ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনসংখ্যার ১০ অমুসলিম দেশ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের মানচিত্রে এমন কিছু স্থান রয়েছে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ না হয়েও মুসলমানরা গড়ে তুলেছেন নিজেদের স্বকীয় এক জগৎ। কোথাও তারা শত শত বছরের প্রাচীন সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ধারক, আবার কোথাও তারা আধুনিক সমাজের নতুন প্রজন্মের প্রাণশক্তি। ধর্মীয় বৈচিত্র্যের ভিড়ে এই দেশগুলো আজ মুসলিম জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম—অথচ সেই রাষ্ট্রগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। কেমন তাদের জীবন কিংবা তাদের সংস্কৃতি? চলুন তবে পরিচিত হই সেইসব অমুসলিম দেশের সঙ্গে, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মুসলমানের বসতি।

১. ভারত

দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল দেশ ভারতে প্রায় ২০ কোটির বেশি মুসলমান বাস করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ। এই বিপুল সংখ্যক মুসলমান জনগোষ্ঠী পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত। ভারত মুঘল সাম্রাজ্যের মতো সমৃদ্ধ ইসলামিক সভ্যতার কেন্দ্র ছিল, যার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অবদান আজও দৃশ্যমান। স্থাপত্যে (তাজমহল, লালকেল্লা), শিল্পকলায় (উর্দু কবিতা), সংস্কৃতিতে (কওয়ালি সংগীত) এবং খাদ্য সংস্কৃতিতে (বিরিয়ানি, কাবাব) ইসলামের ছাপ অত্যন্ত স্পষ্ট। কাশ্মীরের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শুরু করে দিল্লি, লখনউ এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এই সম্প্রদায়ের প্রভাব ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেশের সাংস্কৃতিক কাঠামোকে সমৃদ্ধ করেছে।

আরও পড়ুন

২. ইথিওপিয়া

আফ্রিকার শিং নামে পরিচিত ইথিওপিয়ায় প্রায় সাড়ে তিন কোটির মতো মুসলমান বাস করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৩ শতাংশ। ইসলামের ইতিহাসের প্রথম পাতা থেকেই এই দেশটি মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ মর্যাদা বহন করে। ৬১৫ খ্রিস্টাব্দে যখন মক্কার মুসলমানরা চরম নির্যাতনের শিকার, তখন তৎকালীন খ্রিষ্টান রাজা নাজ্জাশী তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। এই প্রথম হিজরতের কারণে ইথিওপিয়ার মুসলমানরা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক দীর্ঘ ঐতিহ্য উপভোগ করে আসছেন। এখানকার মুসলমানরা মূলত দেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ঘনবসতিপূর্ণ এবং তাদের সাংস্কৃতিক উপস্থিতি ইথিওপিয়াকে আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ করেছে। টিগ্রে অঞ্চলের নাজাশী মসজিদটি এই প্রাচীন ইসলামি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে আজও বিদ্যমান।

৩. চীন

পূর্ব এশিয়ার বিশাল ভূখণ্ডে ইসলাম ধর্মের বিকাশ হাজার বছরের পুরোনো, যা মূলত প্রাচীন সিল্ক রুট ধরে বণিকদের মাধ্যমে চীনে প্রবেশ করেছিল। এই দেশে মুসলমানদের জনসংখ্যা দেড় থেকে চার কোটি বলে ধারণা করা হয়, যা মোট জনসংখ্যার ১ দশমিক ১ থেকে ৩ শতাংশ। চীনের মুসলমানরা হুই, উইঘুর, সালার, কাজাখসহ নানা জাতিসত্তায় বিভক্ত। এদের মধ্যে হুই মুসলমানরা তুলনামূলকভাবে চীনের অন্যান্য প্রদেশে বেশি ছড়িয়ে আছেন এবং চীনা সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গেছেন।

অন্যদিকে, উইঘুররা মূলত পশ্চিম চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাস করেন, যেখানে তাদের সংস্কৃতি, ভাষা এবং জীবনধারা মধ্য এশীয় ধাঁচের। ইসলামের বিস্তার এখানে তাং রাজবংশের সময় থেকে শুরু হয়েছিল এবং আজও চীনের বিভিন্ন প্রান্তে বহু প্রাচীন মসজিদ ও ইসলামিক স্থাপত্যের ছাপ স্পষ্ট।

৪. রাশিয়া

ইউরোপ এবং এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত বিশাল ভূখণ্ড রাশিয়াতে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মুসলমানের বসবাস, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ১০ থেকে ১৩ শতাংশ। রাশিয়ার অন্যতম বড় এই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের শেকড় অত্যন্ত প্রাচীন এবং সুপ্রতিষ্ঠিত। ককেশাস পাহাড় এবং ভোলগা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল, বিশেষ করে তাতারস্তান ও বাশকোর্তোস্তান প্রজাতন্ত্রে বহু শতাব্দী ধরে মুসলিম বসতি বিদ্যমান। রাশিয়ায় ইসলাম ধর্মকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত চারটি ধর্মের (খ্রিষ্টান ধর্ম, ইসলাম, ইহুদি ধর্ম এবং বৌদ্ধ ধর্ম) মধ্যে অন্যতম হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়। এই বিশাল দেশে, বিভিন্ন জাতীয়তায় ও ভূগোলে মিলেমিশে রাশিয়ার মুসলমানরা গড়ে তুলেছেন এক বহু-সাংস্কৃতিক ও বৈচিত্র্যময় পরিচয়, যা দেশটির ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

৫. তাঞ্জানিয়া

আফ্রিকার পূর্ব উপকূলীয় দেশ তাঞ্জানিয়াতে প্রায় দুই কোটির কাছাকাছি মুসলমানের বসতি রয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৩ শতাংশ। ভারত মহাসাগরের ঢেউয়ের মতোই এখানকার সংস্কৃতি বহু শতাব্দী ধরে ইসলামি প্রভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে জানজিবার দ্বীপটি ঐতিহাসিকভাবে ইসলামি সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রাচীন ভারত মহাসাগরের বাণিজ্য পথে আরব ও পারস্য থেকে আসা বণিকদের হাত ধরে এখানে ইসলামের বিস্তার ঘটেছিল। এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের গভীর প্রভাব এখানকার সুয়াহিলি ভাষা, স্থাপত্য এবং দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্ট; যা তাঞ্জানিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

৬. আইভরি কোস্ট

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্ট হলো এমন এক স্থান, যেখানে মুসলমান জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ ভাগ বা প্রায় এক কোটি ২০ লাখের মতো, যা দেশটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অমুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে। এখানে ইসলামি সম্প্রদায়ের প্রভাব কেবল সংখ্যায় নয়, বরং সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিদ্যমান। মুসলমানরা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ব্যবসা, কারুশিল্প, কৃষি ও প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই সমাজে সুফি তরিকার প্রভাব অত্যন্ত গভীর; সুফি সাধনা এখানকার সামাজিক উৎসব, সংগীত, শিল্পকলা এবং দৈনন্দিন ঐতিহ্যে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এই গভীর আধ্যাত্মিক সংযোগ আইভরি কোস্টের মুসলমানদের একটি সুসংহত এবং প্রাণবন্ত সম্প্রদায় হিসেবে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।

৭. ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো

মধ্য আফ্রিকার বিস্তৃত সবুজের দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে প্রায় এক কোটি মুসলমানের বসবাস (যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ)। সংখ্যায় কম হলেও তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থিতিশীল এবং প্রাচীন এক সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত। এখানকার মুসলমানদের আগমন মূলত পূর্ব আফ্রিকা ও সুদান থেকে বাণিজ্য পথের সূত্র ধরে। নানা সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও তারা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় দৃঢ়ভাবে ধরে রেখে টিকে আছেন। ধর্মীয় ঐতিহ্যের দিক থেকে এই অঞ্চলের মুসলমানরা মূলত সুন্নী শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী, যা তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোকে প্রভাবিত করে আসছে। এই শক্তিশালী ধর্মীয় বন্ধনই তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ঐকবদ্ধ থাকতে সহায়তা করেছে।

৮. জার্মানি

জার্মানিতে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ মুসলমান বাস করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ ভাগ। ইউরোপের এই অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্রে ইসলামের প্রসার ও উপস্থিতি মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হওয়া গেস্ট ওয়ার্কার কর্মসূচির ফল। এই কর্মসূচির অধীনে ১৯৫০ এবং ১৯৬০-এর দশকে তুরস্ক থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিককে জার্মানিতে আনা হয়েছিল শ্রমবাজারের চাহিদা মেটানোর জন্য। পরবর্তীকালে, সিরিয়া, আলবেনিয়া, আফগানিস্তান, এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা অভিবাসীরা এই মুসলিম জনসংখ্যাকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। এই মুসলমান সম্প্রদায় জার্মান সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং শ্রমবাজারে সক্রিয়ভাবে অবদান রেখে চলেছেন। তবে তাদের বহুজাতিক পরিচিতি এবং ভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমি কখনও কখনও জার্মানির মূলধারার সমাজে একীকরণ এবং পরিচয় নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়।

৯. ফ্রান্স

ইউরোপের সংস্কৃতি, শিল্প ও রাজনীতির কেন্দ্র ফ্রান্সে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ মুসলমানের (মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ ভাগ) বসতি রয়েছে, যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই মূলত উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য (যেমন আলজেরিয়া, মরক্কো) থেকে আসা অভিবাসীদের পরবর্তী প্রজন্ম। এই সম্প্রদায় ফরাসি সমাজে শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, এখানকার কট্টর সেকুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির কারণে মাঝে মাঝেই ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে গভীর সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রায়শই ধর্মীয় প্রতীক বা পোশাক (যেমন বোরকা বা হিজাব) জনসমক্ষে প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যা এক দিকে ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মৌলিক মূল্যবোধ রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়, অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে অসন্তোষ ও বিতর্কের জন্ম দেয়।

১০. যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে প্রায় ৩০ লাখের বেশি মুসলমানের বসবাস, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এই মুসলিম জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশই মূলত দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত—বিশেষ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ভারত থেকে আগত অভিবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত। তারা ব্রিটেনের সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে এক সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক চিত্র তৈরি করেছেন। লন্ডনের ইস্ট এন্ড, বার্মিংহাম এবং ম্যানচেস্টারের মতো শহরগুলোতে এদের শক্তিশালী উপস্থিতি লক্ষণীয়। এই কমিউনিটিগুলো কেবল মসজিদ, মাদ্রাসা বা হালাল খাবারের মতো ধর্মীয় ও দৈনন্দিন জীবনেই প্রভাব ফেলেনি, বরং মূলধারার রাজনীতি, সাহিত্য, খেলাধুলা এবং শিল্পকলাতেও সক্রিয়ভাবে অবদান রাখছে। তাদের নিজস্ব খাবার, পোশাক এবং উৎসব ব্রিটিশ সমাজের বহুজাতিক ফ্যাব্রিকের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

এই দশটি অমুসলিম দেশের তথ্য-উপাত্ত স্পষ্ট প্রমাণ করে, বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের উপস্থিতি কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক অনুভূতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে গভীর ছাপ ফেলেছে। জাতিগত বৈচিত্র্য, ভাষাগত পার্থক্য, রাজনৈতিক বাস্তবতা—সব কিছু মিলিয়েই তারা বিশ্ব মুসলিম চিত্রকে করেছে আরও বিস্তৃত, আরও রঙিন।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচনের আগে হচ্ছে না ইজতেমা, খুলে ফেলা হচ্ছে প্যান্ডেল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে তাবলিগ জামাতকে জমায়েত না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাই খুরুজের জোড় উপলক্ষে টঙ্গী মাঠে যে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানান তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের (শুরায়ী নেজাম) মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে খুরুজের জোড়সহ কোনো ধরনের সমাবেশ বা অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমাদের মুরুব্বিরা সবসময় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।  আরও পড়ুন একযোগে এনবিআরের ১৭ কমিশনারকে বদলি হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, আগামী ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য খুরুজের জোড়ে যারা অংশ নিতেন, অর্থাৎ যারা আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা ও তিন চিল্লার জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদেরকে টঙ্গী ইজতেমা মাঠে জমায়েত না হয়ে নিজ নিজ জেলা ও এলাকা থেকে বের হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।  ‘যারা পাঁচ দিনের জোর থেকে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছিলেন, তাদেরকেও ইজতেমা মাঠে এখন না এসে ওয়াক্ত পুরা করে আসার জন্য মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। টঙ্গী মাঠে কোনো ধরনের সমাবেশ হচ্ছে না।’ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানান হাবিবুল্লাহ রায়হান। আরটিভি/এসআর
নির্বাচনের আগে হচ্ছে না ইজতেমা, খুলে ফেলা হচ্ছে প্যান্ডেল
মুসলিমদের জন্য নতুন বছরে সূচনা যেমন হবে
আজ ৩১ ডিসেম্বর। রাত ১২টায়, সারা পৃথিবী জুড়ে শুরু হবে এক নতুন বছরের আগমন। পটকা আর তারায় ঝলমলিয়ে উঠবে আকাশ, রঙিন আলোয় সেজে উঠবে পৃথিবী, মানুষ হবে উচ্ছ্বসিত, গাইবে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’। নতুন বছর মানেই সময়ের একটি নতুন অধ্যায়। ক্যালেন্ডারের পাতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে একজন মুসলিমের জীবনেও বদলের আহ্বান আসে। কিন্তু এই মুহূর্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে।   এই পরিবর্তন উৎসব, উচ্ছৃঙ্খলতা কিংবা আত্মভোলা আনন্দে নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, আত্মসমালোচনা ও আল্লাহমুখী নতুন যাত্রায় শুরু করা উচিত। কারণ মুসলিমের কাছে সময় নিছক গণনার বিষয় নয়; সময় আল্লাহর আমানত, যার প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে। একজন মুসলিমের নতুন বছরের সূচনা হওয়া উচিত ‘মুহাসাবা’ বা আত্মসমালোচনার মাধ্যমে। গত বছরে কী করেছি, কী করতে পারিনি, কোথায় গাফিলতি হয়েছে, নিজের কাছে এসব প্রশ্ন করা জরুরি। নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, যিকির ও চরিত্র গঠনে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, এ হিসাবই নতুন বছরের প্রথম পাঠ হওয়া উচিত। নববর্ষ উদ্‌যাপনের মাধ্যমে অন্য ধর্মের সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা মুসলিমদের জন্য বৈধ নয় , কেননা ইসলাম অন্য ধর্মের অনুসরণকে বর্জন করতে উৎসাহিত করেছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,عن ابنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قال: قال رسولُ الله صلَّى الله عليه وسلم مَن تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْহজরত ইবনে উমর রা.থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সে ব্যক্তি সেই জাতিরই একজন বলে গণ্য হবে।(আবু দাউদ, হাদিস: ৪০৩১) এছাড়া, আরও একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَاরাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বিজাতির রীতি অনুসরণ করবে, সে আমাদের কেউ নয়। (ত্বাবারানী, ২১৯৪)। এই হাদিসগুলো মাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানা যায় যে, মুসলমানদের উচিত অন্য জাতির ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুসরণ না করা, কারণ এতে ইসলামের সংগতিপূর্ণ শিষ্টাচার ভূলুণ্ঠিত হয়। মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তাই নতুন বছরের সূচনা হওয়া উচিত তওবার মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাওবা গ্রহণকারীকে ভালোবাসেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২)। অতীতের গুনাহ থেকে ফিরে এসে নতুন বছরের প্রথম দিন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে। একজন মুসলিমের নতুন বছরের সূচনায় থাকতে হবে নিয়মিত ইবাদতের অঙ্গীকার। নামাজে গাফিলতি, কোরআন থেকে দূরে থাকা কিংবা হারাম থেকে বাঁচতে অবহেলা, এসব ত্যাগ করার দৃঢ় সংকল্প নিতে হবে। নতুন বছর হোক ফরজের পাশাপাশি নফল ইবাদতে যত্নবান হওয়ার সুযোগ। নতুন বছরে পরিবার, প্রতিবেশী, সহকর্মী, সবার সঙ্গে উত্তম আচরণ, সত্যবাদিতা ও আমানতদারির চর্চার প্রতিজ্ঞা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম সে, যার চরিত্র উত্তম। (বুখারি)। দুনিয়া ও আখিরাতের ভারসাম্য রক্ষার প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে একজন মুসলিমের নতুন বছরের সূচনা হওয়া উচিত। দুনিয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে, তবে আখিরাতকে ভুলা যাবে না। সময়ের সঠিক ব্যবহার, হালাল রিজিকের চেষ্টা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানানোই মুসলিম জীবনের সার্থকতা। সবশেষে বলা যায়, নতুন বছর একজন মুসলিমের কাছে উদযাপনের নয়, বরং নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ। যে বছর আল্লাহর নৈকট্য বাড়ায়, গুনাহ কমায় এবং চরিত্রকে সুন্দর করে সেই বছরই একজন মুমিনের জন্য প্রকৃত নতুন বছর। আরটিভি/এমএ
মুসলিমদের জন্য নতুন বছরে সূচনা যেমন হবে
নতুন বছরের শুরুতে যে দোয়া করবেন
ইংরেজি নববর্ষ বা ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপনের নামে বর্তমান সমাজে বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে বছর বদলের এই মুহূর্তটি বিনোদনের জন্য নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনা, তওবা এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক বিশেষ সময়। ফুক্বাহায়ে কেরাম মনে করেন, মুসলিমের জন্য ইংরেজি নববর্ষ পালন কোনো কল্যাণকর বিষয় নয়। বিশেষ করে খ্রিষ্টানদের অনুকরণে গড়ে ওঠা নতুন বছর বরণের পদ্ধতি মুসলমানদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির অংশ নয়; বরং তা স্পষ্ট অপসংস্কৃতি। ইংরেজি বছরের শুরুতে ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ পালন করাকে ইসলাম সমর্থন করে না। এ রাতে বর্ষবরণের নামে যেসব অনৈতিক ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে তরুণ সমাজ জড়িয়ে পড়ে, তা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ এবং শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন। আরও পড়ুন মৃত ব্যক্তির জন্য যে দোয়া পড়বেন সুতরাং, বছরের শুরুতে ইমান ও ইবাদতের সঙ্গে এই মুহূর্তকে উদযাপন করা একজন মুসলিমের জন্য শ্রেষ্ঠ উপায়। হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলো পড়া, নিজেকে শয়তানের প্রলোভন থেকে রক্ষা করা, আল্লাহর রহমত কামনা করা—এই সমস্ত কর্মকাণ্ড নতুন বছরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও বরকতের মাধ্যমে শুরু করার উপযুক্ত পথ। নিজের দুই জীবনের ক্ষতি না করে বছরের শুরুতে আল্লাহর কাছে রহমত কামনা করা যেতে পারে। হাদিসে বর্ণিত দোয়া পড়া যেতে পারে। আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম বলেন—আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিরা নতুন বছরের আগমনে কিংবা নতুন মাসের শুরুতে এই দোয়া পড়তে অভ্যস্ত ছিলেন। দোয়াটি হলো— নতুন বছরের শুরুতে যে দোয়া করবেন اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ، وَالْإِيمَانِ، وَالسَّلَامَةِ، وَالْإِسْلَامِ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালামাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি। অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের ইমান ও ইসলামকে নিরাপদ করুন। আমাদের সুরক্ষা দিন। দয়াময় রহমানের কল্যাণ দান করুন। শয়তানের কুমন্ত্রণার মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করুন। (আল-মুজাম আল-আওসাত, হাদিস : ০৬/২২১) আরেকটি বর্ণনায় কিছুটা ভিন্নতায় এসেছে। সেখানে দোয়ার শেষের দুই অংশ আগে-পরে বর্ণিত হয়েছে। তখন দোয়াটি এভাবে হয়— اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ ، وَالإِيمَانِ ، وَالسَّلامَةِ ، وَالإِسْلامِ ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালামাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি। অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের ইমান ও ইসলামকে নিরাপদ করুন। আমাদের সুরক্ষা দিন। শয়তানের কুমন্ত্রণার মোকাবিলায় আমাদের সাহায্য করুন। দয়াময় রহমানের কল্যাণ দান করুন। (মু’জামুস সাহাবাহ : ০৩/৫৪৩; আল-ইসাবাহ : ০৬/৪০৭-৪০৮) আরটিভি/এফএ
নতুন বছরের শুরুতে যে দোয়া করবেন
জানাজার নামাজ পড়লে আল্লাহ যা দেন
জানাজার নামাজের গুরুত্ব ইসলামে অনেক বেশি। মৃতের জানাজা, কাফন-দাফন ইত্যাদি জীবিত মুসলমানদের ওপর মৃতদের অধিকার এবং অবশ্য পালনীয় ফরজ নির্দেশ। কোনো মুসলমান মারা গেলে তার জানাজার নামাজ আদায় করা ফরজে কিফায়া। অর্থাৎ কোনো মুসলমান মারা গেলে মহল্লার অল্পসংখ্যক লোক জানাজার নামাজ আদায় করলে বাকিরা দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাবে। এ ছাড়া একজন মুসলমানের ওপর অন্য মুসলমানের পাঁচটি হক আছে। এর মধ্যে মৃত ব্যক্তির জানাজায় অংশ নেওয়াও একটি হক। জানাজা আদায়ের অপরিসীম সওয়াব সহিহ বুখারিতে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মৃতের জন্য সালাত আদায় করা পর্যন্ত জানাজায় উপস্থিত থাকবে, তার জন্য এক কিরাত, আর যে ব্যক্তি মৃতের দাফন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে তার জন্য দুই কিরাত। জিজ্ঞাসা করা হলো দুই কিরাত কী? তিনি বললেন, দুটি বিশাল পর্বত সমতুল্য (সওয়াব)।’ (সহিহ বুখারি: ১৩২৫) এ এক অমূল্য পুরস্কার; একটি জানাজায় অংশ নিয়ে মানুষ অর্জন করতে পারে বিশাল পর্বতের সমান নেকি! তবুও আজ অনেকেই এই সহজ অথচ মহান ইবাদত থেকে দূরে সরে গেছেন। আরও পড়ুন মৃত ব্যক্তির জন্য যে দোয়া পড়বেন জানাজার নামাজ মৃতের অধিকার আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক মুসলিমের ওপর অন্য মুসলিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে— এক. যখন কোনো মুসলমানের সঙ্গে দেখা হয় তখন সালাম দেবে। দুই. কোনো মুসলমান ডাকলে সাড়া দেবে। তিন. সে তোমার কাছে সত্ পরামর্শ চাইলে তুমি তাকে সত্ পরামর্শ দেবে। চার. কোনো মুসলমানের হাঁচি এলে হাঁচিদাতা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলবে। পাঁচ. কোনো মুসলমান অসুস্থ হলে তার সেবা-শুশ্রূষা করবে। ছয়. কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তার জানাজায় শরিক হবে।” (মুসলিম, হাদিস : ২১৬২) আরটিভি/একে
জানাজার নামাজ পড়লে আল্লাহ যা দেন
মৃত ব্যক্তির জন্য যে দোয়া পড়বেন
মৃত্যুর পর মানুষের আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তাই শোকের সময় উচ্চস্বরে বিলাপ কিংবা অতিরিক্ত কান্নাকাটি কোনো উপকার আনে না। ইসলামের দৃষ্টিতে এই সময়ে মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত কামনা করা এবং তার ভালো গুণাবলী স্মরণ করাই শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের মৃতদের ভালো কাজের আলোচনা করো এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকো। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯০০) অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করা এবং তাঁর ইতিবাচক দিকগুলো স্মরণ করা উত্তম। এছাড়াও, কারও মৃত্যুর পর তার নিকট উপস্থিত হলে দোয়া করার নির্দেশনা পাওয়া যায়। হজরত উম্মে সালামাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, তোমরা রোগী বা মৃতের নিকট উপস্থিত হলে উত্তম কথা বলবে, কারণ ফেরেশতারা তোমাদের কথার ওপর আমিন বলেন। এই সময়ের সুন্নত দোয়া হলো, আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়া লাহু ওয়া আকিবনি মিনহু উকবান হাসানাহ। অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে ও তাকে ক্ষমা করুন এবং তার বিনিময়ে উত্তম প্রতিদান দান করুন। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৪৪৭) পবিত্র কোরআনে পূর্ববর্তী নবীগণের দোয়ায় মানুষের জন্য নির্দেশনা মেলে। যেমন, পবিত্র কোরআনেও পূর্ববর্তী নবীগণের দোয়ায় মানুষের জন্য দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। যেমন- হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া: ‘রব্বানাগফিরলি ওয়ালিওয়ালিদাইয়া ওয়ালিল মুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’ অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! হিসাবের দিনে আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা করুন। (সুরা ইবরাহিম: ৪১) হজরত নুহ (আ.)-এর দোয়া: ‘রব্বিগফিরলি ওয়ালিওয়ালিদাইয়া ওয়ালিমান দাখালা বাইতিয়া মুমিনাও-ওয়ালিল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত।’ অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যে ইমানসহ আমার ঘরে প্রবেশ করেছে তাকে এবং সব মুমিন পুরুষ-নারীকে ক্ষমা করুন। (সুরা নুহ: ২৮) আরও পড়ুন জানাজার নামাজের ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ বিধি-নিষেধ সুতরাং, শোকের সময়ে অতিরিক্ত কান্নাকাটি নয়, বরং মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা ও কল্যাণ কামনায় দোয়া করাই ইসলামের শুদ্ধ শিক্ষা এবং সর্বোৎকৃষ্ট করণীয়। এই কাজ মৃতের আত্মার শান্তি এবং পরিবারের জন্য নেক ইবাদতের অংশ হিসেবে গণ্য হয়। আরটিভি/এসকে
মৃত ব্যক্তির জন্য যে দোয়া পড়বেন
আরও পড়ুন
মুসলিমদের জন্য নতুন বছরে সূচনা যেমন হবে
ওড়িশায় ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে বাংলাভাষী মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা
ভারতীয় যুবককে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে ওড়িশায় বেধড়ক পিটুনি
বোরকা পরায় দিল্লিতে হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া হলো না মুসলিম নারীকে