ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণার দাবিতে ভিসির কাছে স্মারকলিপি

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০৮:১২ পিএম


ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণার দাবিতে ভিসির কাছে স্মারকলিপি
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘রক্তিমা’র নেতৃবৃন্দরা। ছবি: ইবি সংবাদদাতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধসহ পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় ৪ দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘রক্তিমা’।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুজ্জামান। স্মারকলিপিতে ৪ দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি। 

আরও পড়ুন

দাবিগুলো হলো— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে অবিলম্বে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, ক্যাম্পাসজুড়ে দৃশ্যমান স্থানে ‘No Smoking Zone’ সাইনবোর্ড স্থাপন করা এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা পার্থেনিয়াম আগাছা দ্রুত নিধন ও নিয়মিত পরিষ্কার কার্যক্রম চালু করা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ক্যাম্পাসে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ক্যাম্পাসকে ধূমপানমুক্ত ঘোষণা এবং তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পার্থেনিয়াম আগাছার বিস্তার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ। এছাড়া পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান করলে জরিমানার বিধান রয়েছে। আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পরিণত করা সময়ের দাবি।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ধূমপান শুধু ধূমপায়ীর জন্য নয়, বরং আশপাশের মানুষের জন্যও সমান ক্ষতিকর। প্যাসিভ স্মোকিংয়ের ফলে ক্যান্সার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে পার্থেনিয়াম আগাছা ত্বকের রোগ, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করার পাশাপাশি পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিষিদ্ধ। তাও আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্ধের জন্য আবেদন জানাতে হচ্ছে। প্রশাসন একটু চাইলেই ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা করতে পারেন। এটা সম্পূর্ণ সদিচ্ছার অভাব। আইন তো হাতে আছে। শিক্ষিত শ্রেণি আর ধূমপান নেশা একসঙ্গে চলে না।

স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দাবিগুলো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তবে দীর্ঘদিনের অভ্যাস হওয়ায় ধূমপান একেবারে বন্ধ করা তুলনামূলক কঠিন। তোমরা এ বিষয়ে ক্যাম্পেইন করে সচেতনতা তৈরি করতে পারো। 

আইনি কঠোরতার পাশাপাশি সচেতনতার মাধ্যমেও এ সমস্যার সমাধানে কাজ করতে হবে। ক্যাম্পাসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তোমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission