে বলেন, বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। আমরা লোডশেডিং কমানোর চেষ্টা করছি। গতকাল রাতেও তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি তাদের সঙ্গে পুনরায় কথা বলব। চলমান পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অন্তত সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আরটিভি/টিআর
পরীক্ষার মধ্যেও দফায় দফায় লোডশেডিং, দুর্ভোগে চবি শিক্ষার্থীরা
টানা তৃতীয়বার বিশ্বসেরা ২% গবেষক তালিকায় বেরোবির ড. ফেরদৌস
গবেষণার আন্তর্জাতিক মঞ্চে অনন্য কীর্তি গড়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কৃতি শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান। টানা ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬-তিন বছর বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি।
টানা তৃতীয়বার বিশ্বসেরা ২% গবেষক তালিকায় বেরোবির ড. ফেরদৌস
জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন শুরু
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তন উপলক্ষে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের ৩০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে।
জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন শুরু
টানা দুইবার বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় কুবি শিক্ষক শফি উল্যাহ্
‎দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শফি উল্যাহ। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গত দুই বছর ধরে একমাত্র তিনিই এই তালিকায় আছেন। 
টানা দুইবার বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় কুবি শিক্ষক শফি উল্যাহ্
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য বাকৃবির ১৩ শিক্ষার্থী মনোনীত 
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সম্প্রতি এই পদকের জন্য দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৪৬৯ জন শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য বাকৃবির ১৩ শিক্ষার্থী মনোনীত 
আরও পড়ুন
আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভা
ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং পেশাদারত্ব নিয়ে ওয়েবিনার