নির্বাচনী প্রচারণায় এক প্রার্থীর ‘নির্বাচন পর্যন্ত চাঁদাবাজি নিষেধ’ সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুইগড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত এই সভায় আসিফ মাহমুদ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সদিচ্ছা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আসিফ মাহমুদ তার বক্তব্যে বলেন, কোনো একজন প্রার্থী প্রকাশ্যে বলছেন যে নির্বাচন পর্যন্ত চাঁদাবাজি করা যাবে না। এর অর্থ কি এই যে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত চাঁদাবাজি স্থগিত থাকবে এবং ভোটের পর তা আবার শুরু হবে?
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চাঁদাবাজির মতো একটি জঘন্য অপরাধ কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারে না। এটি সব সময়ের জন্যই একটি বেআইনি ও দণ্ডনীয় কাজ। এ ধরণের বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং রাজনীতির শুদ্ধতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি করছে।
এনসিপির এই শীর্ষ নেতা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু নির্বাচনের সময় জনতুষ্টির জন্য নয়, বরং সব সময়ের জন্য চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অপরাধ দমনে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান যদি স্পষ্ট ও দায়িত্বশীল না হয়, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাবে। সভায় তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং একটি পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
আসিফ মাহমুদ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে জাতি শ্রদ্ধা করে, তবে তার একটি সিদ্ধান্ত ভুল ছিল—আর তা হলো শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা। কোনোভাবেই আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের সচেতন জনগণ নিজেদের জীবন দিয়ে হলেও স্বৈরাচারী শক্তির প্রত্যাবর্তন রুখে দেবে।
সভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং এনসিপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এআর




