মাছ ধরতে গিয়ে যেভাবে বৃষ্টির মরদেহ খুঁজে পেলেন এক জেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

রোববার, ০৩ মে ২০২৬ , ০২:০৩ পিএম


মাছ ধরতে গিয়ে যেভাবে বৃষ্টির মরদেহ খুঁজে পেলেন এক জেলে
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধারের লোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ করেছে স্থানীয় পুলিশ। পুলিশ জানায়, সেন্ট পিটার্সবার্গের উত্তর উপকূলে মাছ ধরার সময় এক জেলের মাধ্যমেই প্রথম বৃষ্টির মরদেহের সন্ধান মেলে।

হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার এক সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, এক কায়াক চালক মাছ ধরার সময় দুর্ঘটনাবশত এই মরদেহের খোঁজ পান। ওই জেলে উপকূলে মাছ ধরার সময় তার ছিপের সুতা একটি ঝোপের মধ্যে আটকে যায়। সেই সুতা ছাড়াতে গিয়ে তিনি ঝোপের গভীরে প্রবেশ করলে তীব্র দুর্গন্ধ পান এবং একটি কালো প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান।ব্যাগটির ভেতরে মানুষের দেহাবশেষ দেখে তিনি তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দেন। 

পুলিশ আরও জানায়, খবর পেয়ে তারা মরদেহটি উদ্ধার করতে আসে। উদ্ধারকৃত মরদেহটি পচে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করতে বেগ পেতে হয়। তবে নিখোঁজ হওয়ার সময় বৃষ্টির পরনে যে পোশাক ছিল তার সঙ্গে মরদেহের পোশাকের মিল দেখে প্রাথমিক শনাক্তকরণ করা হয় । পরবর্তীতে ডিএনএ এবং দাঁতের রেকর্ড পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি নিখোঁজ শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ। 

এদিকে তদন্তে জানা যায়, ঘাতক হিশাম অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেছিল। সে নিজের স্মার্টফোন থেকে সব তথ্য মুছে ফেললেও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা তা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন। সেখানে দেখা যায় ঘাতক চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চেয়েছিল কীভাবে মরদেহ ব্যাগে ভরে আবর্জনার স্তূপে ফেলা যায়। এছাড়া গুলির শব্দ প্রতিবেশীরা শুনতে পাবে কি না বা ছুরি দিয়ে খুলি ভেদ করা সম্ভব কি না এমন বিষয়েও সে সার্চ করেছিল। বৃষ্টির মরদেহটি সে নিজের গাড়ির ট্রাংকে করে উপকূলে নিয়ে গিয়ে ঝোপের আড়ালে ফেলে এসেছিল।

আরও পড়ুন

অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহ বর্তমানে জামিনবিহীন অবস্থায় কারাগারে দিন কাটাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে দুটি ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। লিমনের রুমমেটরা পুলিশকে জানিয়েছেন। ঘাতক হিশামের আচরণ সবসময়ই ছিল অত্যন্ত রহস্যময় ও সন্দেহজনক। এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পেছনে সঠিক মোটিভ কী ছিল তা নিয়ে এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

ফ্লোরিডার স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ এবং অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে অপরাধ সংঘটনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ভাবিয়ে তুলেছে। 

উল্লেখ্য, গেল ১৬ এপ্রিল সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। এর আটদিন পর ২৪ এপ্রিল জামিলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 
 
দুই শিক্ষার্থী খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত জামিলের রুমমেট হিশাম আবুঘেরহেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার (২৬ এপ্রিল) হিলসবরো কাউন্টি আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়, বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমনকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হিশাম আবুঘরবেহ’র বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। আর বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছিলেন।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission