ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

খুবির ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় বাড়ি ফিরছে শিক্ষার্থীরা 

খুবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়-ছবি: সংগৃহীত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনের তালা খুলে দিয়েছেন। তবে তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ফলে কিছু শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।

একাডেমিক চাপ কম ও ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। অনেক শিক্ষার্থী টার্ম ফাইনালের ছুটি শেষ করে এখনও ক্যাম্পাসে ফিরেনি।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) রাতে বিজয়-২৪ হলে নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণ করার সময় ক্যান্টন কর্মী হাতেনাতে ধরা পড়ে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিন কর্মীর শাস্তি নিশ্চিত করা সহ তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষ বর্জন করে।

আরও পড়ুন

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান এ্যামি বলেন, ‘যদিও আমার ক্যাম্পাস আমার জন্য খুবই প্রিয় একটি জায়গা কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রিয় জায়গাটির মধ্যেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হচ্ছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক হলেও সত্য যে প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাসে আতঙ্ক নিয়ে থাকা লাগছিলো। তাই এই ছুটিতে বাড়ি আসতে পেরে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তটি আমি যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছি যেহেতু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে এবং তার কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখনো আমরা দেখিনি এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। উক্ত বিষয়ের যথাযথ শাস্তি না পাওয়ার আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্লাস/পরীক্ষায় ফিরে যাওয়ার মতো মানসিক পরিস্থিতিতে নেই এবং তাদের অভিভাবকরাও যথাযথ আস্থা বা ভরসা করতে পারছে না। আমরা এর শাস্তি দেখার পরই ক্লাসে ফিরতে চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে একাধিক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেসব সভায় শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, তদন্ত কমিটি গঠন, সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল, ছাত্রী হলে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ, ক্যান্টিন পরিচালনায় নতুন নীতিমালা প্রণয়ন এবং ভবিষ্যতে ওই দুই ছাত্রী হলে কোনো পুরুষ কর্মী নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং ছাত্রী হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটার আরও নিরাপদ করার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। ভেন্টিলেটারে নন-ট্রান্সপারেন্ট (অস্বচ্ছ) গ্লাস স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার কোনো সুযোগ না থাকে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা হলে নিরাপদ ও স্বস্তিকর পরিবেশে বসবাস করুক।’

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রুয়েটে ফার্স্ট এইড ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাবিষয়ক ‘নিরব ফার্স্ট এইড ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন হাবে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। রুয়েটের ব্লাড ডোনেশন ক্লাব নিরাপদ রক্তের বন্ধন (নিরব) এবং ব্লাড কেয়ার ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিকভাবে সাড়া দেওয়া এবং প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কৌশল হাতে-কলমে শেখানো হয়। প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও বর্ষের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। কর্মশালায় প্রাথমিক চিকিৎসার মৌলিক ধারণা, শ্বাসনালিতে কোনো বস্তু আটকে গেলে করণীয়, শকের ক্ষেত্রে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ, আহত ব্যক্তিকে নিরাপদে স্থানান্তর এবং পোড়া ও হাড় ভাঙার ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদ্‌যন্ত্র ও শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে প্রাথমিক পর্যায়ে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দেওয়ার পদ্ধতিও শেখানো হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্লাড কেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ। তিনি প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিরবের সভাপতি ও আইপিই বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নওশাদ হোসেন রাকিব। বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কর্মশালাটি প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক হয়ে ওঠে। অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলা ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিষয়গুলো শেখানো হয়। এতে প্রশিক্ষণটি শিক্ষার্থীদের কাছে আরও উপভোগ্য ও কার্যকর হয়ে ওঠে। এ ধরনের আয়োজনের জন্য ব্লাড কেয়ার ফাউন্ডেশন, আমন্ত্রিত অতিথি, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রশিক্ষণার্থীরা। আকস্মিক দুর্ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে সাড়া দিতে রুয়েটের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের। কর্মশালার শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। এতে তাঁদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অবস্থান নির্ধারণ করা হয় এবং কৃতিত্ব অর্জনকারীদের উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণের মাধ্যমে এ শিক্ষণীয় আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। আরটিভি/টিআর
রুয়েটে ফার্স্ট এইড ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত
হাবিপ্রবিতে আয়োজিত হলো চিঠি উৎসব ও ডাকটিকিট প্রদর্শনী
বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) চিঠি উৎসব ও ডাকটিকিট প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, দিনাজপুরের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুল হাসান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম এমদাদুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর ডাক বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. রশিদুল হাসান। আলোচনা পর্বে বক্তারা ডাক বিভাগের ইতিহাস ও বর্তমান সময়ে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কথা বলেন। উপাচার্য ডাকসেবা টিকিয়ে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং অতীতের স্মৃতিচারণ করেন। ডাক বিভাগের প্রতিনিধিরা জানান, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভাগের সেবার ধরন বদলাচ্ছে। সম্প্রতি দিনাজপুর থেকে প্রচুর লিচু ডাকের মাধ্যমে সারা দেশে পাঠানো হয়েছে।’ এতে স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকেরা উপকৃত হয়েছেন বলেও তাঁরা জানান। উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল চিঠি লেখা। মাত্র ১০ টাকায় শিক্ষার্থীরা বিশেষ ডাকসেবার মাধ্যমে প্রিয়জনদের কাছে চিঠি পাঠান। ডিজিটাল যোগাযোগের এ সময়ে হাতে লেখা চিঠির অভিজ্ঞতা পেয়ে অনেকেই আগ্রহী হয়ে ওঠেন। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন সময়ের ঐতিহ্যবাহী ও স্মারক ডাকটিকিট প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১, ২, ৩, ৪, ৫, ১০ ও ২০ টাকা মূল্যমানের ডাকটিকিট। তরুণ প্রজন্মকে ডাকটিকিটের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এ উদ্যোগ প্রশংসা পেয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে স্থাপিত বিভিন্ন স্টলে পাটের ব্যাগ, ডায়েরি, ক্যালেন্ডার এবং ছোট-বড় লেটার বক্স বিক্রি করা হয়। পোস্টার ও ব্যানারে অভ্যন্তরীণ ডাক, রেজিস্ট্রি চিঠি, স্পিড পোস্ট, পার্সেল, বৈদেশিক ডাক, সঞ্চয় হিসাব ও সঞ্চয়পত্র, ডাক এবং ‘নগদ’ সেবা সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘এক ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, প্রচলিত ডাকসেবা ও নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়ে ডাক বিভাগ আরও সমৃদ্ধ হবে। আরটিভি/টিআর
হাবিপ্রবিতে আয়োজিত হলো চিঠি উৎসব ও ডাকটিকিট প্রদর্শনী
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর পরিষ্কার করলেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের পুকুর পরিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে তারা এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় পুকুরে থাকা আগাছা, ময়লা ও প্লাস্টিক অপসারণ করেন তারা। এ উদ্যোগে অংশ নেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল বাশার, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহতাশিম পারভেজ, রাসেল রানা, সানোয়ার শুভ এবং সদস্য আবু সাঈদ ও আসিমুল খানসহ অন্যরা। তাদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। উদ্যোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল বাশার বলেন, পুকুরটি বেশ কিছুদিন ধরেই অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। তাই আমরা এটি পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিই। শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদেরও ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু আজকের ময়লা অপসারণ নয়; আগামী দিনে যেন এখানে আর ময়লা ফেলা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন করা। শাখা ছাত্রদলের ৩ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল রানা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদেরও ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। আজ আমরা পুকুর পরিষ্কার করছি, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য শুধু আজকের ময়লা অপসারণ নয়—আগামী দিনে যেন এখানে আর ময়লা ফেলা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন করা। আসুন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা সবাই মিলে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, সবুজ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলি। পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস আমাদের অধিকার, আর তা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আরটিভি/টিআর
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর পরিষ্কার করলেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা
ছাত্রত্ব নেই তবুও বহিষ্কার, এটা হাস্যকর সুপারিশ: রাবি শিবির সভাপতি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে ‘প্রহসন ও নাটক মঞ্চায়ন’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল।  শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রত্ব নেই, তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এটা হাস্যকর প্রতিবেদন। প্রশাসন একটি প্রহসন ও নাটক মঞ্চায়ন করেছে। মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে হামলার সময় কক্ষ ভাঙচুর ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি উঠে আসেনি। পাশাপাশি সাংবাদিক নেতাদের এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবিরও যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। তিনি বলেন, সাংবাদিকেরা দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের ফোন ভাঙচুর করা হয়েছে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা সাংবাদিকদের দাবির সঙ্গে একমত। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। যাঁদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিল এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে শিবির সভাপতি বলেন, আমরা দেখলাম, তিনজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে, তিনজনকে অধিকতর তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তিনজনকে সতর্কবার্তা দিয়ে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, প্রত্যেকেই এখানে ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সভাপতি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যেসব পদধারী নেতা তাদের অনুসারীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আসার ঘটনায় যাঁদের ভূমিকা ছিল, তাদের তদন্তের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। তার অভিযোগ, ঘটনার পরিকল্পনাকারী ও মূল হোতাদের আড়াল করা হয়েছে। তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের নির্বাচিত জিএস আরিফুল ইসলামের সাময়িক বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, আরিফের সমালোচনার ভাষাকে আমরা ইসলামী ছাত্রশিবির হিসেবে সমর্থন করি না। তবে সমালোচনার জন্য কাউকে হামলার হুমকি দেওয়া বা তার ওপর হামলা চালানোর সংস্কৃতি আমরা ফিরে আসতে দিতে চাই না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সমালোচনা করলেই ছাত্রদল পেটোয়া বাহিনী হিসেবে কাউকে মারার হুমকি দেবে বা হামলা করবে—এমন সংস্কৃতি কাম্য নয়। তার ভাষ্য, এ ধরনের রাজনৈতিক আচরণ তারেক রহমানকে ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নতুন এজেন্ডার অংশ। তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীর বিষয়টি যথাযথভাবে উঠে আসেনি; বরং ভুক্তভোগীকেই আরও ভুক্তভোগী করা হয়েছে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে যে দাবিগুলো জানানো হয়েছিল, সেগুলোরও প্রতিফলন ঘটেনি। তাই আমরা এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি আরও বলেন, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রত্বই নেই, তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এর চেয়ে হাস্যকর ব্যাপার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে আর হয়েছে কি না, আমার জানা নেই। শিগগিরই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে জানিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী প্যানেল থেকে নির্বাচিত হল সংসদ ও কেন্দ্রীয় সংসদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল পর্যায়ে আলোচনা চলছে। অল্প সময়ের মধ্যে তাদের অবস্থান ও কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। এর আগে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের তিনজন নেতা-কর্মী ও হল সংসদের জিএসের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তাদের মধ্যে শাখা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসভাপতি আহসান হাবিব ও বহিষ্কৃত কর্মী বিশাল চক্রবর্তীর ছাত্রত্ব নেই। উল্লেখ্য, গত রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আরটিভি/টিআর
ছাত্রত্ব নেই তবুও বহিষ্কার, এটা হাস্যকর সুপারিশ: রাবি শিবির সভাপতি
ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বুটেক্স
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এটিএন বাংলা ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল—‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলন বেশি কার্যকর।’ বিতর্কে সরকারি দল হিসেবে অংশ নেয় বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) এবং বিরোধী দল হিসেবে অংশ নেয় হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক জামিউল আহসান শিপু, সাংবাদিক নাদিয়া শারমিন, সাংবাদিক মো. আতিকুর রহমান ও সাংবাদিক মিরাজ মাহবুব ইফতি। ছায়া সংসদ বিতর্কে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজকে পরাজিত করে বিজয়ী হয় বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) বিতার্কিকরা। সরকারি দলের পক্ষে বুটেক্সের বিতার্কিকদের যুক্তি, প্রাঞ্জল উপস্থাপনা ও তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ বিচারকমণ্ডলীর কাছে অধিক গ্রহণযোগ্যতা পায়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়। আরটিভি/টিআর
ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বুটেক্স
আরও পড়ুন
শিকলে বেঁধে মাদরাসার শিশুকে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল
ঢাকায় ২ তলা থেকে পড়ে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর
অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাজীবন শুরু করতে না করতেই চলে গেলেন ঢাবি শিক্ষার্থী
উদ্যোক্তা ইবিয়ান, ক্যাম্পাস সংলগ্ন আইইএলটিএস করার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা