ইতিহাস-ঐতিহ্যে কলকাতার টাঙ্গা

আশরাফুল আলম আশিক

মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭ , ০৪:৩২ পিএম


ইতিহাস-ঐতিহ্যে কলকাতার টাঙ্গা

পুরনো শহর কলকাতা।‘সিটি অফ জয়’ কিংবা  ‘সিটি অব কালচার’ নামেও খ্যাত। এ শহরকে কেন্দ্র করে জড়িয়ে রয়েছে কতশত স্মৃতি, ইতিহাস আর ঐতিহ্য। ভিক্টোরিয়া, হাওড়া ব্রিজ, ট্রাম বা রসগোল্লা সবই ঐতিহ্যের অংশ এখানকার।

শহরের রাস্তার দু’পাশে পুরনো দালান কোঠাও যেন ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন। তবে শহরের জীবনযাত্রার মান সময়ের আবর্তে পাল্টেছে। সব কিছুতেই লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া।  কিন্তু আজও রয়ে গেছে কলকাতার ঐতিহ্য টাঙ্গা বা হাত-টানা’ রিকশা। শহরের রাস্তায় বের হলে এখনও শুনতে পাওয়া যায় চিরচেনা ঠুং ঠুং শব্দ।

এ রিকশা সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত হয় জাপানে। ১৮৬৭-৬৮ সাল নাগাদ। এরপর ১৮৮০ সালের সিমলায় চীনা ব্যবসায়ীদের হাত ধরে প্রথম চালু হয় রিকশাটি। সেখান থেকে চলে আসে কলকাতায়। জানা যায়, ১৯১৪ সালে প্রথম ভাড়াটে রিকশার চলন হয়। শতবছর ধরে যা আজও চলছে।

টাঙ্গা বা হাতে-টানা রিকশাটি সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি। চাকা দু’টিও কাঠের তৈরি। পা রাখার জায়গা থেকে যুক্ত থাকে রিকশা টেনে নেওয়ার হাতল। যাত্রীর বসার সুবিধার জন্য তৈরি করা হয় খড়ের আরামদায়ক গদি। তবে এ হাতে-টানা রিকশাটিতে রোদ-বৃষ্টি থেকে যাত্রী কে রক্ষা করার জন্য থাকে ছাউনি।

শহর ঘুরে দেখা যায়, পার্ক স্ট্রিট, মার্কু স্ট্রিট, নিউমার্কেট এলাকা, কলেজ স্ট্রিটসহ শহরের বিভিন্ন জায়গা এ বাহন চলে। তবে দেখা যায়, এ রিকশার অধিকাংশ চালকই প্রবীণ।

জানা যায়, নবীনরা আর এ পেশায় আসতে চান না। এ পেশা যেমন কষ্টদায়ক তেমনি কম লাভজনক। রিকশাচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দূরত্ব ভেদে ভাড়া ১০-৫০ রুপি পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিদিন প্রায় ২০০-৩০০ রুপি পর্যন্ত আয় করেন তারা।

নিউমার্কেটের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকে সারি সারি হাত-টানা রিকশা। অপেক্ষায় থাকে যাত্রীর আশায়। তাদেরই একজন শ্যামল দাস। ঠুং ঠুং ঘণ্টা বাজিয়ে চলেছেন শ্যামল দাস। যাত্রীদের নজর কারতে এ ঘণ্টা বাজানো হয় বলে জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, ৩০ বছর ধরে চালিয়ে আসছি। অন্য কোনো কাজ নাই। যা আয় হয় এই দিয়েই দিন চলে যায়। এটা কলকাতার ঐতিহ্য।

এ ঐতিহ্য  কোনো দিনও হারাবে না। তবে প্রশ্ন রয়েই যায়, কে কাকে টানছে? ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ রিকশা টানছে নাকি ঐতিহ্য নাকি দরিদ্রতা বৃদ্ধকে এভাবে টেনে নিয়ে যাচ্ছে?

ঐতিহ্যের এ বাহন স্থান পেয়েছে বিভিন্ন সিনেমাতেও। বিমল রায়ের ‘দো-বিঘা জামিন’ সিনেমায় দেখা গেছে গ্রামীণ এক কৃষকের কাজের সন্ধানে কলকাতায় আসা। অতঃপর এ রিকশাকে জীবিকা বানানোর গল্প। অপর আরেকটি সিনেমায় ‘সিটি অফ জয়’ তেও দেখা যায় এ রিক্সার ব্যবহার। তাছাড়া কলকাতাকেন্দ্রিক অনেক সিনেমাতেই এ রিক্সাকে দেখা যায়।

আধুনিক গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এটি টিকে থাকতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে হয়তোবা একদিন বিদায় নেবে এ টাঙ্গা বা হাত-টানা রিকশা। ভবিষ্যৎ কলকাতার কোনো প্রজন্ম হয়তোবা চিনবে না। জানবে না। তবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।

কিন্তু এটা সত্যি যে কাঠের তৈরি চাকা আর খড়ের তৈরি গদির টানা-রিকশায় শুধু মানুষই নয় বরং কলকাতার ঐতিহ্যও বয়ে যাচ্ছে শতবছর ধরে।

ওয়াই/আরকে

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission