ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বেগম খালেদা জিয়ার আলোচিত যত বক্তৃতা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৫ এএম
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

‘আমরা সকলকেই বন্ধু হিসাবে দেখতে চাই। কিন্তু কেউ যদি আমাদের বন্ধুর বেশে প্রভু হতে চায়, সেটা আমরা কখনো মেনে নেব না। মানতে দেব না। কারও প্রভুত্ব বাংলাদেশের জনগণ স্বীকার করবে না।’

দেশ ও জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে এমনই আপসহীন ছিলেন সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যত বক্তৃতা করেছেন তিনি, তার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, একনায়কতন্ত্র এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এ দেশনেত্রীর ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তার এমন উপাদান মেলে।

বেগম খালেদা জিয়ার এমনই কিছু বক্তব্য পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো—

গণতন্ত্রের ধ্বংসস্তুপে নতুন স্বপ্ন: রক্তাক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গভীর অসুস্থতা নিয়েও হাসপাতালে বসে প্রথম ভার্চুয়ালি ভাষণে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নায়কদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা অবৈধ ফ্যাসিবাদী সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের বীর সন্তানদের, যারা মরণপণ সংগ্রাম করে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। শত শত শহীদকে জানাই শ্রদ্ধা। এ বিজয় আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে।...এ ধ্বংসস্তুপের মধ্যে আমাদের নির্মাণ করতে হবে এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন

প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসা: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর দীর্ঘদিনের বন্দিদশা কাটে খালেদা জিয়ার। রাজধানীর নয়াপল্টনে ৭ আগস্ট বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। এ সময় তিনি প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি ভুলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। খালেদা জিয়া বলেন, ‘ধ্বংস নয়, প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসা ও শান্তির মাধ্যমে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই: সেনাসমর্থিত এক-এগারোর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং তৎপরবর্তী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ও খালেদা জিয়াকে দেশত্যাগে নানামুখী চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু ক্রমাগত চাপ উপেক্ষা করে দেশনেত্রী তার এক আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, ‘দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই। এই দেশ, এই দেশের মাটি ও মানুষই আমার সবকিছু। কাজেই আমি কোনোভাবেই দেশের বাইরে যাব না।’

খালেদা জিয়া অন্যায় করেনি: ২০১৮ সালের ৭ ফেব্র“য়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের ফরমায়েশি রায় ঘোষণার মাত্র একদিন আগে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেনি। ন্যায়বিচার হলে বেকসুর খালাস পাব।’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ‘বিচারের নামে প্রহসন হলে সেটি হবে ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।’

কাউকে খাটো নয়: নবম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসাবে ২০১৩ সালের জুনে তিনি এক দীর্ঘ ভাষণ দেন। এখানেও তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার, জাতীয় নেতাদের যথাযথ সম্মান প্রদানের কথা বলেন। খালেদা জিয়া তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন নীতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা কাউকে খাটো করে দেখতে চাই না। সকলকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে চাই। প্রত্যেকের সাফল্য ও ব্যর্থতা মূল্যায়নের ভার ছেড়ে দিতে চাই ইতিহাসের ওপর।’

দেশটা কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়: বিরোধী রাজনীতিকদের ওপর চালানো দমন-পীড়ন এবং অব্যাহতভাবে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে পুলিশি বাধার অংশ হিসাবে রাজধানীর গুলশানে বালুর ট্রাক রেখে খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা হয়। অবরুদ্ধ অবস্থায় তিনি তৎকালীন সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশটা কি আপনার একার। পৈতৃক সম্পত্তি হয়ে গেছে আওয়ামী লীগের। গুন্ডাবাহিনী দিয়ে, পুলিশবাহিনী দিয়ে আমাদের প্রোগ্রাম বন্ধ করতে চান। সাহস থাকে তো কাউন্টার প্রোগ্রাম করে দেখাবেন। সাহস নেই, দশটা লোকও আসে না। না হলে এমন করুণ পরিণতি হয়। ১৫৪টা সিট আনকন্টেস্ট হয়ে যায়।

ফ্যাসিবাদী সরকারের চরম দমননীতির মধ্যেও গণতন্ত্রের উত্তরণের কথা বলে গেছেন খালেদা জিয়া। ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর এক বিশাল সমাবেশে তিনি ‘সহায়ক সরকার’-এর দাবি তুলে ধরে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। এছাড়া ১৯৯১ সালে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এরও আগে আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও তার আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান তাকে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
লংমার্চে গিয়ে গাড়ির টোল দেয়নি বিরোধী দল: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জ্বালানি সংকটের মধ্যে সাড়ে চারশো গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চ করতে গিয়ে বিরোধী দলের কিছু গাড়ি টোল পরিশোধ করেনি।
লংমার্চে গিয়ে গাড়ির টোল দেয়নি বিরোধী দল: রিজভী
পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করলেই বের হবে বাসে ককটেল মারছে কারা: রাশেদ খান
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বাসে আগুন ও ককটেল হামলা করছে কারা, তা বের হয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগ-এই দুই বিরোধী দলকে সামলে বিএনপিকে সরকার পরিচালনা করতে হচ্ছে। বিএনপি বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। রাশেদ খান বলেন, এই বিরোধীদল আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগামী ডিসেম্বর থেকে কর্মসূচি শুরু করতে চায়। যেমন শেখ হাসিনাও ডিসেম্বরে ফিরতে চান। তিনি অভিযোগ করেন, দেশকে অশান্ত করতে জামায়াত, এনসিপি ও আওয়ামী লীগ একত্রিত হয়ে বাস ও ট্রেনে আগুন দিচ্ছে এবং ককটেল ফোটাচ্ছে। রাশেদ খান আরও বলেন, এনসিপির এক নেতা স্বীকার করেছেন, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত মিলে আগুন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। একই দলের এক নেতা দাবি করেছেন, ১১ দলের দাবি মেনে নিলে ককটেল আর ফুটবে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা নির্বাচিত সরকারকে ব্যর্থ করতে চায়, তারা কি অপরাধ করছে না? জুলাইয়ের সময়ে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, সাত মাসের সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চ কর্মসূচি কোনো স্বাভাবিক কর্মসূচি নয়। লংমার্চের নামে পিকনিক স্টাইলে ছবি তুলে ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, সমগ্র বিশ্বে জ্বালানি সংকট চলছে। সরকার ভর্তুকি দিয়ে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট থাকবে না। আওয়ামী লীগকে ফেরাতে অনেকে সক্রিয় বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, চুক্তি থাকলেও আদানি কখনো বিদ্যুৎ দিচ্ছে, আবার কখনো দিচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ঘিরে আওয়ামী লীগ অপতৎপরতা ও অসৌজন্যতায় মেতেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিদেশের মাটিতে তারা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খান। আরটিভি/এসকে
পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করলেই বের হবে বাসে ককটেল মারছে কারা: রাশেদ খান
৩ দাবি মানলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
সরকার তিন দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ককটেল ফুটবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
৩ দাবি মানলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে: গোলাম পরওয়ার
গোলাম পরওয়ার বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে বলেই সরকার একের পর এক গণবিরোধী কাজ করছে।
সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে: গোলাম পরওয়ার
চাঁদাবাজি করে ধরা খেয়ে দল থেকে বহিষ্কার তালহা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পাটলাই নদীতে কয়লা ও চুনাপাথরবাহী বাল্কহেড নৌকা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি তালহা আহমেদ অভিকে (২৫) দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
চাঁদাবাজি করে ধরা খেয়ে দল থেকে বহিষ্কার তালহা
আরও পড়ুন
১৯৯৩ সালে জাতিসংঘে গণতন্ত্র ও পানির অধিকার তুলে ধরেছিলেন খালেদা জিয়া
বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষকদের শতভাগ বেতন চালু করেছিলেন: আমান উল্লাহ আমান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাঠানো শুভেচ্ছা চিঠিটি পরম যত্নে রেখেছেন ছাইফুল্লাহ 
বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দিন আজ