নিরাপত্তা জোরদার, সীমান্তে সতর্কতা বৃদ্ধি এবং পুরস্কার ঘোষণা সত্ত্বেও রাজধানীর পল্টন থেকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে গেছে দুই প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং আলমগীর হোসেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, তারা গত শনিবার গভীর রাতে ময়মনসিংহের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা হালুয়াঘাট দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে গেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ দুই দালালকে আটক করলেও অভিযুক্তদের দেশত্যাগের বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
গত শুক্রবার দুপুরে পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে এসে রিকশায় থাকা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার হলেও, ফয়সাল ও আলমগীর দ্রুত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মিরপুর থেকে প্রাইভেটকারে ঢাকা ছেড়ে ময়মনসিংহ পৌঁছায়। পরে তারা হালুয়াঘাট দিয়ে ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম গারো পাহাড় জেলার তুরা এলাকায় প্রবেশ করে।
তদন্তে দেখা গেছে, তারা ডিজিটাল ডিভাইস সচল রেখে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেয়, যা পুলিশের প্রযুক্তি নিরীক্ষা এড়াতে সাহায্য করেছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার কোনো তথ্য ইমিগ্রেশন ডাটাবেজে নেই। তবে সীমান্ত পারাপারে জড়িত চক্রের দুই সদস্য আটক হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত মোটরসাইকেলের মালিক গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান হাদি বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী। তার দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে আজ দুপুরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আরটিভি/এসকে




