কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা কেবল পশু জবাই নয় বরং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের প্রতীক। ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী, কোরবানির মূল বিষয় হলো বিশুদ্ধ নিয়ত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। বাহ্যিক চাকচিক্য বা দামের বড়ত্ব নয়, বরং তাকওয়াই এখানে মূল বিবেচ্য।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে পশুর রক্ত বা গোশত পৌঁছে না, বরং পৌঁছে মানুষের তাকওয়া। অর্থাৎ কোরবানির আসল উদ্দেশ্য প্রদর্শনী নয়, বরং হৃদয়ের বিশুদ্ধতা।
নিয়তের ওপরই নির্ভর করে কোরবানি
হাদিস অনুযায়ী, প্রতিটি কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। কোরবানির পশু কেনা, লালন-পালন ও জবাই—সবকিছুতেই যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য না থাকে, তবে তা মূল্যহীন হয়ে যেতে পারে।
মানুষের প্রশংসা বা সামাজিক প্রতিযোগিতা অনেক সময় অজান্তেই নিয়তকে নষ্ট করে দিতে পারে। যা কোরবানির মূল উদ্দেশ্যের জন্য বড় ঝুঁকি।
ভাইরাল পশুর প্রবণতা নিয়ে সতর্কতা
বর্তমানে কোরবানির সময় সামাজিক মাধ্যমে বড় আকৃতির, দামী বা আলোচিত পশু নিয়ে ব্যাপক প্রচার দেখা যায়। এসব পশু অনেক সময় ভাইরাল হয়ে যায়, যা মানুষের আগ্রহ বাড়ায় এবং ক্রেতাকেও আলোচনায় নিয়ে আসে। কিন্তু এতে ইবাদতের মধ্যে আত্মপ্রদর্শনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ইসলামী দৃষ্টিতে এটিকে রিয়া বলা হয়। অর্থাৎ লোক দেখানোর প্রবণতা, যা ইবাদতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
রিয়া নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা
হাদিসে রিয়াকে ছোট শিরক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি এমন একটি বিষয়, যা ইবাদতের সওয়াব নষ্ট করে দিতে পারে। তাই কোরবানির ক্ষেত্রে নিয়তের বিশুদ্ধতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দামী পশু কেনা কি নিষিদ্ধ
ইসলাম কখনো সামর্থ্যের মধ্যে ভালো ও সুন্দর পশু কোরবানি করতে নিষেধ করেনি। বরং ভালো জিনিস আল্লাহর পথে দেওয়া প্রশংসনীয়। সমস্যা তখনই হয়, যখন এর পেছনে উদ্দেশ্য হয়ে যায় মানুষের প্রশংসা বা প্রদর্শনী।
মূল শিক্ষা
শরিয়তের মূল মানদণ্ড হলো নিয়ত। কেউ যদি সত্যিই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কেনেন, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু যদি উদ্দেশ্য হয় আলোচনায় আসা বা প্রদর্শনী, তবে ইবাদতের সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।
কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো—আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠভাবে ত্যাগ করা, কোনো ধরনের প্রদর্শনী বা প্রতিযোগিতা নয়।
আরটিভি/জেএমএ



