ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষাঙ্গনের সমীকরণ: আধিপত্যের পুনরাবৃত্তি, নাকি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা

সানজিদা জান্নাত পিংকি

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
সানজিদা জান্নাত পিংকি : ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়। এটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম ক্ষেত্র। ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি ঐতিহাসিক বাঁকে শিক্ষাঙ্গনই ছিল পরিবর্তনের কেন্দ্র। তাই ক্যাম্পাসের রাজনীতিকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, তারই প্রতিফলন একসময় জাতীয় রাজনীতিতে দেখা যায়।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর প্রাক্কালে দেশের শিক্ষাঙ্গনে যে চিত্র দেখা গেল, তা আশাব্যঞ্জক নয়। গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতীক হয়ে ওঠা ক্যাম্পাসগুলোতেই আবার সংঘর্ষের রাজনীতি ফিরে এসেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এবং রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আহতের সংখ্যা ৮০ থেকে ৯০ জনের মধ্যে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা শিক্ষাঙ্গনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনই ঘটায়নি, বরং একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশাও তৈরি করেছিল। সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সহিংসতার পরিবর্তে সহাবস্থান, দখলদারিত্বের পরিবর্তে অংশগ্রহণ এবং দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। কিন্তু দুই বছর না পেরোতেই দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

আরও পড়ুন

আগস্টের শুরুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। বিভিন্ন ঘটনায় আহত হন বহু শিক্ষার্থী। প্রতিটি ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিয়েছে। এসব ঘটনা দেখিয়েছে, রাজনৈতিক বাস্তবতা পাল্টালেও ক্যাম্পাসে সংঘাতের সংস্কৃতি এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। তবে এই ঘটনাগুলোকে কেবল দুটি ছাত্রসংগঠনের বিরোধ হিসেবে দেখলে বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আড়াল হয়ে যায়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, কেন শিক্ষাঙ্গনে আবারও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি ফিরে আসছে?

উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রতিটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যদি শুধু আধিপত্যের বাহক বদলায়, কিন্তু আধিপত্যের সংস্কৃতি অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মূল লক্ষ্যই ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, ছাত্রসংসদ কিংবা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে যদি আবারও শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে তার প্রভাব শুধু ক্যাম্পাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ চরিত্রকেও প্রভাবিত করবে।

দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যত একক আধিপত্যের একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল। সেই বাস্তবতা ভেঙে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই নতুন শক্তিগুলো নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির এবং অন্যান্য ছাত্রসংগঠন সবাই নতুন রাজনৈতিক পরিসরে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সক্রিয়। গণতান্ত্রিক সমাজে এই প্রতিযোগিতা অস্বাভাবিক নয়। বরং বহুমতের উপস্থিতিই একটি উন্মুক্ত ক্যাম্পাসের লক্ষণ।

কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা আর আধিপত্যের প্রতিযোগিতা এক বিষয় নয়। যখন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুক্তি, নির্বাচন, সাংগঠনিক দক্ষতা ও শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনের বদলে পেশিশক্তি, ভয়ভীতি কিংবা সংঘর্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তখন তা আর গণতান্ত্রিক থাকে না। তখন কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরও পড়ুন

এখানেই বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি রয়েছে। আওয়ামী লীগ-পরবর্তী সময়ে ছাত্ররাজনীতির প্রতিযোগিতা নতুন রূপ পেয়েছে। আগে যে সংঘাত অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন বিরোধী রাজনৈতিক পরিসরের মধ্যেও সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিযোগিতা দৃশ্যমান। এটি রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের একটি স্বাভাবিক লক্ষ্যণ হতে পারে। তবে সেই পুনর্বিন্যাস কোন পথে এগোবে–সহাবস্থানের পথে, নাকি আধিপত্যের পথে? সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

এই বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষতা, আইনের সমান প্রয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সংঘাত আরও গভীর হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে তাদের ছাত্রসংগঠনকে এমন বার্তা দেওয়া যে, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্র নয়; এটি নেতৃত্ব, যুক্তিবোধ ও গণতান্ত্রিক চর্চার বিদ্যালয়।

এখানে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আজকের শিক্ষার্থীরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তথ্যনির্ভর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন। তারা শুধু দলীয় পরিচয় দেখে নয়; নেতৃত্বের আচরণ, জবাবদিহি, সহিষ্ণুতা এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাও মূল্যায়ন করে। ফলে যে ছাত্রসংগঠন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, আবাসন, গবেষণা, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, দীর্ঘমেয়াদে তার গ্রহণযোগ্যতাই বাড়বে।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে আধিপত্যের সংস্কৃতি নতুন নয়। কিন্তু ইতিহাস এটাও বলে, দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক বৈধতা কখনো কেবল শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; তা গড়ে ওঠে আস্থা, অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক আচরণের ভিত্তিতে। সেই কারণে আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কোনো সংগঠন কতটি হল নিয়ন্ত্রণ করছে বা কতটি ক্যাম্পাসে প্রভাব বাড়াচ্ছে, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, শিক্ষাঙ্গনে কী ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রক্ষমতার অনুশীলনের ক্ষেত্র হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রক্ষমতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠলে তার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তি তার স্বাধীন চিন্তা, বিতর্ক, গবেষণা এবং ভিন্নমতকে ধারণ করার ক্ষমতায়। সেই পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতি কোনো একক ছাত্রসংগঠনের নয়; ক্ষতি দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের।

বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গন আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এই সময়ের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যদি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে, তাহলে তা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ভিত্তি তৈরি করবে। কিন্তু যদি কেবল আধিপত্যের বাহক বদলায়, আর আধিপত্যের সংস্কৃতি অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম বড় প্রত্যাশাই অপূর্ণ থেকে যাবে। ২০২৪ সালের আন্দোলন শিক্ষার্থীদের সামনে একটি নতুন রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না, তার একটি বড় পরীক্ষা এখন শিক্ষাঙ্গনেই। বিশ্ববিদ্যালয় কি আবার সংঘর্ষ, প্রতিশোধ ও নিয়ন্ত্রণের রাজনীতির কাছে ফিরে যাবে, নাকি ভিন্নমতের সহাবস্থান, নির্বাচনী প্রতিযোগিতা ও যুক্তিনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি গড়ে তুলবে? এই প্রশ্নের উত্তরই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

লেখক : সাবেক সভাপতি, গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও শিক্ষানবিশ আইনজীবি

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সন্ধিক্ষণ...
মহালয়া আসলে কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, মানুষের অস্তিত্বের ভেতরে বারবার ফিরে আসা এক সন্ধিক্ষণের নাম।
সন্ধিক্ষণ...
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শঙ্কায় আছেন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের দুই বছর পর ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
আজ মহান শিক্ষক দিবস। জীবনের এই বিশেষ দিনে সবার আগে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই আমার জীবনের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক—আমার আম্মুকে। আমার জীবনের প্রতিটি ভালো অর্জনের পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। তার ভালোবাসা, শাসন, ত্যাগ ও নিরন্তর অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। এরপর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমার স্কুলজীবনের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের—প্রধান শিক্ষক দীন ইসলাম স্যার, ফরিদা ইয়াসমিন (আমার চাচি), নিপা মেম, হেলানা মেম ও ফাতেমা মেমকে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্নেহেই চতুর্থ শ্রেণিতে আমার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করেছিল। তাদের শেখানো অনেক কথাই আজও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন মাধ্যমিক জীবনে পা রাখলাম, তখন নতুন করে কিছু মানুষ আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাদের স্নেহ, শাসন ও অনুপ্রেরণায় পেয়েছি নতুন পথের সন্ধান। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রেহানা মেম, শিলা মেম, তানিয়া মেম, দোলা মেম, হুজুর স্যার ও রাসেল স্যার অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই পেয়েছি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এরপর এলো কলেজজীবন। জীবনের এই অধ্যায়েও কিছু মানুষ আমার স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলেছেন। রাবেয়া মেম, দীপ্তি মেম, শামীম স্যার, দেলোয়ার স্যার ও আবুবকর স্যার—তাদের নাম আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তারা আমাকে শুধু পড়াননি; বরং স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করিয়েছেন—‘আমি পারব।’ তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার ফলেই আজ আমি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাদের অনুপ্রেরণায়ই ঢাবিতে (কলা অনুষদের নরমাল সাবজেক্টে), রাবি ও চবিতে ভর্তির সুযোগ হয়েছিল। আমার জীবনের সেই সময়ে তাদের উৎসাহ ও বিশ্বাস আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পথচলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদানও আমি কখনো ভুলব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের যে স্নেহ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা—তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং জীবনকে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে হয়, সেটিও শেখার সুযোগ পাচ্ছি। শিক্ষাজীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের বাইরেও আমার জীবনে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমার চাচাতো বড় বোন মিম আপুর। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে অনেক অঙ্ক অনুশীলন করিয়েছেন। তার সেই পরিশ্রম ও সময় দেওয়ার সুফল আমি আজও পাচ্ছি। অনেক সময় একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে থাকেন না, কিন্তু তার শেখানোটা সারাজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যায়—মিম আপু আমার জন্য তেমনই একজন। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমার শেখার জগৎকে আরও বিস্তৃত করেছে। সাংবাদিকতা করার সুবাদে আরটিভির অনলাইন ইনচার্জ আজাদ ভাই এবং শিফট ইনচার্জ ইমতিয়াজ ভাইয়ের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। সংবাদকে কীভাবে দেখতে হয়, তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা— এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা আমার ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রতিও রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে কোনো না কোনো শিক্ষক আমার হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন। কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয়, কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে কঠিন সময়ে হাল না ছেড়ে এগিয়ে যেতে হয়, আবার কেউ আমার ওপর বিশ্বাস রেখে আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। আজ আমি যে পরিচয়ে পরিচিত, তার পেছনে আমার বাবা-মায়ের পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের দেওয়া শিক্ষা, শাসন, স্নেহ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। আমার জীবনের পথচলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা। শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নয়; একজন শিক্ষক একটি জীবন বদলে দিতে পারেন। আর জীবনের এই দীর্ঘ পথে কিছু মানুষ শিক্ষক না হয়েও আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যান। তাই এই মহান দিবসে আমার শিক্ষকদেরসহ বিশ্বের সকল শিক্ষকের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা। শুভ শিক্ষক দিবস। আবুবকর সম্পদ জবি সংবাদদাতা, আরটিভি আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি আরটিভি/এমএইচজে
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একটি পরিবারের জন্য বড় সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্থ, সময়, মানসিক চাপ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চিকিৎসা নিয়ে প্রত্যাশা। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার কাছে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়—দ্বিতীয় মতামত নেওয়া। দ্বিতীয় মতামত মানে প্রথম চিকিৎসককে অবিশ্বাস করা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে আরেকজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মতামত জানা। এতে রোগী ও পরিবার রোগের অবস্থা, চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। আমাদের দেশে কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লেই অনেক পরিবার প্রথমে বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবেন। আবার কেউ পরিচিত কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেন। কিন্তু একই রোগ হলেও প্রতিটি রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ঝুঁকি এক নয়। তাই একজনের ভালো অভিজ্ঞতা অন্যজনের জন্য একই ফল নিশ্চিত করে না। আমার দৃষ্টিতে, বিদেশে যাওয়ার আগে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—“আমার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?” এর উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার। রোগটি ঠিক কী? চিকিৎসার উদ্দেশ্য কী? দেশে এই চিকিৎসার উপযুক্ত সক্ষমতা আছে কি না? বিদেশে গেলে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সম্ভাব্য খরচ কত? আর চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কীভাবে হবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। চিকিৎসার মান শুধু একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, রোগীকেন্দ্রিকতা, সময়োপযোগিতা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে গিয়ে একটি চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে আসার পর পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় হবে এবং চিকিৎসার তথ্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসবও সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া মানেই চিকিৎসা পরিবর্তন করতে হবে—এমন নয়। অনেক সময় দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত প্রথম চিকিৎসা পরিকল্পনাকেই আরও পরিষ্কার করে। আবার কখনো নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসতে পারে। মূল বিষয় হলো—রোগী যেন নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া ভুল—এমন কথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিদেশে গেলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণাও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক চিকিৎসার জন্য দেশের মধ্যেই উপযুক্ত সক্ষমতা থাকতে পারে। তাই আমার কাছে বিদেশে চিকিৎসার প্রশ্নটি “দেশ না বিদেশ”—এভাবে দেখার চেয়ে “প্রয়োজনের জন্য সঠিক জায়গা কোথায়?”—এই প্রশ্নে দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীকে কোনো একটি সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং তাকে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় বিকল্প এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত রোগী বিদেশে যাবেন, নাকি দেশে চিকিৎসা নেবেন—সিদ্ধান্তটি তার। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে যথেষ্ট তথ্য ও আস্থার সুযোগ দেওয়া। কারণ চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কখনো কখনো আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুধু একটি অতিরিক্ত পরামর্শ নয়— এটি হতে পারে আরও সচেতন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। লেখক: মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম। আরটিভি/ এসকেডি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের কেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
আরও পড়ুন
রাজনৈতিক প্রচারে ছাড় পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তারা
সেবামূলক সরকারি প্রতিষ্ঠানে চালু হবে ‘মিট দ্য প্রেস’: জহির উদ্দিন স্বপন
সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক বৈষম্য বন্ধের দাবি জকসুর
জামায়াত ‘ইসলামকে’ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে: রাশেদ খাঁন