এবার কি জামায়াতে যোগ দেবেন সাদিক কায়েম? 

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০৭:৫৮ পিএম


এবার কী জামায়াতে যোগ দেবেন সাদিক কায়েম? 
সাদিক কায়েম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। এরপরই চারদিকে আলোচনা, তবে কী জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন তিনি?

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জামায়াত আমিরের বাসভবনে তাদের মধ্যে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পরে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান সাদিক কায়েম।

তিনি লিখেছেন, দেশের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমসাময়িক নানা বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। সাক্ষাৎকালে আমি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার আলোকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ছাত্রসমাজ ও দেশবাসীর প্রত্যাশা তুলে ধরি এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে, বিশেষ করে গণভোটের জনরায় বাস্তবায়নের আন্দোলন এবং সম্প্রতি রংপুরে তিস্তা বাঁচানোর দাবিতে সোচ্চার ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের দুর্দশা স্বচক্ষে দেখে কাজ করার উদ্যোগের জন্য বিরোধী দলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।

Posted by Facebook on Date:

এদিকে জামায়াতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত মাসে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদের জন্য ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের নাম চূড়ান্ত করা হয়। তবে বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক জামায়াত নেতা জানিয়েছেন, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ মজলিশে শুরার বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, শিবির তাদের সাংগঠনিক রীতি ও নিয়ম অনুযায়ী চলে। ছাত্রজীবন শেষ করলে, বিয়ে ও কর্মজীবনে প্রবেশ করলে শিবির থেকে বিদায় নেওয়ার রেওয়াজ আছে। সে কারণে সাদিক কায়েম বিদায় নিতে পারেন।

জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্যই সাদিক কায়েম শিবির থেকে বিদায় নিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা থেকে সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় জামায়াতও এ বিষয়ে পজিটিভ। সময়–সুযোগমতো ঢাকা দক্ষিণসহ সব সিটি করপোরেশনের প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যেহেতু সাদিক কায়েম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র পদপ্রার্থী, সেহেতু, নিয়ম অনুযায়ী দলটিতে যোগ দিতে হবে। তাই তিনি ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব থেকে বিদায় নিয়েছেন। 

আরও পড়ুন

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, সংগঠনের নিয়ম মেনে সাদিক কায়েম ছাত্রশিবিরের রাজনীতি থেকে ছুটিতে গিয়েছেন। এখন তিনি কী করবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। বলতে পারেন তিনি এখন স্বাধীন, তার মন চাইলে ব্যবসা করতে পারেন, চাকরি করতে পারেন, রাজনীতি করতে পারেন, বিদেশে চাকরি বা পড়তে যেতে পারেন; যা কিছু তিনি চান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদিক কায়েম গণমাধ্যমকে বলেন, আমি নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই সংগঠন থেকে ছুটি নিয়েছি। বাকিটা সময় বলে দেবে সামনে কী হবে।

এর আগে, সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব থেকে বিদায়ের কথা জানান সাদিক কায়েম। 

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ব্যানারে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন সাদিক কায়েম।

তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় খাগড়াছড়িতে বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া আদর্শ মাদরাসায়, সেখানে তিনি ২০১৪ সালে দাখিল এবং পরবর্তীকালে বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসা থেকে ২০১৬ সালে আলিম পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

সাদিক কায়েম ২০১৩ সালে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি হিসেবে তিনি প্রথম প্রকাশ্যে আসেন।  

২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পূর্বে সাদিক কায়েম চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে ছাত্রশিবিরের আওয়ামী সরকারবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পূর্বে ২০২৫-২০২৬ সেশনে দায়িত্ব পালন করেছেন কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে।

২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে সাদিক কায়েম ‘সালমান’ ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন। এই নামে তিনি অভ্যুত্থানের সম্মুখসারিতে থাকা সংগঠকদের আশ্রয় ব্যবস্থা, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করা, প্রতিদিনের কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং গণমাধ্যমে নয় দফাসহ সকল আন্দোলনের সংবাদ পৌঁছে দেওয়া প্রভৃতি কাজে যুক্ত হন। তিনি সালমান নামে আল জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন সাদিক কায়েম। তিনি স্টুডেন্টস অ্যাগেইনস্ট ভায়োলেন্স এরিয়াওয়্যারের (সেইভ) পরামর্শক, বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভের সাধারণ সম্পাদক, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের সভাপতি এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘হিল সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন।

রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সাদিক কায়েম। তিনি স্টুডেন্টস এগেইনস্ট ভায়োলেন্স এভরিহোয়্যারের (সেইভ) পরামর্শদাতা কর্মী ছিলেন, এই সংগঠন শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করত। তিনি বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভের জেনারেল সেক্রেটারিও ছিলেন। 

এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের সভাপতি ছিলেন সাদিক। পাহাড়ি জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিল সোসাইটিও প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission