রমজান মুসলমানদের জন্য আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। এই মাস আসে আমাদের গুনাহ মাফ করিয়ে দেওয়ার জন্য, জীবনকে ঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য। রমজান শুধু না খেয়ে থাকার নাম নয়; বরং এটি হলো নিজেকে বদলে ফেলার মাস।
অনেকে রোজা রাখেন, কিন্তু রমজানের আসল শিক্ষা কাজে লাগাতে পারেন না। আবার কেউ কেউ ইবাদত করেন, কিন্তু ধারাবাহিকতা থাকে না। তাই রমজানকে সুন্দর ও ফলপ্রসূ করতে কিছু জরুরি আমল জানা এবং পালন করা খুবই দরকার।
নিচে রমজানের ২০টি জরুরি আমল সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।
১. আল্লাহর জন্য খাঁটি নিয়ত করা
রমজানের শুরুতেই মনে মনে নিয়ত করতে হবে—
“হে আল্লাহ, আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখছি ও ইবাদত করছি।”
লোক দেখানোর জন্য, মানুষের প্রশংসার জন্য ইবাদত করলে তার কোনো মূল্য থাকে না।
২. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকভাবে আদায় করা
রোজা রেখে নামাজ না পড়া খুব বড় ভুল।
রমজানে অনেকেই তারাবিতে ব্যস্ত হয়ে ফজর বা আসর অবহেলা করেন— এটা ঠিক নয়।
👉 ফরজ নামাজ আগে, তারপর নফল।
৩. কোরআন তিলাওয়াত করা
রমজান কোরআনের মাস। প্রতিদিন অল্প হলেও কোরআন পড়তে হবে।
👉 দিনে ১–২ পৃষ্ঠা হলেও নিয়ম করে পড়া জরুরি।
👉 সম্ভব হলে অর্থ বোঝার চেষ্টা করা ভালো।
৪. তারাবি নামাজ পড়া
তারাবি রমজানের বিশেষ নামাজ। এটি রাসুল (সা.) নিজে পড়েছেন।
👉 কষ্ট হলেও ধৈর্য ধরে তারাবি পড়া উচিত।
👉 মনোযোগ দিয়ে পড়াই আসল।
৫. সাহরি খাওয়া
অনেকে অলসতার কারণে সাহরি খান না—এটা ঠিক নয়।
রাসুল (সা.) বলেছেন,
“সাহরিতে বরকত আছে।”
👉 অল্প হলেও সাহরি খাওয়া সুন্নত।
৬. সহজভাবে ইফতার করা
ইফতারে অপচয় করা বা অতিরিক্ত খাওয়া রমজানের শিক্ষা নয়।
👉 খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার করা উত্তম।
👉 পেট ভরে খাওয়ার বদলে পরিমিত খাওয়া ভালো।
৭. বেশি বেশি দোয়া করা
রমজানে দোয়া সহজে কবুল হয়।
👉 ইফতারের আগ মুহূর্তে
👉 শেষ রাতে
👉 শেষ দশকে
নিজের জন্য, পরিবার ও সারা মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা উচিত।
৮. ইস্তেগফার ও জিকির করা
রমজান গুনাহ মাফের মাস।
👉 বেশি বেশি বলা উচিত—
“আস্তাগফিরুল্লাহ”
“সুবহানাল্লাহ”
“আলহামদুলিল্লাহ”
“আল্লাহু আকবার”
৯. মিথ্যা কথা ও গিবত থেকে দূরে থাকা
অনেকে রোজা রেখে মিথ্যা বলেন, গিবত করেন—এতে রোজার সওয়াব নষ্ট হয়ে যায়।
👉 জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করা রোজার বড় শিক্ষা।
১০. রাগ নিয়ন্ত্রণ করা
রোজা মানুষকে ধৈর্যশীল হতে শেখায়।
👉 কেউ রাগ করালে চুপ থাকা
👉 ঝগড়া এড়িয়ে চলা
👉 নিজেকে শান্ত রাখা
এগুলো রমজানের বড় আমল।
১১. দান-সদকা করা
রমজানে দানের সওয়াব অনেক বেশি।
👉 গরিবকে খাবার দেওয়া
👉 ইফতার করানো
👉 সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করা
সবই আল্লাহর কাছে প্রিয়।
১২. যাকাত ও ফিতরা আদায় করা
যাদের ওপর যাকাত ফরজ, তারা যেন ঠিকভাবে যাকাত দেন।
👉 ফিতরা ঈদের আগে আদায় করা জরুরি।
👉 এটি গরিবদের অধিকার।
১৩. তওবা করা
প্রতিদিন নিজের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
👉 সত্যিকার অনুশোচনা
👉 ভবিষ্যতে গুনাহ না করার নিয়ত
এটাই হলো খাঁটি তওবা।
১৪. পরিবারকে ইবাদতে উৎসাহ দেওয়া
রমজান শুধু একার জন্য নয়।
👉 পরিবারের সবাইকে নামাজে উৎসাহ দেওয়া
👉 একসঙ্গে দোয়া করা
👉 কোরআন পড়ার পরিবেশ তৈরি করা
এগুলো সওয়াবের কাজ।
১৫. সন্তানদের রমজানের শিক্ষা দেওয়া
শিশুদের বোঝাতে হবে—
👉 রোজার মানে কী?
👉 কেন সংযম দরকার?
👉 কেন গরিবদের সাহায্য করতে হয়
ছোটবেলা থেকেই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
১৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক ভালো রাখা
রমজানে ঝগড়া, মনোমালিন্য দূর করা উচিত।
👉 ক্ষমা করা
👉 সম্পর্ক জোড়া লাগানো
এতে আল্লাহ খুশি হন।
১৭. শেষ দশকে ইবাদত বাড়ানো
রমজানের শেষ দশক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
👉 এই সময় গুনাহ মাফের ঘোষণা আসে
👉 জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়
তাই ইবাদত বাড়ানো দরকার।
১৮. লাইলাতুল কদর খোঁজা
লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
👉 শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে
👉 বেশি নামাজ, দোয়া ও কোরআন
এই রাত নষ্ট করা উচিত নয়।
১৯. ইতিকাফ করা (সম্ভব হলে)
যাদের সুযোগ আছে, তারা শেষ দশকে ইতিকাফে বসতে পারেন।
👉 এটি আত্মশুদ্ধির বড় সুযোগ
👉 দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে দূরে থাকার সময়
২০. রমজানের শিক্ষা সারা বছর ধরে রাখা
রমজান শেষ হলেই যেন সব ভুলে না যাই।
👉 নামাজ চালু রাখা
👉 হারাম থেকে বেঁচে থাকা
👉 ভালো কাজের অভ্যাস ধরে রাখা
এটাই রমজানের আসল সফলতা।
>>> রমজান আসে খুব অল্প সময়ের জন্য, কিন্তু এর শিক্ষা সারা জীবনের জন্য। এই মাসে যদি আমরা নিজেদের বদলাতে না পারি, তাহলে সেটা বড় ক্ষতি।
আসুন, এই রমজানের ২০টি জরুরি আমল আন্তরিকভাবে পালন করি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করি।
আরটিভি/এমএইচজে





