যদি জ্বালানির সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইন কেন, সংসদে রুমিন ফারহানা

আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:৩০ পিএম


যদি জ্বালানির সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইন কেন, সংসদে রুমিন ফারহানা
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইন কেন? দামই বাড়াতে হয় কেন? অফিস কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে হয় কেন?

রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের আলোচনায় রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন।

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য, চলতি সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য রুমিনের বক্তব্যের সময় সরকারি দল বিএনপির সদস্যরা আপত্তি জানান। সরকারি দলের এ আচরণের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে বলেন, একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কিছু সদস্য এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেছেন, যেটা তার বিবেকে আঘাত লেগেছে। তিনি এর নিন্দা জানান।

নিজের বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল যে কাদম্বিনী মরে নাই। আমাদের তেলের দাম শেষমেষ বৃদ্ধিই হইল। কিন্তু তার আগে আমরা দেখলাম কয়েক কিলোমিটারজুড়ে লম্বা লাইন। মাঝরাত পর্যন্ত ড্রাইভাররা দাঁড়িয়ে আছেন, তারা তেল পাচ্ছেন না। কিন্তু সরকারের সে ব্যাপারে কোনো হেলদোল নেই।

আরও পড়ুন

রুমিন ফারহানা বলেন, মন্ত্রীরা যখন সংসদে বক্তব্য দেন, তখন তারা অবলীলায় বলেন বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু যখন তেল নিতে যায়, তখন দেখা যায় তিন কিলোমিটার লম্বা লাইন।

সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে মার্কেট বন্ধ করা, অফিসের কর্মঘণ্টা কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, প্রশ্ন হচ্ছে, যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইনই–বা কেন? দামই–বা বাড়াইতে হয় কেন? অফিস কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে হয় কেন? এই প্রশ্নগুলো তো ওঠে!

স্পিকারের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, আপনার মাধ্যমে এই সংসদের কাছে আমি জানতে চাই, জ্বালানিমন্ত্রীরা যখন গণমাধ্যমে কথা বলেন, তখন মনে হয় বাংলাদেশে আল্লাহর রহমতে কোনো সংকট নেই। ওনারা যদি পরিষ্কার করে বলেন বাংলাদেশে বর্তমানে কত দিনের অকটেন ও ডিজেলের মজুত আছে, কত দিন চলতে পারবে, পাম্পগুলো কেন পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল পায় না?’ রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের কোনো কোনো সংসদ সদস্যকে হাত নেড়ে কিছু বলতে দেখা যায়। রুমিনের বক্তব্যের পর সরকারি দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকেন। তখন স্পিকার সংসদ সদস্যদের সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এ পর্যায়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদ দেশের সর্বোচ্চ সম্মানের জায়গা। যারা এখানে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, দেশের জনগণের সমর্থন, ভোট, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে এসেছেন। আমরা সব সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলব, কোনো সংসদ সদস্য যখন দাঁড়িয়ে কোনো কথা বলবেন, তা নিয়ন্ত্রণ অথবা তাকে এলাও করার একক এখতিয়ার হচ্ছে স্পিকারের।

বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আজ লক্ষ করলাম যে একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তিনি যখন কথা বলছিলেন, দুঃখজনকভাবে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে সম্মানিত কিছু সদস্য এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেছেন, যেটা আমার বিবেকে আঘাত লেগেছে। আমি এটা আশা করি না।

চার–পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছেন, এমন সংসদ সদস্যদের কেউ কেউও এ কাজ করেছেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আমি এখানে তাদের নাম বলে আমি নিজে লজ্জা পেতে চাই না।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে নিন্দা জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এর আগে নোটিশের আলোচনায় গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দীন বলেন, এখন তার নির্বাচনী এলাকা গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়। সেখানে চিকিৎসাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সেচব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা হায় হায় করছে। তিনি বলেন, সংসদের বিভিন্ন পণ্য ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে নজরে এসেছে। অতীতেও এমন দুর্নীতি হয়েছে। এটা যেন বন্ধ হয়, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা করেন।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission