অনিয়মের অভিযোগে প্রত্যাহার ১১ গবেষণাপত্র, ৭টিতে যবিপ্রবির এক শিক্ষকের নাম

যবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ 

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬ , ০১:১৯ পিএম


অনিয়মের অভিযোগে প্রত্যাহার ১১ গবেষণাপত্র, ৭টিতে যবিপ্রবির এক শিক্ষকের নাম
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) । ছবি: সংগৃহীত

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১১টি গবেষণাপত্র লেখকত্ব, প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, তথ্যসূত্র ব্যবহারে ত্রুটি, চিত্রের অসামঞ্জস্য, ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি গবেষণাপত্রেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের নাম রয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের তথ্য সংরক্ষণকারী রিট্রাকশন ওয়াচ ডাটাবেইজ-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাহার হওয়া এসব গবেষণাপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকদের নাম রয়েছে।

ডাটাবেইজের তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাহার হওয়া ১১টি গবেষণাপত্রের মধ্যে সাতটিতেই যবিপ্রবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমজাদ হোসেন সহলেখক হিসেবে রয়েছেন।

এর মধ্যে ‘র‌্যাপিড হাইড্রোথার্মাল সিনথেসিস অব মেসোপোরাস নিকেল সালফাইড অ্যান্ড নিকেল সেলেনাইড ন্যানোস্ট্রাকচারস ফর ওয়েস্টওয়াটার ট্রিটমেন্ট’ শীর্ষক গবেষণাপত্রটি অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ব্যবহার, সম্পাদকীয় নোটিশের জবাব না দেওয়া এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া পৃথকভাবে প্রত্যাহার হওয়া আরও ছয়টি গবেষণাপত্রেও তার নাম রয়েছে।

আরও পড়ুন

এদিকে ‘দ্য এক্সপেরিমেন্টাল সিগনিফিক্যান্স অব আইসোরহ্যামনেটিন অ্যাজ অ্যান ইফেকটিভ থেরাপিউটিক অপশন ফর ক্যানসার: অ্যা কমপ্রিহেনসিভ অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক গবেষণাপত্রটি অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ব্যবহার, সন্দেহজনক প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় এবং গবেষণায় লেখকদের অবদান সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ও প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ গবেষণাপত্রে যবিপ্রবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হাসানের নামও রয়েছে।

এ ছাড়া তার নামে প্রত্যাহার হওয়া আরেকটি গবেষণাপত্রের শিরোনাম ‘অ্যাডভান্সড ইমপ্লিকেশনস অব ন্যানোটেকনোলজি ইন ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল পার্সপেকটিভস’।

এছাড়া ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সরোয়ার ই মাহফুজ এবং নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক অঞ্জন কুমার রায়ের নামও একটি করে প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রে রয়েছে।

এ বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, বিষয়টি আমরা যাচাই-বাছাই করব। কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, কোনো গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হলে সংশ্লিষ্ট সাময়িকী কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করে একটি নোটিশ প্রকাশ করে, যা আন্তর্জাতিক গবেষণা সূচকেও স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট গবেষণার গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গবেষণা অনুদান ও একাডেমিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission