বর্তমান সমাজে এতিম অসহায় শিশুর সংখ্যা কম নয়। দরিদ্র অসহায় দুস্থ ও এতিমদের জন্য ইসলাম সমাজের ওপর অনেক দায়িত্ব দিয়েছে। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি ও এতিমের অভিভাবক জান্নাতে দুই আঙুলের ন্যায় অতি কাছাকাছি থাকব।’ (বুখারি : ৬০০৫)
অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি এতিমের খোরপোশ ও লালন-পালনের যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত দান করবেন।’ (তিরমিজি : ১৯১৭)
এতিমের মর্যাদা সম্পর্কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, বিধবা, এতিম ও গরিবের সাহায্যকারী ব্যক্তি আল্লাহর পথে মুজাহিদের সমতুল্য। অথবা তার মর্যাদা সেই (নামাজের জন্য) রাত জাগরণকারীর মতো, যে কখনও ক্লান্ত হয় না। অথবা তার মর্যাদা সেই রোজাদারের মতো, যে কখনও ইফতার (রোজা ভঙ্গ) করে না। (মুসলিম : ৫২৯৫)।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, জাকাত-সদকা এতিম-মিসকিন ও গরিবদের অধিকার। জাকাতের আটটি খাতের মধ্যেও অসহায় দরিদ্র এতিমের কথা রয়েছে।
ইসলাম এতিমের সঙ্গে উত্তম আচরণ, এতিমের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি এতিমের সঙ্গে কঠোর ও রূঢ় আচরণ থেকেও কঠিনভাবে নিষেধ করেছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘সুতরাং আপনি এতিমের প্রতি কঠোর হবেন না।’ (সুরা আদদোহা : ৯)
বর্তমান সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, এতিমের প্রতি অবহেলা ও তুচ্ছতা করা হয়। এতে এসব এতিম ও অনাথ শিশুরা এক ধরনের প্রতিহিংসা নিয়ে বেড়ে ওঠে। মানুষ খাবার খাচ্ছে, কিন্তু সে পাচ্ছে না, এ চিন্তা হিংসার জন্ম দেয়। অন্যদের বস্ত্র আছে, কিন্তু তার নেই এ চিন্তা প্রতিশোধপরায়ণ করে তোলে। এতে এসব শিশুর আচরণ বিকৃত হয়ে যায়। ধ্বংস হয় সুন্দর জীবন।
এ জন্য ইসলামে এতিমের প্রতি বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। নিকটাত্মীয়দের থেকে কারো এগিয়ে আসা উচিত। এ ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়, যেন কোনো হক নষ্ট না হয়। এতিমের অধিকার রক্ষা করতে ও অন্যায়ভাবে অধিকার হরণ না করতে হাদিসে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




