ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

গোপনে নেক কাজই কি বিপদ থেকে বাঁচায়? 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

লোকচক্ষুর আড়ালে করা নেক কাজ বা গোপন ইবাদত ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিভৃতে করা ভালো কাজ মানুষের ঈমানকে শক্তিশালী করে এবং বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার মাধ্যম হতে পারে।

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, গোপন ইবাদতের মধ্যে রয়েছে রাতের নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, চোখের আড়ালে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং নীরবে জিকির করা। এছাড়া অভাবগ্রস্তকে গোপনে সাহায্য করা, নফল রোজা রাখা এবং কারো বিপদে নীরবে সহায়তা করাও অন্যতম নেক আমল হিসেবে গণ্য করা হয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, “তোমরা তোমাদের রবকে ডাকো বিনীতভাবে ও চুপে চুপে” (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৫৫)। একইভাবে অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, যারা গোপনে ও প্রকাশ্যে দান করে তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৭৪)।

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, গোপন আমল মানুষের ইখলাস বা আন্তরিকতা বৃদ্ধি করে এবং আল্লাহর নিকট কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও বলেছেন, ইহসান (কোনো কাজ সর্বোত্তম উপায়ে সম্পাদন করা) হলো এমনভাবে ইবাদত করা যেন আল্লাহকে দেখা যাচ্ছে, আর যদি না দেখা যায় তবে বিশ্বাস রাখা যে তিনি দেখছেন।

ইতিহাসে গোপন নেক কাজের বহু উদাহরণ পাওয়া যায়। আগের যুগের এক ঘটনা অনুযায়ী, গুহায় আটকে পড়া তিন ব্যক্তি তাদের নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করলে তারা মুক্তি পায়। আর হযরত ইউনুস (আ.)-ও অন্ধকার সমুদ্রের পেটে আল্লাহকে ডেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন।

প্রসিদ্ধ আলেম ইমাম মাওয়ার্দির ক্ষেত্রেও গোপন আমলের একটি ঘটনা বর্ণিত আছে। জীবদ্দশায় তিনি নিজের রচনাগুলো গোপন রাখতেন এবং মৃত্যুর আগে আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন।

অন্যদিকে আলী বিন হুসাইন (রহ.) সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি রাতে অজান্তে দরিদ্র ও বিধবাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দিতেন। তার মৃত্যুর পরই মানুষ জানতে পারে, বহু বছর ধরে শহরে যে গোপন দান চলছিল, সেটি ছিল তারই অবদান।

ইসলামী স্কলাররা বলছেন, গোপন নেক আমল মানুষের চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তাই লোক দেখানো নয়, বরং নিভৃতে ভালো কাজ করাই ইসলামে অধিক পছন্দনীয় হিসেবে বিবেচিত।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?
স্বামী স্ত্রীকে ‘বোন’ কিংবা স্ত্রী স্বামীকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করলে কি বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটে? এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই রয়েছে।
স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হলো নামাজ। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। সে কারণে নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা জরুরি।
আজকের নামাজের সময়সূচি
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে রয়েছে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা।
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
কালেমার পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নামাজ। নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ৮২ বার বলা হয়েছে। তাই দৈনিক  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে এলো সে বিষয়ে জানবো।
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে ছোট ছোট কিছু নেক আমল। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজও হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
আরও পড়ুন
রমজানে যে গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো পালন করবেন