কোরবানির জন্য শরিয়ত অনুযায়ী পশুর কেমন বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে

ধর্ম ডেস্ক

শুক্রবার, ০২ জুলাই ২০২১ , ০৪:২৯ পিএম


কোরবানির জন্য শরিয়ত অনুযায়ী পশুর কেমন বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে
ময়মনসিংহের কালো মানিক

কোরবানি হচ্ছে ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। তাৎপর্যমণ্ডিত আমল এটি। কোরবানির সঙ্গে নিজের ভালোবাসার বৃহৎ ত্যাগ জড়িত। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টি থেকে যাদের সামর্থ্য রয়েছে তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকার পরও যদি কেউ কোরবানি না করে তাহলে তাদের গুনাহ হবে।

কোরবানির যোগ্য পশু : কোরবানি যোগ্য ছয় প্রকার পশু রয়েছে। যেমন- উট, গরু, মহিষ, দুম্বা, ছাগল ও ভেড়া। এসব পশু দিয়ে কোরবানি দেয়া জায়েজ। এসব ব্যতীত অন্য সকল পশু কোরবানির জন্য নাজায়েজ। কোরবানি দেয়ার জন্য ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স অন্তত এক বছর পূর্ণ হতে হবে। তবে ছয় মাসের ভেড়া যদি মোটাতাজা এবং দেখতে এক বছর বয়সের মতো মনে হয় তাহলে এটি দিয়ে কোরবানি দেয়া বৈধ। গরু-মহিষের ক্ষেত্রে পূর্ণ দুই বছর হতে হবে এবং উটের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর হতে হবে। (হিদায়া, খণ্ড : ০৪, পৃষ্ঠা : ১০৩)

কতজন মানুষ একত্রে একটি পশু কোরবানি দিতে পারবে : ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার ক্ষেত্রে একটি পশু একজন ব্যক্তিই কোরবানি দিতে পারবে। অংশীদার নিয়ে বা ভাগে এসব পশু কোরবানি দেয়ার বিধান নেই। তাই এসব পশু কোরবানিতে একাধিক ব্যক্তি অংশ নিতে পারবে না। এছাড়া গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাত ব্যক্তি অংশ নিয়ে কোরবানি দিতে পারবে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) হাদিসে উট ও গরু-মহিষের বিষয়ে বলেছেন, একটি উট ও গরু-মহিষে সাতজন মানুষ কোরবানির জন্য শরিক হতে পারবে। (মুসলিম, হাদিস : ১৩১৮)

যে সকল সমস্যা থাকলে পশু দিয়ে কোরবানি দেয়া যাবে না : কোরবানির পশুকে অবশ্যই দোষ-ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। পশুর মধ্যে যদি কোনো সমস্যা বা ত্রুটি থাকে তাহলে তা দিয়ে কোরবানি দেয়া যাবে না। সেই বিষয়গুলো বর্ণনা করা হলো-

পশুর দৃষ্টিশক্তি না থাকা, শ্রবণ ক্ষমতা না থাকা, অত্যন্ত দুর্বল ও জীর্ণ-শীর্ণ, এতটাই লেংড়া যে জবাই করার স্থানেও হেঁটে যেতে অক্ষম, লেজের অধিকাংশ অংশ কাটা, জন্মগতভাবে কান না থাকা, কানের অধিকাংশ ভাগ কাটা। গোঁড়াসহ শিং উপড়ে যাওয়া, অধিকাংশ দাঁত না থাকা, রোগের কারণে স্তনের দুধ শুকিয়ে যাওয়া, ছাগলের দুটি দুধের যেকোনো একটি কাটা ও গরু-মহিষের চারটি দুধের যেকোনো দুটি কাটা।

এসব থেকে এটা স্পষ্ট যে, কোরবানির পশুকে অবশ্যই বড় ধরনের সমস্যা বা ত্রুটি থেকে মুক্ত হেতে হবে। বিশ্বনবী (সা.) হাদিসে বলেছেন, চার প্রকার পশু দিয়ে কোরবানি কখনো জায়েজ হবে না। অন্ধ- যার অন্ধত্ব স্পষ্ট, রোগাক্রান্ত- যার রোগ স্পষ্ট, পঙ্গু- যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট ও আহত- যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১৪৪)

কোন ধরনের সমস্যা বা ত্রুটি থাকার পরও কোরবানি দেয়া যাবে : পশুতে কিছু ত্রুটি থাকার পরও কোরবানি দেয়া জায়েজ রয়েছে। পশু পাগল তবে সে ঠিকমতো ঘাস-পানি খায়, লেজ বা কানের কিছু অংশ কাটা (অধিকাংশ অংশ রয়েছে), জন্মগতভাবে শিং নেই, শিং রয়েছে তবে ভাঙা, ছোট কান, পশুর এক পা ভাঙা তবে বাকী তিন পা দিয়ে চলাফেরা করতে পারে। পশুর গায়ে চর্মরোগ, কিছু দাঁত নেই তবে অধিকাংশ দাঁত রয়েছে, স্বভাবগত এক অণ্ডকোষ, বয়স হওয়ায় বাচ্চা জন্মদানে অক্ষম পশু, পুরুষাঙ্গ কেটে যাওয়ায় সঙ্গমে অক্ষম।

এসআর/

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission