সব স্বপ্নের মধ্যেই কোনো না কোনো অর্থ লুকিয়ে থাকে বলে মানুষের বিশ্বাস। ঘুমন্ত অবস্থায় অবচেতন মনের ভাবনাচিন্তা, ভয় বা অবদমিত ইচ্ছার প্রতিফলনই হলো স্বপ্ন। তবে স্বপ্নে মানুষ অনেক সময়ই এমন কিছু দেখে, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল থাকে না বললেই চলে। ইসলামি চিন্তাবিদ ও হাদিস বিশারদদের মতে, স্বপ্নের যেমন বিভিন্ন ধরন রয়েছে, তেমনি কিছু স্বপ্নের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যাও রয়েছে।
বিখ্যাত হাদিস বিশারদ হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, ‘মানুষ যত স্বপ্ন দেখে তা মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে—সত্য স্বপ্ন ও অসত্য স্বপ্ন। সত্য স্বপ্ন হলো সাধারণত নবী-রাসুল ও তাদের অনুসারী নেককার বা পুণ্যবান লোকদের স্বপ্ন। অন্যদিকে দ্বিতীয় প্রকার স্বপ্ন হলো মিশ্র ধরনের মিথ্যা বা অর্থহীন স্বপ্ন, যা অনেক সময় মানুষকে কোনো ব্যাপারে সতর্ক করে।’
ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.)-এর মতে, কিছু স্বপ্ন কেবলই শয়তানের খেলা, যা দিয়ে সে মানুষকে মানসিকভাবে ভারাক্রান্ত ও ভীত করে তোলে। যেমন কেউ স্বপ্নে দেখল যে তার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে এবং সে সেই কাটা মাথার পেছনে দৌড়াচ্ছে; অথবা সে এমন কোনো বড় সংকটে পড়েছে যা থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য কোনো সাহায্যকারী পাচ্ছে না। কিংবা সে দেখল যে, কোনো ফেরেশতা তাকে অবাস্তব বা কোনো হারাম কাজ করতে বলছে। এগুলো মূলত অর্থহীন স্বপ্ন এবং এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
ইসলামি ইতিহাসে স্বপ্নের বিখ্যাত ব্যাখ্যাদাতা ও বিশারদ ইমাম ইবনে সিরিন (রহ.) তার ‘তাফসিরুল আহলাম’ গ্রন্থে স্বপ্নের বিভিন্ন বিষয়ের চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এর মধ্যে স্বপ্নে সাপ দেখার বিষয়ে তিনি বিশেষ আলোকপাত করেছেন।
ইবনে সিরিন (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি কেউ স্বপ্নে দেখে যে একটি সাপ তার পিছু পিছু ছুটছে, তাহলে এর অর্থ হলো—বাস্তব জীবনে ওই ব্যক্তির শত্রুরা তার ক্ষতি করার বা তার বিরুদ্ধে শত্রুতা করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।
অন্যদিকে, যদি কেউ দেখে যে সাপ তার হাতের সামনে বা তার আশপাশে অনবরত ঘুরঘুর করছে, তবে এর অর্থ আরও বেশি সতর্কতামূলক। ইসলামি এই পণ্ডিতের মতে, এর অর্থ হলো—ওই ব্যক্তির শত্রুরা তার একেবারেই কাছাকাছি অবস্থান করছে। অর্থাৎ, শত্রু অন্য কেউ নয়, বরং তার নিজের ঘনিষ্ঠজন বা বন্ধুদের মধ্যেই কেউ লুকিয়ে রয়েছে, যে ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজছে।
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, ক্ষতিকর বা ভীতিজনক কোনো স্বপ্ন দেখলে বিচলিত না হয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত এবং এ ধরনের স্বপ্ন অন্য কারও কাছে প্রকাশ না করাই শ্রেয়।
আরটিভি/এআর




