পাবিপ্রবিতে তিন বছর ধরে অকেজো ভিটিএস সেবা, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

‎ ‎পাবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০৮:২৫ পিএম


পাবিপ্রবিতে তিন বছর ধরে অকেজো ভিটিএস সেবা, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) । ছবি: পাবিপ্রবি সংবাদদাতা

প্রায় তিন বছর ধরে অচল হয়ে আছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) পরিবহন পুলের ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস)। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলোর অবস্থান আগে থেকে জানতে না পেরে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

‎খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রহরী থেকে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি শিক্ষার্থীবাহী বাস এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অ্যাম্বুলেন্সসহ মোট ১৯টি যানবাহনে ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) চালু করা হয়।

আরও পড়ুন

তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন ২০২২ সালের ১৫ অক্টোবর এ সেবার উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই ভিটিএস সেবা বন্ধ হয়ে যায়। দেখতে দেখতে প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সেবাটি আর চালু হয়নি।

‎খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, ভিটিএস সেবার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রহরীকে প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হতো। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্ট থেকে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের একাউন্টে স্থানান্তর করা হতো। তবে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নিয়মিত বিল পরিশোধ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ভিটিএস সেবা বন্ধ করে দেয়। এরপর দীর্ঘ তিন বছরেও সেবাটি পুনরায় চালু করা হয়নি।

‎শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আগে ভিটিএস চালু থাকায় বাস কখন ক্যাম্পাসে পৌঁছাবে বা কোথায় অবস্থান করছে, তা সহজেই জানা যেত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেবাটি বন্ধ থাকায় বাস ধরতে অনেক আগেই নির্ধারিত স্থানে গিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় বাসের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা না থাকায় বাস মিস করে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে দেরি হচ্ছে।

‎তাদের ভাষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর এই সেবা সচল থাকলে যাতায়াতে সময় সাশ্রয় হতো এবং অযথা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো না। বিশেষ করে দূরপাল্লার রুটের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল সূত্রে জানা যায়, সকাল ৭টা থেকে ৮টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ক্যাম্পাস থেকে মোট সাতটি বাস ছেড়ে যায়। এর মধ্যে তিনটি দূরপাল্লার বাস সুজানগর, মাধপুর ও ঈশ্বরদী রুটে চলাচল করে। এছাড়া দুপুর ১১টা ১০ মিনিটে চারটি এবং দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ছয়টি বাস শহরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তিনটি দূরপাল্লার বাসসহ মোট সাতটি বাস ক্যাম্পাস থেকে যাত্রা করে। রাতে ৭টা ১৫ মিনিট ও ৮টা ৩০ মিনিটে দুটি করে মোট চারটি বিআরটিসি বাস শহরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

‎তবে বাসগুলোতে ভিটিএস সক্রিয় না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। কোনো কারণে বাস মিস হলে অনেককেই দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে ক্যাম্পাসে ফিরতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভিটিএস সুবিধা না থাকায় তারা বাসের সঠিক অবস্থান জানতে পারেন না। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, যা তাদের পড়াশোনা ও একাডেমিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

‎শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত ভিটিএস সেবা পুনরায় চালু করে পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা হোক। একই সঙ্গে বাসের সময়সূচি ও অবস্থান অনলাইনে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাব্বাস শেখ মিজান বলেন, একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চালু থাকা ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে আরও নিরাপদ, সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য করেছিল। তিন বছর ধরে সেই প্রযুক্তি অচল, অথচ এটি পুনরায় চালুর দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। প্রযুক্তিনির্ভর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। 

নতুন আবাসিক হল চালুর ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু বাসসেবা সেই অনুপাতে বাড়েনি। বিশেষ করে রাতে শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফিরতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতা, অতিরিক্ত ভাড়া ও নানা দুর্ভোগের মুখোমুখি হন। তাই সময়ের দাবি, বাসসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম পুনরায় চালু করে একটি আধুনিক ও স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আজ আমি নির্ধারিত সময়ে বাসস্ট্যান্ডে এসে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করি। বাস না আসায় অন্য একটি গাড়িতে করে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা হই। কিন্তু মাঝপথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটিকে যেতে দেখি। ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু থাকলে লাইভ লোকেশন দেখে সহজেই বাসে উঠতে পারতাম।

‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ুন কবির বলেন, আমি পরিবহন প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার সময় ভিটিএস প্রযুক্তি চালু ছিল না। এটি আগের প্রশাসনের সময়ে ছিল। তবে শিক্ষার্থীরা যেহেতু বিষয়টি দাবি করছে, তাই আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরব। সাবেক উপাচার্যকেও বিষয়টি জানিয়েছিলাম। বর্তমান উপাচার্যের কাছেও শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি উপস্থাপন করব।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission