শুরু হয়েছে মাহে রমজান। দীর্ঘ সময় উপবাসের পর ইফতারের মুহূর্ত রোজাদারদের জন্য আনন্দের হলেও এ সময় অনেকেই অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন। ফলে বদহজম, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কিংবা শরীরচর্চায় ক্লান্তি দেখা দেয়। তবে সঠিক খাদ্য নির্বাচন ও পরিমিত খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এসব সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারের প্রথম ধাপটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ করে ভারী খাবার না খেয়ে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা উচিত। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও পটাসিয়াম রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। এরপর কিছুটা বিরতি নিয়ে হালকা স্যুপ, সবজির সালাদ কিংবা ফলমূল খেলে হজমের ওপর চাপ কম পড়ে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
রাতের খাবারে ভাতের সঙ্গে মাছ, মুরগির মাংস, ডাল ও শাকসবজি রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে তৃপ্তির অনুভূতি বাড়ে এবং ক্যালরি গ্রহণও নিয়ন্ত্রিত থাকে।
রমজানের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ভাজা খাবার ও মিষ্টি পুরোপুরি বাদ দেওয়া না গেলেও সেগুলো পরিমিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইফতারের শুরুতে সুষম খাবার গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ক্ষুধা কমে। ভাজা খাবারের বদলে বেইকড বা গ্রিলড খাবার বেছে নেওয়া ভালো। ভারী সিরাপযুক্ত মিষ্টির পরিবর্তে তাজা ফল, দইয়ের সঙ্গে অল্প মধু বা কম চিনিযুক্ত ঘরোয়া ডেজার্ট স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।
সেহরির ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা জরুরি। ওটস, ডিম, দই, ফল, বাদাম, সবজি ও গোটা শস্য দিয়ে সেহরি তৈরি করলে শরীর দীর্ঘ সময় শক্তি পায়। পাশাপাশি ইফতারে একবারে বেশি পানি না খেয়ে সেহরি পর্যন্ত সময় জুড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করলে রমজানে অ্যাসিডিটি ও বদহজমের সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
আরটিভি/এসকে





