ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আশুরা নিয়ে প্রচলিত যত ভুল ধারণা

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

মহররম মাসের ১০ তারিখ অর্থাৎ পবিত্র আশুরার দিন। ইসলামে এই দিনের বিশেষ তাৎপর্য থাকলেও, সমাজে অনেক ভিত্তিহীন বিশ্বাস ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। এর বড় একটি অংশের সঙ্গে কোরআন বা বিশুদ্ধ হাদিসের কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত সামাজিক রীতি এবং বংশপরম্পরায় চলে আসা এসব ভুল ধারণার ভিড়ে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে আশুরার মূল শিক্ষা।

আশুরার গুরুত্ব ও রোজার প্রেক্ষাপট

ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, মহররমের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ ফেরাউনের অত্যাচার থেকে হজরত মুসা (আ.) এবং বনী ইসরাইলকে মুক্তি দিয়েছিলেন। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর দেখতে পান যে, ওখানকার ইহুদি সম্প্রদায় এই দিনে রোজা রাখছে। কারণ জানতে পেরে আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে আমাদের অধিকার তাদের চেয়ে বেশি। এরপর তিনি মুসলমানদের এই দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দেন।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে রমজান মাস এবং আশুরার দিন ছাড়া অন্য কোনো দিনের রোজার ফজিলত পাওয়ার জন্য এতটা উন্মুখ হতে দেখিনি। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা আবশ্যক ছিল। পরবর্তীতে তা ঐচ্ছিক বা নফল ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। তবে এর সওয়াব অনেক বেশি; এই একটি রোজার বিনিময়ে মহান আল্লাহ বান্দার বিগত এক বছরের ছোট গুনাহ মাফ করে দেন।

আরও পড়ুন

ভিত্তিহীন যত সামাজিক বিশ্বাস

আশুরার দিনটিকে কেন্দ্র করে এমন কিছু বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে, যা ইসলামের চার ইমাম বা কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম সমর্থন করেননি। এগুলোর কোনো শক্ত প্রমাণ ইসলামী গ্রন্থে নেই। যেমন:

  • এই দিনে হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল— এমন দাবির সপক্ষে কোনো সহিহ হাদিস নেই।
  • এই দিনে হযরত ইব্রাহিম (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন— এই তথ্যটিরও কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায় না।
  • আশুরার দিনে গোসল করলে সারা বছর রোগবালাই থেকে দূরে থাকা যায়— এটি সম্পূর্ণ একটি লোকজ বিশ্বাস, যার কোনো ধর্মীয় ভিত্তি নেই।
  • এই দিনে চোখে সুরমা দিলে চোখের জ্যোতি বাড়ে বা রোগ হয় না— এ ধারণার সপক্ষেও কোনো বিশুদ্ধ বর্ণনা নেই।
  • বিশেষ খাবারের আয়োজন— আশুরার দিনে নির্দিষ্ট কোনো খাবার বা খিচুড়ি রান্না করে বিতরণ করার বিশেষ কোনো ধর্মীয় নির্দেশ ইসলামে নেই। স্বাভাবিকভাবে পরিবারের জন্য
  • ভালো খাবারের আয়োজন করায় বাধা নেই, তবে একে সওয়াবের কাজ বা ধর্মীয় অংশ মনে করা ভুল।
  • আশুরা কোনো অশুভ বা অপয়া দিন নয়— ইসলামে কোনো দিন বা ক্ষণকে অশুভ মনে করার সুযোগ নেই। প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি তাকি উসমানি জানান, কোনো দিন নিজে
  • থেকে ভালো বা মন্দ হয় না। আল্লাহ যাকে মর্যাদা দেন, কেবল সেটিই মর্যাদাবান।
  • ১০ই মহররম কেয়ামত হবে— এমন গুঞ্জনও ছড়ানো হয়, যার সপক্ষে কুরআন বা হাদিসের কোনো স্পষ্ট বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

আশুরা এবং কারবালা

মহররমের ১০ তারিখে মহানবী (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর সপরিবারে শাহাদাত বরণ ইসলামী ইতিহাসের অন্যতম এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। তবে আলেমরা স্পষ্ট করেছেন যে, কারবালার ঘটনার বহু আগে থেকেই আশুরার দিনটি পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ ছিল। আল্লাহ তায়ালা তার অসীম হেকমতে এই মর্যাদাবান দিনটিতেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৌহিত্রকে শাহাদাতের উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন। তাই আশুরার মূল আমল হলো আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও রোজা রাখা, কোনো ধরনের শোকের মাতম বা বুক চাপড়ানো নয়।

আশুরার সঠিক আমল

পবিত্র এই দিনে ইসলামসম্মত ও প্রমাণিত কাজগুলো অত্যন্ত সহজ:

  • মহররমের ৯ ও ১০ তারিখে (অথবা ১০ ও ১১ তারিখে) রোজা রাখা। ইহুদিদের সংস্কৃতির সঙ্গে যেন মিলে না যায়, সেজন্য আল্লাহর রাসূল (সা.) দুটি রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন।
  • বেশি বেশি আল্লাহর জিকির ও ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা।
  • সাধ্যমতো দান-সদকা করা।
  • হজরত মুসা (আ.)-এর মুক্তির ইতিহাস এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসের গল্প থেকে শিক্ষা নেওয়া।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অন্তরে প্রতিহিংসা জন্মালে ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে যে আমল করবেন
অন্যের সাফল্য, সম্পদ, সৌন্দর্য কিংবা সুখ দেখে কখনো নিজের মনে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
অন্তরে প্রতিহিংসা জন্মালে ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে যে আমল করবেন
জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় যা পড়বেন 
জুমার দিন মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। এ দিনের দোয়া কবুলের বিশেষ সময়কে কাজে লাগাতে অনেকেই বিভিন্ন দোয়া ও ইস্তিগফার পড়েন।
জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় যা পড়বেন 
আজকের নামাজের সময়সূচি
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা ব্যস্ততায় কাটে আমাদের প্রতিটি দিন। কাজ, পরিবার, পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেক সময় আত্মিক প্রশান্তির কথা ভুলে যাই।
আজকের নামাজের সময়সূচি
নামের আগে শায়খ কেন কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ
নিজের নামের আগে শায়খ কেন ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়ে খোলামেলা ব্যাখ্যা দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি তিনি  এই বহুল আলোচিত সম্মানসূচক শব্দের প্রকৃত তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি। আলাপচারিতার একপর্যায়ে সাংবাদিক জানতে চান যে সাধারণত দেশে ইসলামী স্কলারদের নামের পূর্বে মুফতি বা মাওলানা জাতীয় পরিচিতি দেখা গেলেও তার নামের শুরুতে ‘শায়খ’ যুক্ত হওয়ার কারণ কী। জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, শায়খ আসলে সম্মানসূচক একটি ভূষণ। আমরা যেরকম ‘জনাব’, ‘শ্রদ্ধেয়’—এ ধরনের শব্দ দিয়ে মানুষকে সম্মানিত করার চেষ্টা করি, শায়খও অনেকটা তেমন। শায়খ শব্দটি মূলত সিনিয়রিটি বোঝায়। আরব বিশ্বে এটি খুব পরিচিত একটি সম্বোধন বা টাইটেল বলা যেতে পারে। সেখানে আলেম-ওলামাসহ সর্বস্তরের মানুষ পরস্পরকে সম্মান করে শায়খ বলে সম্বোধন করেন। আলেমদের ক্ষেত্রে এটি একটু বেশি ব্যবহৃত হয়। তিনি নিজের প্রবাস জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সৌদি আরবে তিনি প্রায় ১০ বছর অবস্থান করেছিলেন। সেখানে দেশটির ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাভাষী প্রবাসীদের ধর্মীয় নানা বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। কোনো প্রবাসী আইনি জটিলতা বা মামলায় জড়িয়ে পড়লে কখনো কখনো স্থানীয় আদালতের বিচারকদের সাথে দোভাষীর দায়িত্বও পালন করতে হতো তাকে। সেখানে বাংলা ভাষাভাষীরাও ‘শায়খ’ শব্দটি বলতে অভ্যস্ত। মূলত সেখান থেকেই ‘শায়খ’ শব্দটি আমার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। বিষয়টি এমন নয় যে এটি কোনো অর্জনের টাইটেল, তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি বিশেষ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা আনুষ্ঠানিক অর্জনের মাধ্যমে পাওয়া কোনো উপাধি নয়। মুফতিদের ক্ষেত্রে যেমন নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা দায়িত্বের বিষয় আছে, এটি তেমন নয়। আমাদের দেশে যেমন মাওলানা বা হুজুর বলে সম্বোধন করা হয়, সেখানে শায়খ বলে সম্বোধন করা হয়। আরটিভি/টিআর
নামের আগে শায়খ কেন কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ
কবর জিয়ারত ও সালাম দিলে মৃতরা কি টের পান?
মৃত্যু অবধারিত। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। প্রিয়জনের মৃত্যুতে স্বজনরা যেমন শোকাহত হন, তেমনি অনেকেই কবর জিয়ারত করতে গিয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও সালাম করেন।
কবর জিয়ারত ও সালাম দিলে মৃতরা কি টের পান?
আরও পড়ুন
দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন
ইবাদতে মশগুল থেকে দিনটি পালনের পরামর্শ
আশুরার রোজা একদিন রাখা যায় না কেন?
পবিত্র আশুরার রোজা ও মহররমের ফজিলতপূর্ণ আমল