দলিত ও হরিজনদের নিয়ে এনসিপি সমর্থিত সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

আরটিভি নিউজ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬ , ০২:০৭ পিএম


দলিত ও হরিজনদের নিয়ে এনসিপি সমর্থিত সংগঠনের আত্মপ্রকাশ
‘জাতীয় জনজাতি জোট’র আহ্বায়ক ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু ও সদস্যসচিব কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস। ছবি: সংগৃহীত

দলিত, হরিজন ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে এনসিপির সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় জনজাতি জোট’র আত্মপ্রকাশ হয়েছে। 

শনিবার (২ মে) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ক্র্যাব মিলনায়তনে সংগঠনের উদ্বোধনী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম সদস্য সচিব এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিষয়ক সেল সম্পাদক মোল্লা মো. ফারুক এসহান শুভ্র, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম এবং কমিউনিটি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় জনজাতি জোটের ১১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন ও পরিচিত করিয়ে দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। 

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজুকে নতুন সংগঠনের আহ্বায়ক এবং দলের অপর যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক কৈলাশ চন্দ্র রবিদাসকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। 

সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন রাজেন্দ্র কুমার দাস, যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক বড়াইল, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব অরুনা রানী দাস ও যুগ্ম সদস্যসচিব হয়েছেন নিপু দাস। 

এছাড়াও সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন হৃদয় দাস, সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাঁতপুরী জেমস বিশ্বাস ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দীপু দাস। নতুন এই সংগঠনে সংগঠকের দায়িত্ব পেয়েছেন চন্দন কুমার বাঁসফোর, হেনা রানী ও বৌরসেট্টি ত্রিনাদা।

আরও পড়ুন

দলিত-হরিজন-তফসিলির সম্প্রদায়ের নেতারা ১৪ দফা দাবির সঙ্গে নিজ নিজ এলাকার সমস্যার কথা তুলে ধরেন। 

দাবিগুলো হলো: দলিত, তফসিলি, হরিজন জনগোষ্ঠীকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। সংশোধনীসহ বৈষম্য বিলোপ আইন-২০২৩ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। দলিত, তফসিলি, হরিজন জনগোষ্ঠীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সব কাঠামোতে সংখ্যানুপাতিক হারে এই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। সমাজের অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিসেবে শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে এই জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। ভূমিহীন এই জনগোষ্ঠীকে মালিকানাসহ স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিদ্যমান জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতি-২০০১ এবং সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি-২০০৯ সংস্কার করে এই জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে। শিক্ষার প্রাথমিক স্তরের সিলেবাসে দলিত জনগোষ্ঠী সম্পর্কে যথাযথ ধারণা প্রদান করতে হবে, যা বিদ্যমান সামাজিক ভেদাভেদ ও বৈষম্য নিরসনে ভূমিকা রাখবে।  

এই জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও প্রসারের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতে হবে। এই জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে সম্প্রদায়ভিত্তিক সঠিক সংখ্যা নিরূপণের লক্ষ্যে নৃতাত্ত্বিক জরিপ করতে হবে। এই জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি দেখার জন্য একটি বিশেষায়িত কমিশন গঠন করতে হবে। 

প্রতিটি কলোনি/পাড়াতে সরকারিভাবে ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণ/সংস্কার করতে হবে। সেবা প্রদানে অবহেলা ও বৈষম্যমূলক আচরণ পরিহার করার লক্ষ্যে বিদ্যমান জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি-২০১১ তে দলিত, তফসিলি, হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।  জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল-২০১৫ সংস্কার করে এই জনগোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সঙ্গে পরিচ্ছন্নতার্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং বন্ধ করে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিতে হবে।

Capture3

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, এ দেশ সবার, এ দেশে সবাই নাগরিক সুবিধা পাবে, সবাই সমান অধিকার পাবে। এই দেশ দলিত, হরিজন, রবিদাস, আদিবাসী, চা জনগোষ্ঠী সবাই সবার অধিকার পাবে, সবাই সমান মর্যাদা পাবে। 

তিনি আরও বলেন, এনসিপি সবার অধিকারে কাজ করছে, কাজ করে যাবে। ১৯৪৭ সালে দেশ, বর্তমান বাংলাদেশের যে মানচিত্র রয়েছে এই মানচিত্র আরও ছোট হত, যদি না এই সম্প্রদায়ের মানুষজন এদেশের পক্ষে না থাকতো। 

এ সময় ১৪ দফা দাবিকে সমর্থন করেন তিনি।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, যেদিন দলিতরা অধিকার পাবে সেদিন এ দেশের আর কেউ অধিকারহীনতায় থাকবে না। 

তিনি আরও বলেন, দলিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন সাধারণত অন্য ধারার মানুষ। কিন্তু আমরা চাই এদের প্রতিনিধিত্ব এরা নিজেরাই করুক, সেই তাগিদ থেকেই এই জাতীয় জনজাতি জোটের আত্মপ্রকাশ।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিষয়ক সেল সম্পাদক মোল্লা মো. ফারুক এসহান শুভ্র বলেন, এ দেশে সরকারি হিসাবে ৬৫ লাখ দলিত জনগোষ্ঠী বা বেসরকারি হিসাবে প্রায় দেড় কোটি জনগোষ্ঠী দেশের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সবকিছুই তারা উজাড় করে দিচ্ছে দেশের জন্য, কিন্তু নাগরিক সুবিধা পাওয়ার বেলায় তারা অদৃশ্য। কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন তাদের হয়নি, এই জনগোষ্ঠীকে হাজার বছর ধরে কাঠামোগত বৈষম্যের মধ্যে রাখা হয়েছে। এনসিপি প্রথম রাজনৈতিক দল, যেখানে এই সম্প্রদায়কে মূল ধারার রাজনীতিতে যুক্ত করেছে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission