আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) এর প্রতি ঈমান আনার পর ইসলামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক মুসলমানের ওপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে যথাযথভাবে নামাজ আদায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর নিশ্চয় তা বিনয়ীরা ছাড়া অন্যদের ওপর কঠিন। (সুরা আল-বাকারা: ৪৫)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত আদায় করো এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো। (সুরা আল-বাকারা: ৪৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল এ সাক্ষ্য দেওয়া, নামাজ কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, হজ পালন করা এবং রমজানের রোজা রাখা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮)
এ ছাড়া কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে বলেও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, যা ইসলামে নামাজের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।
পা দিয়ে জায়নামাজ সোজা করলে কি গুনাহ হবে?
নামাজের আগে অনেকেই পা দিয়ে জায়নামাজ বা নামাজের বিছানা সোজা করে নেন। এ নিয়ে অনেকের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে, পা দিয়ে জায়নামাজ ঠিক করলে গুনাহ হয়। তবে ইসলামী শরিয়তে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জায়নামাজ মূলত একটি কাপড় বা কার্পেটের টুকরা। এটি শুধু হাত দিয়েই সোজা করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা ইসলামে নেই। তাই পা দিয়ে জায়নামাজ সোজা করা বা মেলে নেওয়ায় গুনাহ হয় না।
তবে যদি জায়নামাজে কাবা শরিফ, মসজিদ বা ইসলামের কোনো পবিত্র প্রতীক অঙ্কিত থাকে, তাহলে সম্মান প্রদর্শনের স্বার্থে পা দিয়ে সেটি নাড়াচাড়া না করাই উত্তম।
ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে পা দিয়ে জায়নামাজ সোজা করলে গুনাহ হয় না। তবে ধর্মীয় প্রতীক বা পবিত্র চিত্রযুক্ত জায়নামাজের ক্ষেত্রে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। ইসলামে মূল বিষয় হলো আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা, নামাজে একাগ্রতা এবং ইবাদতের আদব রক্ষা করা।
আরটিভি/এসকে




