ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

সুদবিহীন কিস্তিতে বাড়ি নির্মাণের সফল উদ্যোক্তা মামুন হাসান

রায়হান আহমেদ তামীম

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২২, ০২:১৮ পিএম
আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২২, ০২:২৮ পিএম
উদ্যোক্তা মামুন হাসান

দেশে প্রথমবারের মতো সুদ বিহীন সহজ কিস্তিতে বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছেন সফল উদ্যোক্তা মামুন হাসান। ইতোমধ্যে সুদ বিহীন কিস্তিতে শতাধিক বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই তরুণ। যা দেশের ইতিহাসে বিরল। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বাড়ি নির্মাণের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরছেন।

মামুন হাসানের জন্ম ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। তরুণ এই উদ্যোক্তার সফলতার পেছনে রয়েছে এক দুর্দমনীয় সংগ্রামের গল্প। কোনো রকম সুদ ছাড়াই কিস্তির মাধ্যমে টাকা নিয়ে মানুষের স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণ করে দিতে গিয়ে দেড় কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হয়েছে তাকে। তবুও মানুষের স্বপ্ন পূরণ করা থেকে পিছু হটেননি। হেঁটে গেছেন কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের উদ্দেশে।

তার অনুপ্রেরণার গল্প জানতে চাইলে উদ্যোক্তা মামুন হাসান বলেন, মালয়েশিয়াতে আমি যখন একটি কোম্পানির ফোরম্যান ছিলাম তখন এক চাচাকে দেখলাম, যিনি তার পরিবারের সঙ্গে রাগারাগি করে কথা বলছিলেন। তার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, তিনি ঠিকাদার রাজমিস্ত্রির মাধ্যমে তার জমানো পুঁজি দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। মিস্ত্রি তাকে বলেছিল ছাদ ঢালাই করতে খুব বেশি অর্থ খরচ হবে না। মিস্ত্রির কথা শুনে তার পরিবারের সদস্যরা বিল্ডিং করার কথা জানায়। এর পর তিনি টাকা ধার করে পাঠালেও দুই বছর পার হওয়ার পরেও বিল্ডিং নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি এখনো।

অসংখ্য প্রবাসীর এমন অবস্থা দেখেই মূলত আমার দেশে এসে কন্সট্রাকশন নিয়ে কাজ করার আগ্রহ জন্মায়। প্রবাসী ভাইদের সহজে সবকিছু তৈরি করে দিতে সুদ মুক্তভাবে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করি।

বাড়ি নির্মাণ সম্পর্কে খুঁটিনাটি মানুষের সামনে তুলে ধরতে খুলেছেন ইউটিউব চ্যানেল। এই সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকেই নির্মাণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জেনে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে ধরা খাচ্ছেন। এই সমস্ত মানুষের কথা ভেবে আমি আমার কোম্পানির নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলি। এই চ্যানেলের মাধ্যমে সবাইকে বাড়ি নির্মাণের সঠিক তথ্য জানাই। একই সঙ্গে আমার চলমান প্রজেক্টগুলো লাইভ দেখাই। আলহামদুলিল্লাহ বর্তমানে আমার ইউটিউব চ্যানেলটি মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মানুষের ভালোবাসায় আমার ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা দুই লাখ ছুঁই ছুঁই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উদ্যোক্তা মামুন হাসান কিশোর বয়সেই একজন কন্সট্রাকশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার স্বপ্ন দেশের প্রতিটি জেলায় মাত্র ৬০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের মাধ্যমে কোনো প্রকার সুদ বা ইন্টারেস্ট ছাড়াই মানুষের স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া। বর্তমানে দেশের ৪২টি জেলায় তার কোম্পানি মানুষের স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে।

২০০৯ সালে এসএসসি পাসের পর থেকেই নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। এরপর দীর্ঘ ছয় বছর কন্সট্রাকশন সম্পর্কিত নানা কাজ শেখেন। ২০১৫ সালে প্রফেশনাল ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানেও তিনি নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কাজের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে সিভিল কন্সট্রাকশনের ওপর ৬ মাস এবং এক বছর মেয়াদী দুটি কোর্স করেন। মালয়েশিয়াতে ছোট, বড় নানা ধরনের বাড়ি নির্মাণ করেছেন এই তরুণ। দেশের মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহ থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর গড়ে তুলেছেন, এম-সিটি গ্রুপ। এই গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠান হিসাবে রয়েছে আরও চারটি প্রতিষ্ঠান। এমএইচসি কন্সট্রাকশন, এমএইচ গার্ডিয়ান প্রোপার্টিজ লিমিটেড, এমএইচ ইন্টেরিওর লিমিটেড এবং এমএইচ র‌্যাঞ্চ লিমিটেড।

মামুন হাসান বলেন, আমার সফলতার গল্প এত সহজ ছিল না। দেশের কন্সট্রাকশন বাজার অনেক কঠিন। সেখানে কীভাবে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরা যায়— তা নিয়েই ভাবতাম। শুরুর দেড় বছর আমাকে অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে। তবে আমি ভেঙে পড়িনি। নিজের লক্ষ্য পূরণে অটুট ছিলাম। ধৈর্য এবং পরিশ্রম করলে যে সফলতা আসবে এই বিশ্বাস ছিল। সেজন্যই হয়তো আজ আল্লাহর রহমতে স্বপ্নপূরণের পথে অনেকদূর এগুতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম আমরাই মাত্র ৬০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে মানুষের স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছি এবং বাকি ৪০ শতাংশ অর্থ ৩৬টি কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ করে দিয়েছি। এই অর্থের ওপর কোনো সুদ দিতে হয় না। আমার মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের সেবা করা। সাধারণ মানুষের স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করে দেওয়া। ইনশাআল্লাহ এম-সিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এমএইচসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড সর্বদা বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সালতামামি ২০২২ / প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছে যেসব সিনেমা
করোনা মহামারির প্রকোপ কাটিয়ে বিদায়ী বছরে এসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ঢালিউড। ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’র মতো সিনেমার সাফল্যে জোয়ার ওঠে বাংলা সিনেমায়। একের পর এক প্রশংসনীয় সিনেমার কারণে হলমুখী হয়েছেন দর্শকরা। চলুন এক নজরে জেনে নেওয়া যাক ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত কিছু সিনেমা প্রসঙ্গে- হাওয়া : মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘হাওয়া’। মুক্তির আগে থেকেই গানে গানে আলোচিত ছিলো সিনেমাটি। বিশেষ করে ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানে মেতেছিলেন শ্রোতারা। মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহগুলোতে হাউজফুল গেছে সিনেমাটি। পাশাপাশি বিক্রি হয়েছে অগ্রিম টিকিটও। সুস্থধারার বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের মাঝে সিনেমা হলে যাওয়ার আগ্রহের যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, সেটি ‘হাওয়া’ আরও এগিয়ে নিয়েছে বলে মনে করছেন দেশের সিনেমাবোদ্ধা ও অভিজ্ঞরা। তারকাবহুল এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি, শরিফুল রাজ, সুমন আনোয়ার, নাসির উদ্দিন খান, সোহেল মণ্ডল, রিজভী রিজু, মাহমুদ হাসান ও বাবলু বোস। অপারেশন সুন্দরবন : এক সময় সুন্দরবন ছিলো ডাকাতদের একতরফা দাপট। তাদের নির্যাতনে সবসময় তটস্থ থাকত জেলেরা। অপহরণ, মুক্তিপণ দিতে না পারলে হত্যা- সবই নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সুন্দরবনকে দস্যুমক্ত করার জন্য র‌্যাবের দুঃসাহসিক অভিযানের ঘটনা নিয়েই নির্মিত হয়েছে ‘অপারেশন সুন্দরবন’। র‌্যাব ওয়েলফেয়ার কো-অপারেটিভ সোসাইটির প্রযোজনায় সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন দীপংকর দীপন। ভিন্ন ধারার এই সিনেমা দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিয়াজ আহমেদ, সিয়াম আহমেদ, নুসরাত ফারিয়া, জিয়াউল রোশান, মনোজ প্রামাণিক, দর্শনা বণিক, তাসকিন আহমেদ, রাইসুল ইসলাম আসাদসহ অনেকে। শান : সত্য ঘটনা অবলম্বনে পুলিশি অ্যাকশন থ্রিলার গল্পের ‘শান’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে গত ৩মে। এম রাহিমের পরিচালনায় এতে মূখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। তার সঙ্গী হয়েছেন পূজা চেরি। ঈদুল ফিতরে দেশের সব বড় বড় হলে সিনেমাটি মুক্তি পায়। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আমেরিকায় ‘শান’ দেখতে দর্শকদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও মালয়েশিয়া, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়াতে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হয়। দামাল : গত ২৮ অক্টোবর সারাদেশে মুক্তি পায় রায়হান রাফীর সিনেমা ‘দামাল’। মুক্তির পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে ছিল সিনেমাটি। মূলত, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গঠিত স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম, সিয়াম আহমেদ, শরিফুল রাজ, সুমিত সেনগুপ্ত, রাশেদ অপু, সাঈদ বাবু, শাহনাজ সুমি প্রমুখ। গলুই : গত ৩ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে ঢাকাই কিং শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘গলুই’। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের আগ্রহের তালিকায় ছিল সিনেমাটি। ‘গলুই’-তে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি সহজ-সরল প্রেম কাহিনিও রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে নির্মিত সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এস এ হক অলিক এবং প্রযোজনা করছেন খোরশেদ আলম খসরু। এই সিনেমায় শাকিব খানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধেন নতুন প্রজন্মের নায়িকা পূজা চেরি। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে ছিলেন আজিজুল হাকিম, ফজলুর রহমান বাবু, সুচরিতা, আলী রাজ, ঝুনা চৌধুরী, সমু চৌধুরী, পুষ্পসহ আরও অনেকেই।
প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছে যেসব সিনেমা
বর্ষবরণের রাত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে কতটা নিরাপদ
২০২২ শেষে চলে এলো ২০২৩। খ্রিষ্টীয় নতুন বছরকে বরণ করার বৈশ্বিক আয়োজন এখন বঙ্গদেশেও ‘প্রথা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষবরণের এই রাতে দেশের আকাশেও আলোর ফুলকি ছোটে। হাওয়ায় ভাসে ফানুস। চোখে ধরা পড়ে দৃষ্টিনন্দন সব আয়োজন। কিন্তু ঘনবসতির দেশে এসব আয়োজন নিরাপদ নয়। অনেক সময় নতুন বছর উদযাপনের এই আচরণ ঠিক সভ্যতার সীমার মধ্যেও থাকে না। নানান সব আয়োজনের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে বর্ষবরণের নতুন অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ হয়েছে ফানুস ওড়ানো। রাতের আঁধারে হাজার হাজার ফানুস দৃষ্টিসীমাজুড়ে নান্দনিকতা তৈরি করলেও অগ্নি দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। আর রাজধানীর উন্মুক্ত স্থানে থাকা বিদ্যুতের তারে গিয়ে ফানুস পড়লেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর পুরান ঢাকায় রাসায়নিকের গুদাম থাকায় সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আরও বেশি। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, শীতের এই সময় আবহাওয়া ও নগরের অবকাঠামো শুষ্ক থাকায় এমনিতেই অগ্নিঝুঁকি বেশি থাকে। আর এ সময় যদি আনন্দের নামে এভাবে ফানুস উড়ালে, এ ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। শুভ ইচ্ছায় উড়িয়ে দেওয়া ফানুস, দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উড়ন্ত ফানুস কোথায় আটকে যাচ্ছে কিংবা জ্বলন্ত অবস্থায় কোথায় গিয়ে পড়ছে, তা হয়তো জানতেও পারছেন না। এভাবেই ‘দুর্ঘটনা’ ঘটে যেতে পারে যত্রতত্র। এতে ক্ষতি হতে পারে মানুষের জীবনের। তাই এবার রাজধানীতে এসব দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিশেষ করে ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে থার্টিফার্স্টের নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে কোথাও আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস ওড়ানো যাবে না।’ তিনি বলেন, ঢাকা শহর যেহেতু অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং এর আগেও আমরা দেখেছি ফানুস ওড়ানোর কারণে নানা ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, ফলে এবার আমরা ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছি। এর ব্যত্যয় হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। এজন্য থার্টিফার্স্টে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সাদাপোশাকে এবং নিজেদের পোশাকে পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে, যেন কোনো ধরনের নাশকতার উদ্দেশে জঙ্গি বা সন্ত্রাসীরা যাতায়াত করতে না পারে। পাশাপাশি উগ্র ও জঙ্গিগোষ্ঠী যেন কোনো ধরনের নাশকতার তৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য আমরা সতর্ক থাকব। সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল টিম এবং ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে।’ ২০২১-এর ৩১ ডিসেম্বর ইউসুফ রায়হান নামের এক বাবার ফেসবুক পোস্ট সবার মনে থাকার কথা। তবুও এখানে তুলে ধরছি- ‘কী ভীষণ শব্দে আতশবাজি! আমার ছোট্ট বাচ্চাটি এমনিতেই হার্টের রোগী। আতশবাজির প্রচণ্ড শব্দে শিশু বাচ্চাটি আমার ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে। খুব ভয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। খুবই আতঙ্কের মধ্যে সময়টা পার করছি।’ পরে তার আরেক পোস্টে জানা যায়, শিশুটিকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিতে হয় এবং নতুন বছরের প্রথম দিনই মারা যায় সে। অন্যদের আনন্দ উদযাপন নতুন বছরের শুরুতেই একটি পরিবারে শোক ডেকে আনল। শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক আহমেদুর রহমান ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন- ‘একটা বাচ্চা এসেছে ফানুস ওড়াতে গিয়ে মোম পড়েছে চোখে-মুখে। একজন তরুণের সরাসরি চোখেই আগুন হালকা লেগেছে। একজন পথচারীর মুখ ফানুসের আগুনে পুড়েছে। এক মাদরাসাছাত্র ফানুসের আগুনে বৈদ্যুতিক তার পুড়ছে দেখে সেটা নেভাতে গিয়ে নিজের হাত ইলেকট্রিক বার্ন নিয়ে এসেছে (সেই হাতে একটা বড় অপারেশন লাগবে)। একজন ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু’ আতশবাজি কাছ থেকে দেখতে গিয়ে চোখ-মুখ পুড়িয়েছে; বেচারা তার সমস্যার কথা বলতেও পারছে না। এ রকম বেশ কয়েকজন এসেছেন যাদের পটকায় এক বা একাধিক আঙুল উড়ে গেছে।’ এসব চিত্র এক বছর আগের। এখন আরেকটি থার্টি ফার্স্ট নাইট সন্নিকটে। আমরা কি গতবারের থেকে শিক্ষা নেব? নাকি আগামীকালও শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট বা অন্য কোনো হাসপাতালে একই করুণ পরিস্থিতি দেখতে হবে? অবশ্যই সেটি কেউ-ই চাই না। কিন্তু আমাদের চাওয়া আর বাস্তবতার মধ্যে অনেক সময় ফারাক থেকে যায়, ফলে আশঙ্কা করতে হয়। হাজার হাজার মানুষ যদি আতশবাজি ফোটায় আর ফানুশ ওড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এরপরেও আমরা বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে সেটি পারে। ২০২২ সালের শুরুতে যে করুণ সংবাদ আমরা পেয়েছি, তার আর না আসুক! তাই ফানুস নামের অনুষঙ্গটিকে বাদ দিয়েই উৎসব করুন। সচেতন মানুষ হিসেবে এটি সকলের দায়িত্ব। তবে মনের আকাশে উড়াতে পারেন কল্পনার ফানুস।
বর্ষবরণের রাত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে কতটা নিরাপদ
‘নিজেদের স্বার্থে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে’
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেছেন, পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের মতো এত বেশিসংখ্যক বিভাগ ও সেন্টার নেই। শিক্ষাকে দেশ ও বিদেশের কাছে অর্থবহ করার জন্য আউটকাম বেইজড এডুকেশন বা ফলনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার দিকে সরকার মনোযোগ দিয়েছে। তবে তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢালাওভাবে প্রফেসর সংখ্যা বৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করেন।  ‘রাষ্ট্রনীতিতে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা ও দর্শনের প্রয়োগ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটরিয়ামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, ইউজিসি সদস্য ও ইআরডিএফবির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন। দেশের কিছু কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে দাবি করে ইউজিসি চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ওনারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে সরে আসছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। ছাত্র, অভিভাবকসহ সমাজে প্রতিনিয়ত আমাদেরকে এখন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এসময় তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার এবং গুণগত শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এখন ঘরে ঘরে জিপিএ ফাইভ বা টপার আছে। অথচ তারা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে ৫৪ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি প্রাপ্ত হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণি প্রাপ্ত হয়নি। অথচ আমার সময়ে মাত্র ১/২ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি পেতো।
‘নিজেদের স্বার্থে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যবহার করছে’
একাদশে ভর্তির সুযোগ পেল ১২ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী
প্রথম ধাপের ফলাফলে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছে ১২ লাখ ৭৮ হাজার ১১৪ শিক্ষার্থী। প্রথম ধাপে ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৪৬ জন আবেদন করেছিল। এর আগে, শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফল প্রকাশ করা হয়। অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রথম ধাপের ফল জানা যাচ্ছে। এ বছর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কলেজের ৭০ লাখ ২০ হাজারের বেশি আসন চয়েস দিয়েছে। অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (www.xiclassadmission.gov.bd) প্রবেশ করে ফলাফল জানা যাচ্ছে।
একাদশে ভর্তির সুযোগ পেল ১২ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক শ্যামল
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে শ্যামল দত্ত নির্বাচিত হয়েছেন। তারা দুজনই আওয়ামী লীগপন্থী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফোরামের প্রার্থী ছিলেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। এরপর ভোট গণনা শেষে রাত ৮টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা-ই-জামিল। ফলাফল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি পদে জয়ী ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন ৫৬৭ ভোট। তার বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে কামাল উদ্দিন সবুজ পেয়েছেন ৪০১ ভোট। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী শ্যামল দত্ত পেয়েছেন ৪৯৬ ভোট। তার বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে ইলিয়াস খান পেয়েছেন ৪৭৪ ভোট। একইসঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে হাসান হাফিজ (৫৫৯ ভোট), সহ-সভাপতি রেজোয়ানুল হক রাজা (৫৮৩ ভোট), যুগ্ম-সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া (৫৪০ ভোট) ও আশরাফ আলী (৪৯১ ভোট) ও কোষাধ্যক্ষ পদে শাহেদ চৌধুরী (৫৭৬ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচিত ১০ সদস্য হলেন- ফরিদ হোসেন (৪৯৫ ভোট), কাজনী রওনক হোসেন (৪২২ ভোট), শাহনাজ সিদ্দীকি সোমা (৩৯০ ভোট), কল্যাণ সাহা (৩৮২ ভোট), শাহনাজ বেগম পলি (৩৬০ ভোট), সৈয়দ আবদাল আহমদ (৩৪৭ ভোট), জুলহাস আলম (৩৪৫ ভোট), বখতিয়ার রানা (৩৩০ ভোট) মোহাম্মদ মমিন হোসেন (৩৩০) ও সীমান্ত খোকন (২৮৯ ভোট)। নির্বাচিতরা আগামী দুইবছর জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব দেবেন। এবার কার্যনির্বাহী পরিষদের ১৭টি পদে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটার ছিলেন ১ হাজার ১০২ জন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক শ্যামল
আরও পড়ুন
প্রবাসী সন্তানের টাকায় বাড়ি নির্মাণ, তাকে দেখেই গেটে তালা
ড্রাম ভর্তি মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার
মাটির নিচে সাড়ে ৫ মণ ওজনের গরুর মূর্তি