বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা আত্মীয়স্বজন বা প্রতিনিধির মাধ্যমে দেশে কোরবানি দিতে পারবেন। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানিদাতা ও কোরবানির পশু একই স্থানে থাকা জরুরি নয়। ফলে প্রবাসীরা বিদেশে থেকেও নিজ দেশে কোরবানি আদায় করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ইসলামি বিশেষজ্ঞরা।
ইসলামে সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য কোরবানি ওয়াজিব। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিম যদি ঈদুল আজহার সময় জাকাত পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক হয়।
ধর্মীয় আলেমদের মতে, কোরবানিদাতা যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখানেই কোরবানি করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। তার নির্দেশে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে কোরবানি করা হলে তা আদায় হয়ে যাবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক আল-কাউসারে প্রকাশিত এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, প্রবাসীরা বিদেশে অবস্থান করে নিজ দেশে কোরবানি দিতে পারবেন এবং এতে তাদের কোরবানি আদায় হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে কোরবানির সময় নির্ধারণে কোরবানিদাতার অবস্থান নয়, বরং যেখানে পশু জবাই করা হবে সেই এলাকার সময় ধর্তব্য হবে।
ফতোয়াটিতে ফাতাওয়া খানিয়া (৩/৩৪৫) ও ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/২৯৬)-এর উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, কোরবানিদাতা এক স্থানে এবং পশু অন্য স্থানে থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। পশু যে এলাকায় রয়েছে, সেখানে ঈদের জামাত সম্পন্ন হওয়ার পর কোরবানি করা যাবে। কোরবানিদাতার নিজ এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় হয়েছে কি না, তা এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য নয়।
ধর্মীয়ভাবে কোরবানির মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাকওয়া প্রকাশ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। (সুরা হজ: ৩৭)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, বলুন, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও মরণ বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। (সুরা আনআম: ১৬২)
আলেমরা বলেন, লোক দেখানো বা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কোরবানি করা উচিত।
আরটিভি/এসকে




